Site icon Jist Feed

“হুগলী কে ইন্ডাস্ট্রিয়াল হাব তৈরী করবো” – প্রধানমন্ত্রী

PM Modi Arambagh

শুভজিৎ বসু, হুগলি: “জয় মা কালী” ও “জয় মা দুর্গা” ধ্বনির মাধ্যমে বক্তব্য শুরু করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি রাজা রামমোহন রায়, শ্রী রামকৃষ্ণ পরমহংস ও স্বামী বিবেকানন্দকে শ্রদ্ধা জানান।

তিনি বলেন, হুগলি ঐতিহাসিকভাবে জাতি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে এবং এখানকার মানুষ দেশের পরিবর্তনের শক্তি হিসেবে কাজ করে আসছে।

প্রধানমন্ত্রী দাবি করেন, হুগলিতে তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে জোরালো জনমত তৈরি হয়েছে। বিশাল জনসমাগম দেখে তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং বলেন, মানুষের এই সমর্থন তিনি কখনও ভুলবেন না।

মানুষের উদ্দীপনা চোখে পড়ার মতো

সিঙ্গুর সফরের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, কিছুদিন আগেও তিনি মানুষের মধ্যে তৃণমূলের প্রতি ক্ষোভ দেখেছেন এবং আজও সেই ক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। তিনি ভোটারদের এই ক্ষোভকে গণতান্ত্রিক পরিবর্তনের শক্তিতে পরিণত করার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, আসন্ন নির্বাচনে ভোটদানের সমস্ত রেকর্ড ভেঙে দিতে হবে এবং ১০০ শতাংশ ভোট নিশ্চিত করতে হবে। তার মতে, এত বড় ভোটদানের সম্ভাবনা দেখে তৃণমূল চিন্তিত।

প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করেন, গত ১৫ বছর ধরে রাজ্যের মানুষকে ভয় দেখিয়ে শাসন করা হয়েছে। তিনি বলেন, যখন অত্যাচার সীমা ছাড়িয়ে যায়, তখন পরিবর্তন অবশ্যম্ভাবী—মা দুর্গার প্রতীকী উল্লেখ করে তিনি এই বার্তা দেন। “ভয় আউট, ভরসা ইন” স্লোগানও তিনি তুলে ধরেন।

রাজ্য সরকারের সমালোচনা করে তিনি একে নিষ্ক্রিয় ও অকার্যকর বলে উল্লেখ করেন। বিভিন্ন তদন্ত ও আদালতের মামলার প্রসঙ্গ তুলে তিনি অভিযোগ করেন যে, রাজ্য সরকার কেন্দ্রীয় তদন্তে হস্তক্ষেপ করছে।

আইন-শৃঙ্খলার অবনতির অভিযোগ তুলে তিনি নারী নির্যাতন ও অপরাধের বিভিন্ন ঘটনার উল্লেখ করেন এবং বলেন, এই সরকার দোষীদের রক্ষা করছে। তিনি নারী সুরক্ষা ও ক্ষমতায়নকে অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।

বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের ঘোষণা করে তিনি বলেন, ৭৫ লক্ষ মহিলার জন্য আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা করা হবে। মুদ্রা যোজনার মাধ্যমে ২০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঋণ দেওয়া হবে এবং বছরে ৩৬,০০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন, যা পাঁচ বছরে ১ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা হবে। এছাড়া মেয়েদের শিক্ষার জন্য ৫০ হাজার টাকা দেওয়ার কথাও তিনি জানান।

গরিবদের জন্য ১.৫ লক্ষ টাকা বাড়ি নির্মাণ সহায়তা এবং সোলার বিদ্যুতের মাধ্যমে বিদ্যুৎ খরচ কমানোর পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এই ক্ষেত্রে কেন্দ্র সরকার ৮০ হাজার টাকা পর্যন্ত সহায়তা দেবে। পাশাপাশি, আয়ুষ্মান ভারত যোজনা চালু করার প্রতিশ্রুতি দেন, যার মাধ্যমে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত চিকিৎসা সুবিধা পাওয়া যাবে।

