নিজস্ব চিত্র
“ভাড়া করা সৈন্য দিয়ে যুদ্ধ জেতা যায় না”—এই বার্তাকেই সামনে রেখে পশ্চিমবঙ্গ বিজেপি এবার ভরসা রাখছে নিজেদের সংগঠনের পুরনো ও অনুগত কর্মীদের উপর।
আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে, বারুইপুর পশ্চিম কেন্দ্র থেকে বিজেপি প্রার্থী করেছে বিশ্বজিৎ পালকে—যিনি ২০২৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে হিংসার শিকার হয়েছিলেন। তাঁর প্রতিপক্ষ বর্তমান বিধানসভার স্পিকার, ফলে এই কেন্দ্রটি এখন হাই-প্রোফাইল লড়াইয়ের কেন্দ্রে।
পঞ্চায়েত ভোট হিংসার শিকার থেকে প্রার্থী
২০২৩ সালের পঞ্চায়েত ভোটের গণনার সময় কারচুপির অভিযোগ তুলে প্রতিবাদ করেছিলেন বিশ্বজিৎ পাল। এরপরই শাসকদল ঘনিষ্ঠ দুষ্কৃতীরা তাঁকে আক্রমণ করে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়। দীর্ঘ চিকিৎসার পর তিনি সুস্থ হয়ে ফের সংগঠনের কাজে যোগ দেন। আজও তাঁর কপালের ক্ষত সেই ঘটনার প্রমাণ বহন করছে।
২০২১ পরবর্তী হিংসা: বড় বিতর্ক
পশ্চিমবঙ্গে ভোট-পরবর্তী হিংসা নতুন বিষয় নয়। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক হিংসার অভিযোগ ওঠে। বিভিন্ন রাজনৈতিক সূত্রে দাবি করা হয়, ১৫০-রও বেশি কর্মী নিহত হন। কলকাতা হাই কোর্টএ এখনো মামলা চলছে।
অনেক আক্রান্তের অভিযোগ, পুলিশ অনেক ক্ষেত্রে নিষ্ক্রিয় ছিল। থানায় অভিযোগ জানাতে গিয়েও হয়রানির শিকার হতে হয়েছে বলে দাবি। এমনকি কিছু ক্ষেত্রে অভিযোগকারীদের বিরুদ্ধেই পাল্টা মামলা দায়েরের অভিযোগ উঠেছে।
সাধারণ মানুষের অভিজ্ঞতা ও আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, বহু এলাকায় তখন ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়েছিল। জাতীয় সংবাদমাধ্যমে বিষয়টি আংশিকভাবে উঠে এলেও, অনেকের মতে পুরো পরিস্থিতি যথাযথভাবে তুলে ধরা হয়নি। প্রবাসী বাঙালি সম্প্রদায় এই ইস্যুতে সরব হয়ে আন্তর্জাতিক স্তরে বিষয়টি তুলে ধরার চেষ্টা করে।
নির্বাচন কমিশনের পদক্ষেপ
এই পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশন অব ইন্ডিয়া অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে একাধিক পদক্ষেপ নিচ্ছে। কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন, কড়া নজরদারি, এবং গণনার সময় বাড়তি নিরাপত্তা—এসবই নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে যাতে ভোট প্রক্রিয়া নিরপেক্ষ থাকে।
শেষ পর্যন্ত কি নিরাপদ থাকবে নির্বাচন?
তবে বড় প্রশ্ন রয়ে যাচ্ছে—এই পদক্ষেপগুলি কি শুধুমাত্র ভোটের দিন পর্যন্ত কার্যকর থাকবে, নাকি গণনা এবং ফল ঘোষণার পরবর্তী সময়েও বজায় থাকবে?
অতীত অভিজ্ঞতা থেকে রাজ্যের বহু মানুষের মধ্যে এখনও আস্থার অভাব রয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, পুরো নির্বাচনী প্রক্রিয়া শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত—ভোট, গণনা এবং পরবর্তী সময়—যদি শান্তিপূর্ণ না হয়, তাহলে গণতন্ত্রের উপর মানুষের বিশ্বাস পুরোপুরি ফিরে আসবে না।
গণতন্ত্র রক্ষায় বড় চ্যালেঞ্জ
পশ্চিমবঙ্গের এই নির্বাচন শুধু রাজনৈতিক লড়াই নয়—এটি গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষারও একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। এখন দেখার, নির্বাচন প্রক্রিয়া কতটা ভয়মুক্ত এবং স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন হয়।
About The Author
Discover more from Jist Feed
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
