Site icon Jist Feed

প্রেসিডেন্সি জেলে অভিযানে ২৩ মোবাইল উদ্ধার, কড়া বার্তা নতুন সরকারের — দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্সে শুভেন্দু অধিকারী

presidency jail

বাংলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ফেরাতে একের পর এক বলিষ্ঠ পদক্ষেপ নিচ্ছে নতুন সরকার। প্রশাসনের অন্দরে দুর্নীতি, দায়িত্বে গাফিলতি এবং অপরাধ জগতের সঙ্গে যোগসাজশের বিরুদ্ধে এবার আরও কড়া অবস্থান নিল রাজ্য সরকার। গতকাল ডিজিপি জেল রমেশ বাবুর নেতৃত্বে প্রেসিডেন্সি কারেকশনাল হোমে অতর্কিতে হানা দিয়ে উদ্ধার করা হয়েছে ২৩টি মোবাইল ফোন। এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই দু’জন উচ্চপদস্থ আধিকারিককে সাসপেন্ড করা হয়েছে।

সাসপেন্ড হওয়া আধিকারিকদের মধ্যে রয়েছেন প্রেসিডেন্সি কারেকশনাল হোমের সুপারিনটেন্ডেন্ট মিস্টার এন কুজুর এবং চিফ কন্ট্রোলার দীপ্ত গড়াই। শুধু মোবাইল উদ্ধার করেই দায়িত্ব শেষ নয়, বরং যাঁদের উপর জেলের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার দায়িত্ব ছিল, তাঁদের বিরুদ্ধেও শুরু হয়েছে প্রশাসনিক ও ডিপার্টমেন্টাল ব্যবস্থা।

সরকার স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে — শুধুমাত্র অপরাধীদের বিরুদ্ধে নয়, কর্তব্যে অবহেলা করা আধিকারিকদের বিরুদ্ধেও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। প্রশাসনের একাংশ এতদিন মনে করত, জেলের ভেতরে কী চলছে তা নিয়ে সরকারের তেমন মাথাব্যথা নেই। কিন্তু নতুন সরকারের এই অভিযানের পর সেই ধারণায় বড় ধাক্কা লাগল।

সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, উদ্ধার হওয়া মোবাইল ফোনগুলি ফরেন্সিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হবে। তদন্ত করে দেখা হবে কীভাবে এই মোবাইলগুলি জেলের ভেতরে পৌঁছল এবং কারা এই চক্রের সঙ্গে যুক্ত। দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ উঠছিল, জেলের ভেতরে বসেই অপরাধ জগতের কুখ্যাত আসামিরা নিজেদের নেটওয়ার্ক চালিয়ে যাচ্ছে। শেখ শাহজাহানের মতো বহু কুখ্যাত অপরাধীর নাম বারবার উঠে এসেছে সেই তালিকায়।

এতদিন কান পাতলেই শোনা যেত, জেলের একাংশ কর্মচারীর সঙ্গে অপরাধীদের অবৈধ যোগাযোগের কথা। অভিযোগ ছিল, টাকার বিনিময়ে জেলের ভিতরে পৌঁছে যেত মোবাইল, সুবিধা এবং বাইরের দুনিয়ার সঙ্গে যোগাযোগের রাস্তা। অথচ আগের সরকার এই বিষয়ে কোনও কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি বলেই দাবি রাজনৈতিক মহলের একাংশের।

এই পরিস্থিতিতে প্রেসিডেন্সি জেলে অভিযানকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে প্রশাসনিক মহল। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হলে প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে জবাবদিহি নিশ্চিত করতেই হবে। তাঁর বার্তা পরিষ্কার — “যে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, সেই দায়িত্ব সৎভাবে পালন করুন। অন্যথায় কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।”

রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা ফেরাতে নতুন সরকারের এই কড়া অবস্থান যে প্রশাসনের অন্দরে বড়সড় চাপ তৈরি করেছে, তা বলাই বাহুল্য। প্রেসিডেন্সি জেলের এই অভিযান এখন গোটা বাংলার কারেকশনাল সিস্টেমের জন্য এক বড় সতর্কবার্তা হয়ে উঠেছে।

Exit mobile version