আমেরিকার ফেড চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ার্শের কড়া মনোভাবের বক্তৃতার পর বিশ্ব জুড়ে সরকারি বন্ডের সুদের হার (ইল্ড) পৌঁছেছে বহু বছরের সর্বোচ্চ স্তরে। রয়টার্স নিজেই এই পরিস্থিতিকে বলছে ‘সেপ্টেম্বরের ঝড়’। তার জেরে ওয়াল স্ট্রিট থেকে টোকিও, সর্বত্রই শেয়ার বাজারে পড়েছে চাপ। আমজনতার জন্য সহজ ভাষায় বোঝানো হল, আসলে কী ঘটছে, কেন ঘটছে, আর কতদিন এই পরিস্থিতি চলতে পারে।
কলকাতা, ২ সেপ্টেম্বর: সেপ্টেম্বরের প্রথম কাজের দিনেই ধাক্কা খেল মার্কিন শেয়ার বাজার। মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, বিশ্ব জুড়ে সরকারি বন্ডের ইল্ড ফের এক দফা বাড়ায় বিনিয়োগকারীদের মনে অস্থিরতা তৈরি হয়। গত শুক্রবার, ২৮ অগস্ট, ফেড চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ার্শের জ্যাকসন হোল বক্তৃতার পর থেকেই এই টালমাটাল পরিস্থিতির সূত্রপাত, আর সপ্তাহের শুরুতেও তার রেশ কমার লক্ষণ নেই।
পতনের সংখ্যা-তথ্য
- ডাও জোন্স সূচক পড়েছে ৪৩১.৭৮ পয়েন্ট বা ০.৮১ শতাংশ, বন্ধ হয়েছে ৫২,৭৫৪.১৩ পয়েন্টে
- এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক পড়েছে ৫২.৮৮ পয়েন্ট বা ০.৬৯ শতাংশ, বন্ধ হয়েছে ৭,৬৩৩.২৬ পয়েন্টে
- প্রযুক্তি-নির্ভর ন্যাসড্যাক কম্পোজ়িট সূচকের পতন সবচেয়ে বেশি, চিপ ও এআই-নির্ভর শেয়ারের ধাক্কায় পড়েছে ২৫৬.৯৩ পয়েন্ট বা ০.৯৭ শতাংশ, বন্ধ হয়েছে ২৬,১১৩.৭৭ পয়েন্টে
শুধু ওয়াল স্ট্রিট নয়, গোটা সপ্তাহ জুড়ে এশিয়া ও ইউরোপের বাজারও কার্যত টালমাটাল, কারণ বন্ড বাজারের এই অস্থিরতা এখন বিশ্বব্যাপী।
কেন বাড়ছে বন্ড ইল্ড ? পাঁচটি প্রধান কারণ
১. ফেড চেয়ারম্যানের অপ্রত্যাশিত কড়া অবস্থান: চেয়ারম্যান হিসেবে প্রথম জ্যাকসন হোল বক্তৃতায় কেভিন ওয়ার্শ ফেডের ২ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রার প্রতি নতুন করে দায়বদ্ধতা জানিয়েছেন। জুলাইয়ের পিসিই মূল্যবৃদ্ধির হার (৩.৭ শতাংশ) নিয়ে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং সাফ জানিয়েছেন, লক্ষ্যে পৌঁছতে এখনও অনেক কাজ বাকি। প্রয়োজনে সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনাও তিনি উড়িয়ে দেননি। বাজারের কাছে এটা কিছুটা অপ্রত্যাশিত, কারণ ট্রাম্প প্রশাসনের মনোনীত চেয়ারম্যান হিসেবে ধরে নেওয়া হয়েছিল, তিনি বরং সুদ কমানোর পক্ষেই থাকবেন। বক্তৃতার পরে ১৬ সেপ্টেম্বরের ফেড বৈঠকে সুদ বৃদ্ধির সম্ভাবনা বক্তৃতার আগের প্রায় ৩৫ শতাংশ থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৭-৬১ শতাংশে।