প্রধানমন্ত্রীর সভায় আসার জন্যে দূর দূরান্ত থেকে আসা মানুষের ঢল

হুগলি নদীর তীরবর্তী অঞ্চলের একসময়ের শিল্প ও বাণিজ্যের ঐতিহ্যের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, বর্তমানে সেই উন্নয়ন থমকে গেছে। জুট মিলসহ একাধিক কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং হিন্দমোটর কারখানা বন্ধ হওয়ার প্রসঙ্গও তিনি তোলেন।

কৃষকদের সমস্যার কথা উল্লেখ করে তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমান নীতির ফলে কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন এবং মধ্যস্বত্বভোগীরা কম দামে পণ্য কিনে বেশি দামে বিক্রি করছে। তিনি খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্প, বিশেষ করে আলু থেকে চিপস তৈরির উদ্যোগ নেওয়ার কথাও বলেন।

শেষে তিনি আহ্বান জানান, রাজ্যে বিজেপি সরকার গঠন করতে হবে। তিনি বলেন, কেন্দ্র ও রাজ্য একসাথে কাজ করলে হুগলিকে একটি শিল্পকেন্দ্রে পরিণত করা সম্ভব হবে।

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের সরাসরি অংশ ….

“জয় মা কালী, জয় মা দুর্গা, সবাইকে আমার প্রনাম রাজা রামমোহন, রামকৃষ্ণ বিবেকানন্দ কে নমস্কার করি।

হুগলীতে এমন কিছু কথা আছে যা রাষ্ট্র নিরমানের কাজে লাগে। এখানকার সন্তানরা দেশের পরিবর্তন এর কাছে লাগে।

আজ হুগলী তে তৃণমূল এর জঙ্গলরাজ এর বিরুদ্ধে হাওয়া চলছে।।

হেলিকপ্টারের পাশে চারিদিকে প্রচুর লোক।
রাস্তাতেও প্রচুর লোক। এই আশীর্বাদ কখনো ভুলবো না।।

কিছুদিন আগে সিঙ্গুর এসেছিলাম। তখন তৃনমূল এর প্রতি মানুষের রাগ দেখেছি।
আজ ও সেই রাগ দেখছি। এই রাগ এর মাধ্যমে মানুষের সংকল্প পাল্টানো দরকার….

এ বছর ভোটের সমস্ত রেকর্ড ছাড়িয়ে দেবে। আগেরবারে সমস্ত রৈকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। আপনাদের ২৩তারিখের রেকর্ড ছাপিয়ে যেতে হবে।১০০ শতাংশ ভোট করাতে হবে।।

ওরা এত ভোট দান দেখে তৃনমূল চিন্তায় আছে। ওরা ভাবেনি এত লোক ভোট দেবে। ১৫ বছর তৃনমূল রাজ্যের মানুষ কে ভয় দেখিয়েছে।

কিন্তু যখন অত্যাচারের সীমা লঙ্ঘন হয় তখন মা দূর্গা আসে।।

ভয় আউট , ভরসা ইন…

১৫ বছর আগে আপনারা ভরসা করে তৃণমূল এসেছেন। এখন সেই সরকার এখন মস্তান চালাচ্ছে।

এত নিষ্ক্রিয় সরকার এর আগে হয় নি। বাংলায় এমন সরকার দরকার যারা লোকের আজ করবে, মানুষের স্বপ্ন পূর্ন করবে।।

সন্দেশখালিতের মামলা নিয়ে আদালত উন্মাপকাশ করেছেন, আর জি কর নিয়ে সি বি আই রায় দিয়েছেন।

এই সরকার কেন্দ্রের তদন্তেও নাক গলায়। কয়লা মামলা নিয়ে তৃনমূল কে আদালত ভর্ৎসনা করেছে। তৃনমূল মা মাটি মানুষ সবাইকে ধোঁকা দিয়েছে।।

