গ্রুপ সি-তে ব্রাজিল-মরক্কো ম্যাচ ১-১ ড্র, গুরুত্বপূর্ণ এক পয়েন্ট পেল আফ্রিকান চ্যাম্পিয়নরা
ফিফা বিশ্বকাপের গ্রুপ সি-এর অন্যতম হাই-ভোল্টেজ ম্যাচে ব্রাজিল ও মরক্কো ১-১ গোলে ড্র করেছে। ম্যাচের শুরুতে মরক্কোর দাপুটে ফুটবল এবং শেষ পর্যন্ত তাদের সংগঠিত রক্ষণ ব্রাজিলকে পূর্ণ তিন পয়েন্ট থেকে বঞ্চিত করে।
ম্যাচের ২১তম মিনিটে দ্রুত পাল্টা আক্রমণ থেকে দিয়াজ গোল করে মরক্কোকে এগিয়ে দেন। ব্রাজিলের রক্ষণভাগের ফাঁক কাজে লাগিয়ে করা এই গোল ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।
প্রথম ৩০ মিনিটে মরক্কো পুরোপুরি মিডফিল্ড নিয়ন্ত্রণ করে। তাদের উচ্চ প্রেসিং এবং দ্রুত আক্রমণ ব্রাজিলকে চাপে ফেলে রাখে। পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা নিজেদের স্বাভাবিক খেলায় ফিরতে পারেনি।
বিরতির পর কোচ কার্লো আনচেলত্তির দুটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন ম্যাচে নতুন গতি আনে। ব্রাজিল মিডফিল্ডে আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করতে শুরু করে এবং ক্রমশ আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে।
দ্বিতীয়ার্ধে ইনিয়েস্তা জুনিয়রের দুর্দান্ত দূরপাল্লার শট থেকে আসে ব্রাজিলের সমতাসূচক গোল। টুর্নামেন্টের সেরা গোলগুলোর মধ্যে এটি স্থান পেতে পারে বলে মনে করছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা।
গোলের পর ব্রাজিল একাধিক সুযোগ তৈরি করলেও জয়সূচক গোল পায়নি। অন্যদিকে মরক্কো রক্ষণে অসাধারণ দৃঢ়তা দেখায় এবং যোগ করা সময়ের ৯ম মিনিটে ম্যাচ জয়ের সুযোগও তৈরি করেছিল।
এই ড্রয়ের ফলে গ্রুপ সি-তে ব্রাজিল ও মরক্কো উভয় দলই একটি করে পয়েন্ট নিয়ে অবস্থান করছে। গ্রুপে রয়েছে স্কটল্যান্ড ও হাইতিও।
ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের ব্রাজিল জার্সিতে ৫০তম ম্যাচটি জয় দিয়ে স্মরণীয় না হলেও দলকে গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট এনে দিতে তিনি ভূমিকা রাখেন।
ম্যাচের পরিসংখ্যান
| পরিসংখ্যান | ব্রাজিল | মরক্কো |
|---|---|---|
| ফলাফল | ১ | ১ |
| বল দখল | বেশি | কম |
| গোলদাতা | ইনিয়েস্তা জুনিয়র | দিয়াজ |
| এক্সপেক্টেড গোল (xG) | ০.৮৩ | ১.০৭ |
| ৩০ মিনিটের পর শট | একাধিক | ১টি |
| প্রথম গোল | – | ২১ মিনিট |
| সমতা ফেরানো গোল | দ্বিতীয়ার্ধ | – |
| অর্জিত পয়েন্ট | ১ | ১ |
| ম্যাচের আগে ফিফা র্যাঙ্কিং | ৬ | ৭ |
ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, ম্যাচের প্রথম ৩০ মিনিটে মরক্কো কৌশলগতভাবে অনেক এগিয়ে ছিল। প্রথম ৩০ মিনিটে মনে হচ্ছিল একটি সুসংগঠিত দল খেলছে এমন এক দলের বিরুদ্ধে যারা নিজেদের সেরা ছন্দ খুঁজে পাচ্ছিল না। মরক্কোর প্রেসিং, মিডফিল্ড নিয়ন্ত্রণ এবং রক্ষণভাগের সংগঠন ছিল অসাধারণ । বিরতির সময় করা দুটি পরিবর্তন ব্রাজিলকে নতুন প্রাণ দেয়। তারা মিডফিল্ডে নিয়ন্ত্রণ ফিরে পায় এবং ধীরে ধীরে ম্যাচের গতি নিজেদের হাতে নিয়ে আসে।
বিশেষজ্ঞরা আরও উল্লেখ করেন যে, দ্বিতীয়ার্ধে আধিপত্য বিস্তার করলেও ব্রাজিল খুব বেশি পরিষ্কার গোলের সুযোগ তৈরি করতে পারেনি। তাদের এক্সপেক্টেড গোল (xG) ছিল মাত্র ০.৮৩।
মরক্কো এক পয়েন্ট নিয়ে সন্তুষ্ট থাকবে, কিন্তু ব্রাজিল হয়তো ভাববে তারা গুরুত্বপূর্ণ দুটি পয়েন্ট হারিয়েছে। এই ম্যাচ প্রমাণ করল যে মরক্কো এখনও বিশ্বের অন্যতম সংগঠিত ও শৃঙ্খলাবদ্ধ দল। অন্যদিকে, ব্রাজিলকে শিরোপার লড়াইয়ে টিকে থাকতে হলে মাঝমাঠের ধারাবাহিকতা এবং সুযোগ কাজে লাগানোর ক্ষেত্রে আরও উন্নতি করতে হবে। বর্তমান অবস্থায় দুই দলই নকআউট পর্বে ওঠার দৌড়ে শক্ত অবস্থানে রয়েছে।

