এবারই ছিল মানস সরোবর-কৈলাস যাওয়ার ‘শেষ সুযোগ’, ভোটেকোশি নদীর জলোচ্ছ্বাসে ভেস্তে গেল যাত্রা; অঞ্জনা সান্যালের কথায়, “আবার যাব, প্রয়োজনে হেলিকপ্টারে”
কলকাতা : নেপালের ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের সাক্ষী হয়ে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এলেন উত্তরপাড়ার অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষিকা অঞ্জনা সান্যাল। ৬৯ বছর বয়সি অঞ্জনা সান্যাল কলকাতার একটি ভ্রমণ সংস্থার সঙ্গে নেপাল গিয়েছিলেন কৈলাস-মানস সরোবর যাত্রার উদ্দেশ্যে। কিন্তু ভোটেকোশি নদীতে আচমকা হড়পা বান ও জলোচ্ছ্বাসের কারণে শেষ পর্যন্ত পূরণ হল না তাঁর বহুদিনের স্বপ্ন।
তবে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসেও ভেঙে পড়েননি অঞ্জনা দেবী। বরং তাঁর কথায়, আবারও কৈলাসে যাওয়ার ইচ্ছা রয়েছে। বয়স তখন ৭০ পেরিয়ে গেলেও প্রয়োজনে হেলিকপ্টারে করে মানস সরোবরে যাবেন তিনি। কৈলাসের পবিত্র জল তুলে মাথায় দেওয়ার ইচ্ছা এখনও তাঁর অটুট। অঞ্জনা সান্যালের বিশ্বাস, কৈলাসে যিনি অধিষ্ঠান করছেন, তাঁর আশীর্বাদেই নতুন জীবন ফিরে পেয়েছেন তিনি।
কলকাতার একটি ভ্রমণ সংস্থার সঙ্গে মোট ১৭ জনের একটি দল নেপালে গিয়েছিল। ২৬ তারিখ কাঠমান্ডু থেকে বাসে করে তাঁরা চিনা ইমিগ্রেশন দফতরের দিকে রওনা দেন। পথে কিছুটা বিশ্রাম নেওয়ার জন্য একটি জায়গায় বাস থামানো হয়। দলের কয়েকজন চা খেতে নামেন। প্রায় ১০ মিনিট পর ফের যাত্রা শুরু হওয়ার কথা। কিন্তু সেই সময়ই বাসচালকের কাছে খবর আসে, সামনে ভোটেকোশি নদীতে ভয়াবহ হড়পা বান এসেছে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝতে পেরে আর ঝুঁকি নেননি চালক। দ্রুত বাস ঘুরিয়ে দেওয়া হয় কাঠমান্ডুর দিকে। ফলে বড়সড় বিপদ থেকে অল্পের জন্য রক্ষা পান অঞ্জনা-সহ ১৭ জনের দল।
অঞ্জনা সান্যালের বেড়ানোর অভ্যাস দীর্ঘদিনের। অবসর নেওয়ার পরেও দেশ-বিদেশের বিভিন্ন প্রান্তে ঘুরে বেড়িয়েছেন তিনি। কলকাতার তিনটি ভ্রমণ সংস্থার সঙ্গে নিয়মিত বিভিন্ন জায়গায় ভ্রমণ করেন এই প্রাক্তন শিক্ষিকা। কিন্তু নেপালের এবারের অভিজ্ঞতা তাঁর কাছে সম্পূর্ণ ভিন্ন, ভয়াবহ এবং একইসঙ্গে জীবনকে নতুন করে দেখার মতো।
অঞ্জনা দেবীর কথায়, এবারই হয়তো ছিল কৈলাস-মানস সরোবর যাওয়ার শেষ সুযোগ। সেই স্বপ্ন হড়পা বানের কারণে পূরণ না হলেও তাঁর মনোবল হারায়নি। বরং মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসে তাঁর একটাই সংকল্প, সুযোগ পেলেই আবার কৈলাসে যাবেন। প্রয়োজনে হেলিকপ্টারে করেই যাবেন। মানস সরোবরের জল মাথায় দেওয়ার স্বপ্ন তিনি পূরণ করেই ফিরতে চান।