২. ‘বন্ড ভিজিল্যান্তি’ ও রাজকোষ ঘাটতির দুশ্চিন্তা: বিশ্বের বড় অর্থনীতিগুলিতে সরকারি ঋণ ও রাজকোষ ঘাটতি ক্রমশ বাড়ছে। বিনিয়োগকারীরা সরকারকে ঋণ দেওয়ার বিনিময়ে আগের তুলনায় বেশি সুদ দাবি করছেন, বাজারের পরিভাষায় যাকে বলা হয় ‘বন্ড ভিজিল্যান্তি’দের প্রত্যাবর্তন।
৩. ইরানের সঙ্গে সংঘাত ও তেলের দাম বৃদ্ধি: গত সপ্তাহান্তে, ২৯-৩০ অগস্ট, আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে ফের সংঘাত বেধেছে, ইরানের লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী। তার জেরে ব্রেন্ট ক্রুড অশোধিত তেলের দাম ব্যারেল-পিছু ৯৫ ডলারের উপরে উঠে গিয়েছে। তেলের দাম বাড়লে মূল্যবৃদ্ধি দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আশঙ্কাও বেড়ে যায়।
৪. জাপানের নিজস্ব সমস্যা: জাপানের ১০ বছর মেয়াদি সরকারি বন্ডের ইল্ড মঙ্গলবার পৌঁছেছে ৩ শতাংশে, যা ১৯৯৬ সালের পরে সর্বোচ্চ। দুর্বল ইয়েন ও আমদানি-নির্ভর মূল্যবৃদ্ধির জেরে ধারণা করা হচ্ছে, এ মাসেই সুদ বাড়াতে পারে ব্যাঙ্ক অফ জাপান। এর একটা বিশ্বব্যাপী প্রভাবও রয়েছে, জাপানি বিনিয়োগকারীরা যদি নিজের দেশেই বেশি টাকা রাখেন, বিদেশি বন্ডে, যেমন মার্কিন ট্রেজারিতে, তাঁদের লগ্নি কমে যায়, যা আরও এক দফা বিশ্বব্যাপী ইল্ড বাড়িয়ে দিতে পারে।
৫. ইউরোপের রাজনৈতিক ও রাজকোষ সংক্রান্ত অনিশ্চয়তা: ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশে বাজেট নিয়ে টানাপোড়েন এবং আসন্ন নির্বাচন বন্ড বাজারে বাড়তি উদ্বেগ তৈরি করছে, যা এই বিশ্বব্যাপী অস্থিরতাকে আরও জোরালো করে তুলেছে।
বিশ্ব জুড়ে বন্ড ইল্ডের ছবি (১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬)
| দেশ | ১০ বছরের বন্ড ইল্ড | তাৎপর্য |
|---|---|---|
| আমেরিকা | প্রায় ৪.৮০% | ২০২৫-এর জানুয়ারির পরে সর্বোচ্চ |
| ব্রিটেন | প্রায় ৫.২২-৫.২৫% | ২০০৮ সালের জুনের পরে সর্বোচ্চ |
| ফ্রান্স | প্রায় ৪.২১% | ২০০৮ সালের পরে সর্বোচ্চ |
| জার্মানি | প্রায় ৩.৩৪% | ২০১১ সালের পরে সর্বোচ্চ |
| জাপান | ৩.০০% | ১৯৯৬ সালের পরে সর্বোচ্চ |
| ভারত | প্রায় ৬.৯৮% | তুলনায় অনেকটাই স্থিতিশীল |
ব্লুমবার্গের বিশ্বব্যাপী সরকারি বন্ড সূচকের ইল্ড পৌঁছেছে ৩.৭২ শতাংশে, ২০০৮ সালের বিশ্বব্যাপী আর্থিক সঙ্কটের পরে সর্বোচ্চ।
বন্ড বনাম শেয়ার: সহজ ভাষায় বুঝে নেওয়া যাক
