Jihadi Atnko

হয়ে গেলো প্রথম দফায় ১৫২ টি কেন্দ্রের নির্বাচন। হিন্দু জেগেছে।
কিন্তু এই নির্বাচন আর পাঁচটা সাধারণ নির্বাচন নয়—এই সত্য এখন ক্রমশ স্পষ্ট হয়ে উঠছে। এটা আর শুধু উন্নয়ন, রাস্তা, বিদ্যুৎ বা রেশন নিয়ে ভোট নয়। এর গভীরে জমে আছে মানুষের ক্ষোভ, বেদনা, এবং বিচারহীনতার বিরুদ্ধে এক তীব্র আর্তনাদ।

এই নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে দুটি ঘটনা বিশেষভাবে মানুষের মনে নাড়া দিয়েছে। প্রথম দফায় ভরকেন্দ্র মুর্শিদাবাদ হলে দ্বিতীয় দফায় পানিহাটি। সামগ্রিক ভাবে ২০২৬ এর নির্বাচনের মূল ইস্যু এই দুটি।

প্রথমটা হলো ভাগ্যহীন পিতা-পুত্র হরগোবিন্দ দাস ও চন্দন দাস এবং দ্বিতীয় টি হল ভাগ্যহীনা ডাক্তার বোন অভয়া। হিন্দু বাঙালির ঘুম যদি কয়েক বছর আগে খুলতো তাহলে এনাদের প্রাণ হারাতে হতোনা।
হরগোবিন্দ দাস ও চন্দন দাস মৃতশিল্পী ছিলেন। ঠাকুরের মূর্তি তৈরি করে পেট চালাতেন। জেহাদিরা হিন্দুদের পুজো বন্ধ করতে না পেরে, যারা মূর্তি তৈরি করে তাদের কেই হত্যা করলো। ভাবলে শিউরে উঠতে হয় জেহাদি নর পিশাচের মানসিকতা। যেখানে ওরা সংখ্যায় বেশি সেখানে ওদের আসল রূপ দেখায়। সারা পৃথিবীর ইতিহাস মিলিয়ে নিন। সংখ্যা বাড়ানোই এজেন্ডা। হিন্দু সংখ্যালঘু হয়ে গেলে, অস্তিত্ব টাই বিপন্ন হবে। যেমনটা হয়েছে বাংলাদেশে। হিন্দু বাঙালি পলায়ন করলে,পশ্চিম বাংলাদেশ বানানোর রাস্তা সুগম হবে। তাদের হত্যাকাণ্ড শুধু একটি অপরাধ নয়—অনেকের কাছে এটি হয়ে উঠেছে নিরাপত্তাহীনতার প্রতীক। প্রশ্ন উঠছে—এই রাজ্যে কি সাধারণ মানুষের জীবন, পেশা এবং বিশ্বাস আর সুরক্ষিত নেই?

দ্বিতীয় ইস্যু, আর জি কর হত্যা কান্ড। এখানে জড়িয়ে আছে দুটি প্রধান ইস্যু — এক, মাত্রা ছাড়া দুর্নীতি। দুই , নারী সুরক্ষা। মাত্রা ছাড়া দুর্নীতির প্রতিবাদ করে , অন ডিউটি ডাক্তার অভয়া নৃশংস ভাবে খুন হলেন। এই ঘটনা শুধু একটি খুন নয়, এটি সমাজের সামনে তুলে ধরেছে দুই ভয়াবহ বাস্তবতা—প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি এবং নারীর নিরাপত্তার সংকট। তিনি ডিউটিতে ছিলেন—অর্থাৎ দায়িত্ব পালন করতে গিয়েই প্রাণ হারাতে হয়েছে। তাহলে প্রশ্ন আরও গভীর হয়—কেউই কি নিরাপদ নয়?

