১৩ জুন: ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের উদ্বোধনী গ্রুপ ‘বি’ ম্যাচে আয়োজক কানাডা শেষ মুহূর্তের লড়াইয়ে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিরুদ্ধে ১-১ গোলে ড্র করে ইতিহাস গড়েছে। টরন্টো স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে কানাডা পুরুষদের বিশ্বকাপ ইতিহাসে নিজেদের প্রথম পয়েন্ট অর্জন করে।
ম্যাচের শুরু থেকেই বলের দখলে আধিপত্য দেখায় কানাডা। তবে আক্রমণে একের পর এক সুযোগ নষ্ট করায় ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ থাকা সত্ত্বেও পিছিয়ে পড়তে হয় আয়োজকদের।
১৭তম মিনিটে জনাথন ডেভিড সহজ একটি সুযোগ হাতছাড়া করেন। তার শট সরাসরি বসনিয়ার গোলরক্ষক নিকোলা ভাসিলজের হাতে চলে যায়। এই মিসের মূল্য চুকাতে হয় কানাডাকে মাত্র চার মিনিট পরই।
২১তম মিনিটে ইভান বাসিচের কর্নার থেকে সিয়াদ কোলাশিনাচের ফ্লিক হেডার পেয়ে জোভো লুকিচ কাছ থেকে বল জালে জড়িয়ে বসনিয়াকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন।
দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণের ঝড় তোলে কানাডা। ৫৩তম মিনিটে রিচি লারিয়া গোলরক্ষককে পরাস্ত করলেও কোলাশিনাচ গোললাইন থেকে অসাধারণ ক্লিয়ারেন্স করে দলকে রক্ষা করেন। ৬৭তম মিনিটে তানি ওলুওয়াসেইয়ের হেডারও গোললাইন থেকে ফিরিয়ে দেন নিকোলা কাটিচ।
অবশেষে ৭৮তম মিনিটে বদলি হিসেবে মাঠে নামার মাত্র ১২১ সেকেন্ড পর সাইল লারিন সমতা ফেরান। প্রমিস ডেভিডের বুদ্ধিদীপ্ত পাস থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে নিচু ভলিতে জোরালো শটে বল জালে পাঠিয়ে টরন্টো স্টেডিয়ামকে উল্লাসে ভাসিয়ে দেন তিনি।
যোগ করা সময়ের ষষ্ঠ মিনিটে লারিনের সামনে জয়ের সুবর্ণ সুযোগ এলেও তার শট তারিক মুহারেমোভিচ ব্লক করে দেন। ফলে ১-১ গোলের সমতায় শেষ হয় ম্যাচ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কানাডা ম্যাচে আধিপত্য বিস্তার করলেও সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয়েছে। একইসঙ্গে সেট-পিস রক্ষণে দুর্বলতা এবং ফিনিশিংয়ের অভাব ভবিষ্যতে দলটির জন্য উদ্বেগের কারণ হতে পারে। অন্যদিকে বসনিয়া সুশৃঙ্খল রক্ষণ এবং দৃঢ় মানসিকতার মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ এক পয়েন্ট অর্জন করেছে।
ম্যাচ পরিসংখ্যান
| পরিসংখ্যান | কানাডা | বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা |
|---|---|---|
| গোল | ১ | ১ |
| বলের দখল | ৬০% | ৪০% |
| মোট শট | ১৩ | ৮ |
| লক্ষ্যে শট | ৩ | ৪ |
| কর্নার | ৯ | ৪ |
| ফাউল | ১০ | ২০ |
| হলুদ কার্ড | ২ | ৩ |
গোলদাতা
• ২১’ – জোভো লুকিচ (বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা)
• ৭৮’ – সাইল লারিন (কানাডা)
পরবর্তী ম্যাচ
গ্রুপ ‘বি’-তে এক পয়েন্ট নিয়ে দুই দলই সমান অবস্থানে রয়েছে। ১৮ জুন কানাডা ভ্যাঙ্কুভারে কাতারের মুখোমুখি হবে, অন্যদিকে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা লস অ্যাঞ্জেলেসে গ্রুপের অন্যতম ফেবারিট সুইজারল্যান্ডের বিরুদ্ধে মাঠে নামবে। এই ড্র কানাডার জন্য যেমন ঐতিহাসিক, তেমনি এটি একটি সতর্কবার্তাও। যদি তারা নকআউট পর্বে পৌঁছাতে চায়, তবে পরবর্তী ম্যাচগুলোতে সুযোগ কাজে লাগানোর দক্ষতা আরও বাড়াতে হবে।