ধরা যাক, ব্যাঙ্কের ফিক্সড ডিপোজ়িটে (এফডি) হঠাৎ সুদের হার অনেকটা বেড়ে গেল। তা হলে ঝুঁকিপূর্ণ শেয়ারে টাকা রাখার বদলে অনেকেই নিরাপদ, বেশি সুদ দেওয়া এফডি-র দিকে ঝুঁকবেন। সরকারি বন্ডের ইল্ড বাড়লে বিশ্ব বাজারেও অনেকটা একই রকম ব্যাপার ঘটে ‘ঝুঁকিহীন’ ধরে নেওয়া সরকারি বন্ড বেশি রিটার্ন দিতে শুরু করলে শেয়ার বাজার থেকে কিছুটা টাকা সরে যায় বন্ডের দিকে।
এর পাশাপাশি আরও একটা প্রযুক্তিগত কারণ রয়েছে। কোনও সংস্থার শেয়ারের দাম আসলে সেই সংস্থার ভবিষ্যতের মুনাফাকে আজকের হিসেবে করা মূল্য। ইল্ড বাড়লে সেই ভবিষ্যতের মুনাফাকে আজকের হিসেবে কম মূল্য দেওয়া হয়, যাকে বলে ‘ডিসকাউন্টিং’। এই কারণেই সবচেয়ে বেশি ধাক্কা লাগে চড়া দামের প্রযুক্তি ও এআই-নির্ভর শেয়ারে এনভিডিয়া, এএমডি, ইন্টেল, ব্রডকমের মতো সংস্থার শেয়ারে সাম্প্রতিক পতন সবচেয়ে বেশি চোখে পড়েছে। এআই পরিকাঠামো তথা ডেটা সেন্টার তৈরির বিপুল খরচের অনেকটাই হচ্ছে ধার করা টাকায়, তাই সুদের হার বাড়লে সরাসরি সেই খরচও বেড়ে যায়। কিছু বিশ্লেষকের আশঙ্কা, বিগ টেক সংস্থাগুলির এআই সংক্রান্ত প্রতিশ্রুতির পুরোটা তাদের হিসেবের খাতায় স্পষ্ট ভাবে ধরা পড়ছে না, যা নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে বাজারে।
রয়টার্স কী বলছে: বিশেষজ্ঞ বিশ্লেষণ
রয়টার্সের নিজস্ব বাজার-বিশ্লেষণ কলাম ‘মর্নিং বিড’-এ সেপ্টেম্বরের শুরুর এই পরিস্থিতিকে বলা হয়েছে ‘সেপ্টেম্বরের ঝড়’। সংস্থার এডিটর-অ্যাট-লার্জ মাইক ডোলান জানিয়েছেন, ৩০ বছর মেয়াদি বন্ড নিয়ে যতটা চর্চা হচ্ছে, সাধারণ মানুষের উপরে আসলে সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলে ১০ বছর মেয়াদি বন্ডের ইল্ড, কারণ এটাই সরাসরি প্রভাব ফেলে গৃহঋণ তথা মর্টগেজ ও অন্যান্য ঋণের সুদের হারে।
‘মর্নিং বিড’-এর অন্য একটি বিশ্লেষণে ‘বন্ড ভিজিল্যান্তি’দের প্রসঙ্গ টেনে বলা হয়েছে, জাপানের নিজস্ব বন্ড সমস্যা বিশ্ব বন্ড বাজারে চাহিদার একটা বড় উৎসকে দুর্বল করে দিতে পারে, ঠিক যে সময়ে আমেরিকা ও ইউরোপ, দুই জায়গাতেই রাজকোষ ঘাটতি বাড়ছে।
রয়টার্সের বাইরেও ওয়াল স্ট্রিটের বিশেষজ্ঞরা মোটের উপরে সতর্ক অবস্থান নিচ্ছেন, তবে আতঙ্কিত নন –
- রস মেফিল্ড, বেয়ার্ড ইনভেস্টমেন্ট স্ট্র্যাটেজিস্ট: তাঁর মতে, বন্ড বাজারের বড়সড় ওঠাপড়া হজম করতে শেয়ার বাজারকে সব সময়েই লড়াই করতে হয়, আর এই প্রবণতা আপাতত এবং দীর্ঘ মেয়াদে, দুই ক্ষেত্রেই চলতে থাকবে।
