কল্পিত চিত্রণ
এবারের বিধানসভা নির্বাচন ঘিরে প্রবাসী বাঙালিদের মধ্যে বিশেষ উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে, এবারের ভোট টা কেউ নষ্ট করতে চাইছে না। ফলে ট্রেন ও বিমানের টিকিটের চাহিদা তুঙ্গে পৌঁছেছে। চেন্নাই, বেঙ্গালুরু, হায়দ্রাবাদ, পুনে, মুম্বাই, দিল্লী বা আহমেদাবাদ সমস্ত দূরবর্তী স্থানের ট্রেন টিকিটের কার্যত লম্বা ওয়েটিং লিস্ট চলছে, বিমানের টিকিট আকাশ ছোঁয়ার পথে। এনিয়ে অনেক প্রবাসীর মনে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। যারা একা আসবেন তাঁরা কোনোরকমে বিমানের টিকিট জোগাড় করতে পারলেও যারা সপরিবারে কিছুদিন গরমের ছুটি কাটিয়ে যাবার প্ল্যান করছেন তারা পড়েছেন সমস্যায়।
আজ ২৮শে মার্চ, ২৮ এপ্রিল এর চেন্নাই কলকাতা বিমান এর রিটার্ন টিকিট ১৩,৬৬১ টাকা, বেঙ্গালুরু – কলকাতা ১৬,০৪৭ টাকা, হায়দ্রাবাদ – কলকাতা ১৪,০২৫ টাকা, পুনে – কলকাতা ১৮,৬৩৯ টাকা, মুম্বাই – কলকাতা ১৭,৬৫৫ টাকা, আহমেদাবাদ – কলকাতা ১৪,১৪৭ টাকা , দিল্লী – কলকাতা ১২,১৬৬ টাকা।
সুশোভন বাবু কলকাতা ছেড়েছেন প্রায় ২৫ বছর আগে, বাম যুগে, সেই বাম যুগের অবসানের পনেরো বছর পরেও বাংলায় ফিরে আসার পরিস্থিতি ফিরে পান নি। বর্তমানে হায়দ্রাবাদে মার্কিন বহুজাতিকে কর্মরত, আর চার মাস পরেই অবসর, তবুও নাড়ির টানে ভোটার কার্ড বাংলা থেকে কখনো ট্রান্সফার করেন নি। আগামী প্রজন্মকে যাতে তাঁর মত বাংলা ছাড়া না হতে হয়, সে জন্য বাংলার বর্তমান পরিস্থিতির পরিবর্তন চান। তিনি আগেভাগেই বিমানের টিকিট করে নিয়েছেন। উত্তরপাড়া কেন্দ্রে মনের মত প্রার্থী ঘোষণা হবার পরে তিনি বেজায় খুশি। যে কোনো মূল্যে তিনি এবারের ভোট টা দিতে চান।
সুমন্ত রায় দক্ষিণ কলকাতার ভোটার, প্রায় উনিশ বছর হল কলকাতা ছেড়েছেন, প্রত্যেক বার নিয়ম করে ভোটটা দিতে আসেন। ছেলের স্কুলের গরমের ছুটিও একই সময়, তাই সপরিবারে আসার জন্যে চারটি টিকিট তার দরকার। কিন্তু সব ট্রেন এ লম্বা ওয়েটিং লিস্ট থাকায়, তিনি হন্যে হয়ে তৎকালের টিকিট এর জন্যে খোঁজ খবর করছেন।
একই দৃশ্য চেন্নাই, বেঙ্গালুরু, হায়দ্রাবাদ, পুনে, মুম্বাই, দিল্লী বা আহমেদাবাদ সমস্ত জায়গার ক্ষেত্রে। নির্বাচনের দিন ঘোষণার পরেই, বাংলামুখী ট্রেনের স্লিপার, ৩এসি, ২এসি সমস্ত শ্রেণীতে চাহিদা তুঙ্গে, টিকিট অপ্রতুল। তৎকালের টিকিট খুবই সীমিত, এবং তা বুক করাও আজকাল সাধারণ মানুষের পক্ষে এক কথায় দুঃসাধ্য। অভিজ্ঞাতা বলছে ২ মিনিটের মধ্যেই তৎকালের কোটা উধাও হয়ে যায়। IRCTC র ওয়েব সাইটে লগইন করে টিকিটএর ফর্ম ভর্তি করে, পেমেন্ট করতে করতেই সব শেষ হয়ে যায়। রেল দপ্তর প্রযুক্তির অনেক উন্নতি করলেও, বাস্তবে সাধারণ মানুষের পক্ষ্যে ততকাল টিকিট কাটা চরম অনিশ্চয়তার সমার্থক।
বেঙ্গালুরুর উচ্চপদস্থ আই টি সেক্টর কর্মী সুমন্ত রায় থেকে হায়দ্রাবাদ এর ফার্মা সেক্টরএর শ্রেয়া সাহা, সুরাটএর হীরে শিল্পী সুমন প্রামানিক থেকে নয়ডার হোটেল কর্মী দেবপ্রিয় দে সকলেই একটা বিষয়ে একমত, পশ্চিমবঙ্গের এবারের বিধানসভার ভোট রাজ্যের হৃত গৌরব পুনরুদ্ধারের শেষ সুযোগ।
এই পরিস্থিতিতে, সারা ভারত জুড়ে, কয়েক লক্ষ প্রবাসী পরিযায়ী বাঙালি তাদের প্রতি রাজ্যসরকারের অবহেলা, অপমানের বঞ্চনার প্রত্যুত্তরে, তাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কর্মসংস্থান বাংলার মাটিতেই সুরক্ষিত করতে, হিন্দু বাঙালির হোমল্যান্ড পশ্চিমবঙ্গএর সাথে তাদের নাড়ির যোগাযোগ অক্ষুন্ন রাখতে এবারের “এক সেকেন্ডের” ভোটাধিকার তারা সুনিশ্চিত করতে চান। কেন্দ্রীয় রেল দপ্তর এই বিপুল সংখ্যক বাঙালি ভোটারের ভোট দানের অধিকার সুনিশ্চিত করতে স্পেশাল ট্রেন অথবা বিকল্প কোনো বাবস্থা করে কিনা সেটাই এখন দেখার।
About The Author
Discover more from Jist Feed
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