দুটি ইস্যুর যোগসূত্র একই। দুটি ক্ষেত্রেই অপরাধীদের কে রাজ্যসরকারের উদ্যোগে আড়াল করা হল। প্রমান লোপাট করা হল। কোটি কোটি টাকা খরচ করা হল। এই দুই ঘটনার মধ্যে মানুষ একটি মিল খুঁজে পাচ্ছে—বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে গভীর সংশয়। অভিযোগ উঠেছে প্রমাণ নষ্ট হওয়ার, প্রশাসনিক গাফিলতির, এবং অপরাধীদের রক্ষা করার চেষ্টা নিয়ে। সত্যিই যদি তা হয়ে থাকে, তাহলে তা শুধু ব্যর্থতা নয়—এটি একটি বিপজ্জনক সংকেত।

এরকম হিন্দু অত্যাচার, নারীধর্ষণ,মাত্রা ছাড়া দুর্নীতির ঘটনা ১১ থেকে অনেকই ঘটেছে।কিন্তু তাতে সামগ্রিক বাঙালি হিন্দুর চোখ খোলেনি। তাতে শাসকের ঔধত্ত্ব ক্রমশ বেড়েছে, বেপরোয়া হয়ে উঠেছে, ক্রমাগত অপরাধীদের আড়াল করে গেছে । আইনের শাসন বলে কিছু আর অবশিষ্ট রাখেনি। পুলিশ কে দলদাস বানিয়েছে , মিডিয়া কে কিনেছে। কিন্তু এই দুটি ঘটনা আপামর হিন্দু বাঙালির ঘুম ভাঙিয়েছে। মানুষ তখনি সিদ্ধান্ত নিয়ে নিয়েছে। শাসকের অনেক সমর্থক দিরে ধীরে দূরে চলে গেছে। শাসক এখনো নির্লজ্য আক্রমণ করেযাচ্ছে। সারা পৃথিবীর কাছে মাথা হেঁট হয়েছে বাঙালিদের। গত এক দশকে একাধিক সহিংসতা, দুর্নীতির অভিযোগ এবং নারীর বিরুদ্ধে অপরাধ সামনে এসেছে। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই মানুষের মনে হয়েছে—যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ধীরে ধীরে এই ধারণা তৈরি হয়েছে যে প্রশাসন এবং আইনব্যবস্থা সবসময় নিরপেক্ষভাবে কাজ করছে না।

কুর্নিশ জানাই ডাক্তার অভয়ার মা – বাবা কে। এ এক অনন্য উদাহরণ। সন্তান হারাবার শোকে তিনি বিপর্যস্ত হয়েও শাসকের বিরুদ্ধে বিচারের দাবিতে লড়াই করে চলেছেন। শাসক কোটি কোটি টাকা খরচ করেও রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়েও দমিয়ে রাখতে পারেনি। এবার রাজনৈতিক মঞ্চ থেকে নতুন লড়াই এ নেমেছেন। পৃথিবীর ইতিহাসে বিরলতম ঘটনা। ব্যক্তিগত শোকের মধ্যেও তারা মাথা নত করেননি। তারা লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন—বিচারের জন্য, সত্যের জন্য। তাদের এই দৃঢ়তা সাধারণ মানুষের মনে গভীর প্রভাব ফেলেছে। ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডি আজ এক বৃহত্তর সামাজিক আন্দোলনের রূপ নিচ্ছে।

তাই এবারের নির্বাচন আর পাঁচটা নির্বাচনের মতো নয়। জল, রাস্তা, বিদ্যুৎ, রেশন এসব কোনো ইস্যু নয়। এই নির্বাচন এখন আর কেবল উন্নয়নমূলক প্রতিশ্রুতির হিসাব নয়। এটি হয়ে উঠেছে এক নৈতিক প্রশ্ন—

যে ব্যবস্থার ওপর মানুষের আস্থা নড়ে গেছে, সেই ব্যবস্থাকে কি আবার ক্ষমতায় ফিরিয়ে দেওয়া হবে?

দ্বিতীয় দফার নির্বাচন এখনও বাকি। ফলাফল যা-ই হোক, একটি বিষয় স্পষ্ট—মানুষ এখন অনেক বেশি সচেতন, অনেক বেশি সংবেদনশীল, এবং অনেক বেশি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। এক দিকে জেহাদি আতঙ্ক আর এক দিকে দুর্বৃত্ত রাজনৈতিক নেতার হাত থেকে বাঁচার লড়াই। হিন্দুদের অস্তিত্বের লড়াই।

এই নির্বাচন শুধুই ভোট নয়—অনেকের কাছে এটি বিচার, মর্যাদা এবং সত্যের লড়াই। আত্মতুষ্টির জায়গা এখনো আসেনি, দ্বিতীয় দফার নির্বাচন এখনো বাকি।


About The Author


Discover more from Jist Feed

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

Leave a Reply

You missed