- এডওয়ার্ড জোনস রিসার্চ: তাদের ধারণা, বছরের বাকি সময়ে ১০ বছরের ইল্ড ৪.৫-৫.০ শতাংশের মধ্যেই থাকবে। শক্তিশালী কর্পোরেট মুনাফার কথা মাথায় রেখে তারা মনে করে না যে এতে শেয়ার বাজারের সামগ্রিক ভবিষ্যৎ প্রভাবিত হবে, যদিও ইল্ড দ্রুত এই সীমার উপরের দিকে চলে গেলে বাজারের মনোভাবে বাড়তি চাপ পড়তে পারে বলেও তারা সতর্ক করেছে।
- ব্ল্যাকরক ইনভেস্টমেন্ট ইনস্টিটিউট: তাদের মতে, উঁচু ইল্ড দীর্ঘ সময় ধরে থাকাটা এখন কাঠামোগত বিষয়, ২০২১ সাল থেকে চলতে থাকা বিশ্বব্যাপী বন্ড বাজারের বদলেরই অংশ, যার পিছনে রয়েছে ক্রমাগত মূল্যবৃদ্ধি, সরকারি ঋণ বৃদ্ধি ও এআই-সংক্রান্ত বিনিয়োগের চাহিদা। তা সত্ত্বেও শেয়ার বাজার নিয়ে, বিশেষত এআই পরিকাঠামো সংক্রান্ত শেয়ারে, তারা এখনও ইতিবাচক।
- ডয়চে ব্যাঙ্ক: জ্যাকসন হোলের কড়া বার্তা যদি বাস্তবায়িত হয়, তা হলে চলতি বছরে সেপ্টেম্বর ও ডিসেম্বর, দুই দফায় মিলিয়ে মোট ১ শতাংশ পর্যন্ত সুদ বৃদ্ধির সম্ভাবনা দেখছে তারা।
ভারতের বাজারে এর প্রভাব কতটা
আমেরিকার তুলনায় ভারতের বাজার এখনও পর্যন্ত অনেকটাই স্থিতিশীল থেকেছে। ১ সেপ্টেম্বর সেনসেক্স মাত্র ১২.৯৯ পয়েন্ট বা ০.০২ শতাংশ পড়ে বন্ধ হয়েছে ৭৬,৯৪৪.২৮ পয়েন্টে, নিফটি ৫০ পড়েছে ২৪.৬০ পয়েন্ট বা ০.১০ শতাংশ, বন্ধ হয়েছে ২৪,০৫৫.৮০ পয়েন্টে, আমেরিকার প্রায় ১ শতাংশ পতনের তুলনায় যা অনেকটাই কম। দেশের শক্তিশালী জিডিপি পরিসংখ্যান এই ধাক্কা অনেকটাই সামলে দিয়েছে।
তবু চাপের ছাপ স্পষ্ট। ফার্মা, ব্যাঙ্কিং, অটো ও রিয়েলটি শেয়ারে পতন হয়েছে, বিনিয়োগকারীরা তুলনায় নিরাপদ আইটি ও এফএমসিজি শেয়ারের দিকে ঝুঁকেছেন। ভারতের নিজস্ব ১০ বছরের সরকারি বন্ডের ইল্ডও সামান্য বেড়ে হয়েছে প্রায় ৬.৯৮ শতাংশ। বিশ্ব বাজারে অশোধিত তেলের দাম বাড়া ভারতের পক্ষে বিশেষ ভাবে চিন্তার বিষয়, কারণ ভারত তেল আমদানির উপরে অনেকটাই নির্ভরশীল, তেলের দাম বাড়লে বাণিজ্য ঘাটতি ও মূল্যবৃদ্ধি, দুই-ই বাড়ার আশঙ্কা থাকে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ে আমজনতার পকেটে।
কতদিন চলবে এই পরিস্থিতি? নজর রাখতে হবে যে দিকে
এই পরিস্থিতি ঠিক কবে মিটবে, তার কোনও একক নির্দিষ্ট তারিখ নেই। তবে আগামী কয়েক সপ্তাহে কয়েকটি ঘটনা পরিস্থিতিকে অনেকটাই ঠিক করে দেবে –
- ১৫-১৬ সেপ্টেম্বর, ফেডের পরবর্তী নীতি বৈঠক: সুদ বৃদ্ধির সম্ভাবনা বাজার এখন ধরছে প্রায় ৫৭-৬১ শতাংশ। এই সিদ্ধান্ত, আর তার পরে কেভিন ওয়ার্শের সাংবাদিক বৈঠক, আগামী কয়েক সপ্তাহে বন্ড ইল্ড ও শেয়ার বাজারের সবচেয়ে বড় নিয়ন্ত্রক হয়ে উঠবে।
