“High Court, take care of my children, if something happens to me “
ভয়ঙ্কর চিত্র উঠে এলো পশ্চিম বঙ্গের, মালদহ জেলার মোথাবাড়ি থেকে। হাইকোর্ট এর সাত বিচারপতি রাত সাড়ে দশটার সময় প্রাণ হাতে করে পালাচ্ছেন। ফোনে রেজিস্টার কে জানাচ্ছেন বাঁচার চরম আকুতি। পৃথিবীর বৃহত্তম গণতন্ত্রের দেশ ভারতবর্ষের একটি অঙ্গরাজ্যের চিত্র। বিশ্বমঞ্চে বৃহত্তম গণতন্ত্রের বড়াই করার সময়, পটভূমিতে উল্লেখ থাকবে কি পশ্চিম বঙ্গের এইসব ঘটনা ? বৃহত্তম গণতন্ত্রের গর্ব কিভাবে বাঙলার মানুষ অনুভব করবে ?
মনে করায় বানতলার ঘটনার কথা। এই ভাবেই কাঁদছিলো অভিজিৎ সরকারের মা, চোখের সামনে নিজের ছোট ছেলেকে দেখলো খুন হয়ে যেতে। অপরাধ বিরোধী রাজনৈতিক দল সমর্থক ছিল অভিজিৎ। কেবলমাত্র ২০২১ এর ভোটের সময় ৫৫ জন কর্মী খুন হয় ভারতীয় জনতা পার্টির। বাঙলার সাধারণ মা এর কোল খালি হয়েছে বিচার পায়নি কেউ। শাসক দলের প্রত্যক্ষ্য মদতে এই হিংসা এ কথা আর কোনো ভাবে ঢেকে রাখা যাবে না। কারণ আমরা দেখেছি প্রশাসনের সর্বোচ্চ জায়গা থেকে কোনোদিন অপরাধের নিন্দা কেউ করেনি, অপরাধীর শাস্তি হয়নি। হয়তো মনে মনে অপরাধের তারিফই করেছে। অপরাধী কে বাঁচানোর জন্যে আদালতে কোটি কোটি টাকা খরচ করেছে।
সাম্প্রদায়িক উস্কানি দিয়ে মুসলমান ভোট ব্যাঙ্ক তৈরির খেলায় মেতেছে। ভেবেছে যা খুশি করবো, সংখ্যা লঘু ভোট বার বার জিতিয়ে আনবে। এই ভাবে দুর্নীতি গ্রস্থ, স্বৈরাচারী, হিংস্র, প্রতিহিংসা পরায়ণ শাসন ব্যবস্থা যদি আর কিছুদিন চলে , তা হলে অচিরেই এই ভূমি খণ্ড বাংলাদেশ , সিরিয়া বা আফ্রিকার অন্নুনত দেশের মত জায়গায় পৌঁছে যাবে।
আর জি করের জনসমর্থন আজ তলানিতে। বিচারের শেষ দেখার জন্যে অভয়ার মা আজ নিজেই নির্বাচনের প্রার্থী। নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে কোনোমতেই জিততে পারবে না। তাই ছলে বলে কৌশলে আতঙ্ক সৃষ্টি করে ক্ষমতা দখল করে রাখাই এক মাত্র লক্ষ্য। তাই চিরাচরিত ভাবে লোক ক্ষেপানোর খেলায় নেমেছে। নীতি আদর্শ বলে তো কিছু নেই, ভোটএ জিতে টাকা কামানোটাই এক মাত্র উদ্দেশ্য।
আমলা ও পুলিশের একাংশ, ব্যক্তিগত স্বার্থের জন্যে, পশ্চিমবঙ্গের আগামী প্রজন্মের সর্বনাশের খেলায় সামিল হয়েছে। এদের অধিকাংশ অবাঙালি, পশ্চিমবঙ্গের মানুষ উচ্ছন্নে গেলে এদের কিছু যায় আসেনা। এদের অধিকাংশের ছেলেপুলের পড়াশোনা, কেরিয়ার, বাঙলার বাইরে। ঠিক যেন বাংলাদেশ, পাকিস্তানের দুর্নীতিগ্রস্ত শাসকের প্রতিচ্ছবি। একজন সরকারি আমলা গড়ে ৩০ থেকে ৩৫ বছর পর্যন্ত চাকরি জীবন। এর মধ্যে অনেক সরকার আসবে যাবে। কিন্তু সরকারি আমলা নিরপেক্ষ ভাবে জনগণের জন্যে কাজ করবে, এটাই তো স্বাভাবিক। কিন্তু কি এমন রহস্য , যার বলে একশ্রেণীর আমলা নির্লজ্জ্য ভাবে চরম দুর্নীতিককে সাহায্য করতে মরিয়া হয়ে মাঠে নেমেছে ?
