কলকাতা, ৯ মে: পশ্চিমবঙ্গ সরকারের প্রশাসনিক স্তরে বড়সড় রদবদল করা হল। রাজ্যের পার্সোনেল অ্যান্ড অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ রিফর্মস (পি অ্যান্ড এআর) দফতরের জারি করা বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, মুখ্যমন্ত্রীর দফতরে একাধিক আইএএস ও ডব্লিউবিসিএস আধিকারিককে নতুন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী, শান্তনু বালা -কে মুখ্যমন্ত্রীর প্রাইভেট সেক্রেটারি পদে নিয়োগ করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি দক্ষিণ ২৪ পরগনার অতিরিক্ত জেলাশাসক (এডিএম) পদে কর্মরত ছিলেন। জনস্বার্থে এই নিয়োগ করা হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে, মুখ্যমন্ত্রীর দফতরকে আরও শক্তিশালী করতে একসঙ্গে বহু ডব্লিউবিসিএস (এক্সিকিউটিভ) আধিকারিককে নবান্নে পোস্টিং দেওয়া হয়েছে। বিশেষ সচিব, অতিরিক্ত সচিব, যুগ্ম সচিব, সিনিয়র ডেপুটি সেক্রেটারি ও ডেপুটি সেক্রেটারি স্তরের আধিকারিকদের এই তালিকায় রাখা হয়েছে।
P&AR দফতরের ডব্লিউবিসিএস সেল থেকে জারি হওয়া এই তালিকায় বিশেষ সচিব থেকে ডেপুটি সেক্রেটারি পদমর্যাদার একাধিক আধিকারিক রয়েছেন। প্রশাসনিক মহলে মনে করা হচ্ছে, মুখ্যমন্ত্রীর দফতরের প্রশাসনিক কাঠামোকে আরও শক্তিশালী করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখযোগ্য যাঁদের নাম রয়েছে, তাঁরা হলেন—
- Sudatta Chowdhury — স্পেশাল সেক্রেটারি
- Nitesh Dhali — অ্যাডিশনাল সেক্রেটারি
- Souvik Patra — অ্যাডিশনাল সেক্রেটারি
- Sankha Santra — অ্যাডিশনাল সেক্রেটারি
- Suman Paul — জয়েন্ট সেক্রেটারি
- Binayak Ghosh Choudhury — জয়েন্ট সেক্রেটারি
- Tilak Mouli Rakshit — সিনিয়র ডেপুটি সেক্রেটারি
- Debjani Ojha — সিনিয়র ডেপুটি সেক্রেটারি
- Sayak Deb — সিনিয়র ডেপুটি সেক্রেটারি
- Rahul Mazumder — স্পেশাল সেক্রেটারি
- Debamay Chatterjee — জয়েন্ট সেক্রেটারি
- Amitjyoti Bhattacharjee — জয়েন্ট সেক্রেটারি
- Susamay Biswas — সিনিয়র ডেপুটি সেক্রেটারি
- Arun Paul — ডেপুটি সেক্রেটারি
- Biswajit Dhang — ডেপুটি সেক্রেটারি
- Subhashis Ghosh — জয়েন্ট সেক্রেটারি
প্রশাসনিক গুরুত্ব
একযোগে এত সংখ্যক আধিকারিককে মুখ্যমন্ত্রীর দফতরে নিয়ে আসা প্রশাসনিক মহলে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। সাধারণত সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের বাস্তবায়ন, আন্তঃদফতর সমন্বয় এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের গতি বাড়ানোর লক্ষ্যেই এ ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
বিভিন্ন স্তরের আধিকারিকদের অন্তর্ভুক্তি থেকে স্পষ্ট, সরকার নীতিনির্ধারণ এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম— দুই ক্ষেত্রেই মুখ্যমন্ত্রীর দফতরকে আরও কার্যকর ও শক্তিশালী করে তুলতে চাইছে।
রাজ্যের আমলাতান্ত্রিক মহলের একাংশের মতে, আগামী দিনে সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং প্রশাসনিক নজরদারি আরও দ্রুত ও সুসংহত করতেই এই পুনর্গঠন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

