ইনজুরি টাইমের জাদুতে ইতিহাস গড়ল কানাডা, দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে প্রথমবার শেষ ষোলোয়
লস অ্যাঞ্জেলেস স্টেডিয়ামে ফুটবল ইতিহাসের এক স্মরণীয় অধ্যায় রচনা করল সহ-আয়োজক কানাডা। ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর রাউন্ড অব ৩২-এ দক্ষিণ আফ্রিকাকে ১-০ গোলে হারিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় জায়গা করে নিল জেসি মার্শের দল।
ম্যাচের ৯২তম মিনিট পর্যন্ত দক্ষিণ আফ্রিকার দুর্ভেদ্য রক্ষণ এবং গোলরক্ষক রনওয়েন উইলিয়ামসের অসাধারণ পারফরম্যান্স কানাডাকে আটকে রেখেছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে স্টিফেন ইউস্তাকিওর অসাধারণ ভলি সব হিসাব বদলে দেয়।
প্রথমার্ধে আক্রমণে আধিপত্য কানাডার
শুরু থেকেই কর্নার ও সেট-পিসকে অস্ত্র করে দক্ষিণ আফ্রিকার রক্ষণে চাপ সৃষ্টি করে কানাডা।
১৭ মিনিটে জনাথন ডেভিডের ভলি অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। এরপর ডেরেক কর্নেলিয়াসের শক্তিশালী হেড দুর্দান্ত দক্ষতায় ফিরিয়ে দেন রনওয়েন উইলিয়ামস।
৪৪ মিনিটে ম্যাচের অন্যতম সেরা রক্ষণাত্মক মুহূর্তটি আসে। মইজে বম্বিতোর জোরালো হেড গোললাইন থেকে ক্লিয়ার করেন অউব্রে মোদিবা। রিবাউন্ডে তাজন বুকানানের শটও অসাধারণ দক্ষতায় আটকে দেন উইলিয়ামস।
প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে রিচি লারেয়া বক্সের ভেতরে ফাউলের শিকার হলেও রেফারি পেনাল্টি দেননি। VAR পর্যালোচনার পরও সিদ্ধান্ত বহাল থাকে। এতে কানাডার কোচ জেসি মার্শ তীব্র প্রতিবাদ জানান।
দ্বিতীয়ার্ধে কৌশলগত লড়াই
বিরতির পর দক্ষিণ আফ্রিকা বল দখলে কিছুটা এগিয়ে থাকলেও আক্রমণের শেষভাগে কার্যকর হতে পারেনি।
অন্যদিকে কানাডা ধৈর্য ধরে আক্রমণ চালিয়ে যায়। ম্যাচ যত শেষের দিকে এগোতে থাকে, অতিরিক্ত সময়ের সম্ভাবনাই বেশি মনে হচ্ছিল।
আলফোনসো ডেভিস বদলে দেন ম্যাচের গতি
৭৫ মিনিটে আলফোনসো ডেভিস মাঠে নামতেই কানাডার আক্রমণে নতুন প্রাণ ফিরে আসে।
তাঁর গতি ও ড্রিবলিং দক্ষিণ আফ্রিকার রক্ষণকে বারবার চাপে ফেলে। কিছুক্ষণের মধ্যেই তানি ওলুওয়াসেইয়ের শট অসাধারণভাবে বাঁচিয়ে দেন উইলিয়ামস।
৯২ মিনিটে ইউস্তাকিওর জাদুকরী ভলি
যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে ডান প্রান্ত দিয়ে দৌড়ে উঠে ক্রস বাড়ান অ্যালিস্টেয়ার জনস্টন।
দক্ষিণ আফ্রিকার এক ডিফেন্ডার বলটি ক্লিয়ার করলেও সেটি বক্সের বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা স্টিফেন ইউস্তাকিওর সামনে চলে আসে।
দুর্দান্ত দক্ষতায় বুক দিয়ে বল নিয়ন্ত্রণ করে নিখুঁত ভলিতে বল জড়িয়ে দেন জালের নিচের কোণে।
গোলরক্ষক রনওয়েন উইলিয়ামসের কিছুই করার ছিল না।
গোল হতেই পুরো স্টেডিয়াম উল্লাসে ফেটে পড়ে। ইতিহাস গড়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের শেষ ষোলো নিশ্চিত করে কানাডা।
ম্যাচের পরিসংখ্যান
| পরিসংখ্যান | দক্ষিণ আফ্রিকা | কানাডা |
|---|---|---|
| ফলাফল | ০ | ১ |
| মোট শট | ৩ | ৮ |
| লক্ষ্যে শট | ১ | ৪ |
| গোলরক্ষকের সেভ | ৪ | ১ |
| জয়সূচক গোল | – | স্টিফেন ইউস্তাকিও (৯২’) |
| ম্যাচসেরা পারফরমার | রনওয়েন উইলিয়ামস | স্টিফেন ইউস্তাকিও |
বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণ
পুরো ম্যাচের পারফরম্যান্স বিচার করলে কানাডার জয় প্রাপ্য ছিল। সেট-পিস, উইং প্লে এবং ধারাবাহিক আক্রমণের মাধ্যমে তারা দক্ষিণ আফ্রিকার রক্ষণকে সারাক্ষণ চাপে রেখেছিল।
দক্ষিণ আফ্রিকার গোলরক্ষক রনওয়েন উইলিয়ামস অসাধারণ পারফরম্যান্স না করলে ম্যাচটি অনেক আগেই কানাডার পক্ষে চলে যেতে পারত।
আলফোনসো ডেভিসের বদলি হিসেবে মাঠে নামা ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। তাঁর গতি প্রতিপক্ষের রক্ষণকে ছিন্নভিন্ন করে দেয় এবং মিডফিল্ডে বাড়তি জায়গা তৈরি হয়।
অন্যদিকে স্টিফেন ইউস্তাকিও প্রমাণ করলেন, নকআউট ফুটবলে একটি মুহূর্তের নিখুঁত দক্ষতাই ইতিহাস লিখে দিতে পারে।
এই জয়ের ফলে আত্মবিশ্বাসে ভরপুর কানাডা এখন শেষ ষোলোয় আরও বড় চ্যালেঞ্জের জন্য প্রস্তুত।