এখানে রোজ ধর্ষন, খুনের আছে। আর জি কর ,পার্ক স্ট্রিট, কামদুনি, দূর্গাপুর মেডিকেল কলেজের ঘটনা প্রকাশ্যে আসছে। সমস্ত ঘটনতেইই তৃনমূল সামিল আছে। গুন্ডাদের বাচ্চাচে এই সরকার।।

এক ফ্যাক্টারিতে একজনকে গন ধর্ষন করা হয়েছে , যেখানে তৃনমূল এর লোকেরা যুক্ত। তৃনমূল মেয়েদের সুরক্ষা দিতে পারে না। তাই এই সরকার পাল্টানো দরকার।

অনেক হল, আর নয়। ৪ তারিখের পর সমস্ত গুন্ডাদের হিসাব হবে। চুন চুন কর হিসাব হবে।।

নারী শশক্তিকরন আমাদের লক্ষ্য।
৭৫ লক্ষ মহিলাদের জন্য চেষ্টা করা হবে যাতে সবাই লাখপতি হয়। তাদের ২০ লক্ষ টাকা অবধি মুদ্রা লোন দেওয়া হবে।।

ব্যাঙ্ক গ্যারান্টি র জন্য ভাল নেবে আপনাদের ভাই মোদী।।

প্রত্যেক বছর মহিলাদের ৩৬০০০ পাবে।
পড়াশোনার জন্য মেয়েদের ৫০হাজার দেওয়া হবে।।

গরীবদের ঘর করার জন। ১.৫ লক্ষ টাকা দেওয়া হবে।

আপনাদের ইলেকট্রিক খরচ শূন্য করা হবে সোলার লাগানোর মাধ্যমে, সেটা করার জন্য মোদী সরকার ৮০হাজার টাকা দেবে।।

বিজেপি সরকারের প্রথম মন্ত্রীসভায় আয়ুষ্মান যোজনা লাগু হবে।।৫ লক্ষ টাকা অবধি চিকিৎসা সুবিধা পাওয়া যাবে।।

হুগলী নদীর ধার্য বরাবর ব্যাবসা বানিজ্য হতো , এখন সে সব কোথা গেল ?

১৫ বছরে কৃষকদের আত্মহত্যার দিকে ঢেলে দিয়েছে, শ্রমিকদের অবস্থা খারাপ।

জুট মিল সহ অনেক কারখানা বন্ধ, হিন্দমোটর বন্ধ। সারা ভারত উন্নতি করছে বাংলা ছাড়া।

বাংলাকে আবার মিল, কারখানাতে ভরিয়ে দিতে হবে। তারজন্য তৃনমূল কে হারাতে হবে।।

কৃষক কল্যান আমাদের সব থেকে আগে।।

তৃনমূল সিঙ্গুরের কৃষকদের সাথে ধোঁকা করেছে, ওখানে চাষ হচ্ছে না।

সিন্ডিকেট কৃষকদের থেকে ২_৩টাকা কিলো দরে আলু নিয়ে বেশী দামে বিক্রি করছে।।
বিজেপি নতুন ব্যবস্থা শুরু করবে।
বিজেপি আলু চিপস তৈরি উদ্দ্যোগ নেব।

কিছু দিন আগে অনকে প্রজেক্ট এর উদ্ধোধন করেছি। যেটাতে কৃষকদের উন্নিত হবে। সড়ক সহ অন্যান্য ক্ষেত্রে উন্নতি হবে।।

এখানে বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী করুন। তারপর মুখ্যমন্ত্রী ও প্রধান মন্ত্রী মিলে হুগলী কে ইন্ডাস্ট্রিয়াল হাব তৈরী করবো।

তৃনমূল এর দুর্নীতির সূর্য অস্ত হয়ে গেছে। “

Exit mobile version