পশ্চিমবঙ্গের সর্বনাশের মুলে থাকবে মিডিয়ার ভূমিকা। গণতন্ত্রে মিডিয়া একটা স্তম্ভ। মিডিয়ার ভূমিকা নিরপেক্ষ থাকলে শাসক দলও প্রশ্নের মুখে পড়ে। মিডিয়ার ম্যানেজাররা কি নিজের বুকে হাত দিয়ে বলতে পারবেন, কি ভূমিকা আপনাদের ? শতাব্দী প্রাচীন মিডিয়া হাউস ও সর্বনাশের খেলায় মেতেছে। দুর্নীতি মুক্ত সমাজ গঠনে, কি আপনাদের ভূমিকা ? গণতন্ত্রের স্তম্ভ হিসাবে গণতন্ত্র কে সুরক্ষিত রাখার জন্যে কি আপনাদের ভূমিকা ? আপনাদের ছেলেপুলেরা পশ্চিমবঙ্গে থেকেই ক্যারিয়ার তৈরি করতে পারবে , এ গ্যারান্টী দিতে পারবেন ?
এর সবকিছুর মুলে আছে অর্থ। রাজনীতিতে অর্থ এতো বেশি জড়িয়ে পড়েছে যে, পদ চলে গেলে ইনকাম বন্ধ হয়ে যাবে। সরকারের বদল হয়ে গেলে দুর্নীতির বিপুল উপার্জনে টান পড়ে যাবে। তাই জনসমর্থন চলে গেলেও, ছল চাতুরী করে, চুরি করে জিতে কোনো ভাবে ক্ষমতায় টিকে থাকতে এরা এতো মরিয়া। রাজনীতির মধ্যে যেদিন থেকে অর্থ কামাই এর সুযোগ বন্ধ হয়ে যাবে সেদিন থেকে পরিবেশ পরিশুদ্ধ হতে শুরু করবে।
সংখ্যালঘু অঞ্চলে ধর্মীয় উস্কানি দিয়ে, অর্ধসত্য বলে, মিথ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে, হিংসায় প্ররোচনা দিয়ে ভোটের বৈতরণী পার হতে বাংলার নির্বাচনী ঐতিহ্যে পরিণত হয়েছে। বাম আমলেও এটা করা হতো, করাচির দাঙ্গার ভিডিও গুজরাটের বলে সংখ্যালঘু অঞ্চলে দেখিয়ে বিজেপির বিরুদ্ধে আতঙ্ক ছড়ানো হতো। একই পরম্পরা এখনো চলছে যেমন “এক সেকেন্ড” তত্ত্ব, NRC আতঙ্ক,মাছ খাওয়া ইস্যু। মুসলিমরা অনেকেই এসব কথায় আর কান দিচ্ছে না। কাজের সন্ধানে তারা গুজরাটেই পাড়ি দিচ্ছে।
রাজনৈতিক ক্ষমতা দখলের জন্যে ধর্মীয় উত্তেজনা তৈরি করা একরকম আগুন নিয়ে খেলা। কারণ আরো একটা দেশবিরোধী চোরা স্রোত আছে তারা এই সুযোগ কাজে লাগাতে চাইবে। বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী, মালদহ ও মুর্শিদাবাদ এর গত এক দশকের ঘটনা প্রবাহ জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে গুরুত্তপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে। SIR এর আবহে ব্যাপক অরাজকতা তৈরির জন্যে এরা ঘোলা জলে মাছ ধরতে নামতেই পারে। NIA তদন্তে কি উঠে আসে সেটাই এখন দেখার।