- ব্যাঙ্ক অফ জাপানের পরবর্তী পদক্ষেপ: দুর্বল ইয়েন ও আমদানি-নির্ভর মূল্যবৃদ্ধির জেরে এ মাসেই সুদ বৃদ্ধির সম্ভাবনা বাড়ছে, যার প্রভাব পড়বে গোটা বিশ্ব বন্ড বাজারেই।
- আমেরিকা-ইরান সংঘাত ও তেলের দামের গতিপ্রকৃতি: সংঘাত আরও বাড়লে জ্বালানির দাম ও মূল্যবৃদ্ধির উদ্বেগ আরও চড়তে পারে, আবার পরিস্থিতি শান্ত হলে খানিকটা স্বস্তিও মিলতে পারে।
- আমেরিকার মূল্যবৃদ্ধির পরিসংখ্যান কমে কি না: ওয়ার্শ নিজেই বার বার জানিয়েছেন, আগামী তথ্য-পরিসংখ্যানের উপরেই নির্ভর করবে ফেডের সিদ্ধান্ত। আগামী কয়েক সপ্তাহে মূল্যবৃদ্ধির হার কিছুটা কমলে সুদ বৃদ্ধির অঙ্কও দ্রুত বদলে যেতে পারে।
বেশির ভাগ পূর্বাভাসদাতাই মনে করছেন না যে পরিস্থিতি খুব তাড়াতাড়ি স্বাভাবিক হয়ে যাবে। ট্রেডিং ইকোনমিক্সের পূর্বাভাস অনুযায়ী, মার্কিন ১০ বছরের ইল্ড ধীরে ধীরে কমে চলতি ত্রৈমাসিকের শেষে দাঁড়াতে পারে প্রায় ৪.৭০ শতাংশে, আর এক বছরের মধ্যে প্রায় ৪.৪৮ শতাংশে। অন্য দিকে ব্ল্যাকরকের যুক্তি, উঁচু ইল্ড এখন দীর্ঘমেয়াদি বাস্তবতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আপাতত বিশেষজ্ঞদের বেশির ভাগেরই ধারণা, অন্তত সেপ্টেম্বরের ফেড বৈঠক পর্যন্ত বাজারে অস্থিরতা থাকবেই, ফেডের নীতি, ইরান সংঘাত ও মূল্যবৃদ্ধির পরিসংখ্যান, এই তিনটিই যে কোনও দিকে বাজারকে হঠাৎ নাড়িয়ে দিতে পারে।
বন্ড ইল্ড বাড়ছে, কারণ মূল্যবৃদ্ধি, তেলের চড়া দাম আর ফেড চেয়ারম্যানের কড়া অবস্থান, এই তিনটি বিষয়ই একসঙ্গে বিনিয়োগকারীদের সরকারকে ঋণ দেওয়ার বিনিময়ে বেশি সুদ দাবি করতে বাধ্য করছে। বন্ডের ইল্ড বাড়লে নিরাপদ সরকারি বন্ড তুলনায় বেশি আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে, আর এআই-এর মতো ধার-নির্ভর ক্ষেত্রের খরচও বেড়ে যায়, তাই শেয়ার বাজারে, বিশেষত প্রযুক্তি শেয়ারে, চাপ সবচেয়ে বেশি। ভারতের বাজার এখনও পর্যন্ত আমেরিকার তুলনায় অনেকটাই সামলে রেখেছে নিজেকে, কিন্তু একই বিশ্বব্যাপী শক্তিগুলি এখানেও সক্রিয়। পরবর্তী বড় সংকেত মিলবে ১৬ সেপ্টেম্বর, যে দিন ফেড তার সুদ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত জানাবে।
রয়টার্স, সিএনবিসি, ব্লুমবার্গ, বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড-সহ একাধিক সংবাদ ও তথ্যসূত্র অবলম্বনে এই প্রতিবেদন প্রস্তুত। এটি নিছকই তথ্যগত উদ্দেশ্যে তৈরি, কোনও বিনিয়োগের পরামর্শ নয়। বিনিয়োগ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে যোগ্য আর্থিক উপদেষ্টার পরামর্শ নেওয়াই বাঞ্ছনীয়।

