Site icon Jist Feed

মথুরাপুরে প্রধানমন্ত্রীর জনসভা: তৃণমূলের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ, মৎসজীবীদের জন্যে একাধিক প্রতিশ্রুতি

Mathurapur

কাকদ্বীপ, ২৩ এপ্রিল: দক্ষিণ ২৪ পরগনার কাকদ্বীপ স্পোর্টস কমপ্লেক্সে আজ বিকেল প্রায় ৩টায় এক বিশাল জনসভায় ভাষণ দেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সভায় বিজেপির মথুরাপুর ও ডায়মন্ড হারবার সাংগঠনিক জেলার ১৪ জন প্রার্থী উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ত্রিপুরার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব ও বিজেপি নেতা রাহুল সিনহা।

তৃণমূলকে কড়া আক্রমণ

প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত ১৫ বছরে তৃণমূল কংগ্রেস শুধু মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, “শুধু প্রতিশ্রুতি, কিন্তু বাস্তবে কিছুই হয়নি—শুধু প্রতারণা।” তিনি ৪ মে-কে তৃণমূলের “সিন্ডিকেট রাজ” ও “মহা জঙ্গল রাজ”-এর শেষ দিন বলে উল্লেখ করেন।

গঙ্গাসাগর সেতু ও পরিকাঠামো নিয়ে প্রশ্ন

মোদী বলেন, গঙ্গাসাগরে এখনও পর্যন্ত পাকা সেতু তৈরি হয়নি, ফলে মানুষকে এখনও ফেরির ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। প্রতি নির্বাচনের আগে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও পরে তা ভুলে যায় সরকার।

বন্যা ও তটবন্ধ সমস্যা

তিনি অভিযোগ করেন, নদীর ধারের তটবন্ধ খুবই খারাপ অবস্থায় রয়েছে। প্রতি বছর বন্যায় মানুষের ঘরবাড়ি ভেঙে যায়, ফসল নষ্ট হয়, কিন্তু রাজ্য সরকার এই সমস্যার সমাধানে কোনও পদক্ষেপ নিচ্ছে না।

দুর্নীতি ও ‘সিন্ডিকেট রাজ’ প্রসঙ্গ

প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাজ্যে সর্বত্র দুর্নীতি ছড়িয়ে পড়েছে। চাকরি পেতে দুর্নীতি, জমি কিনতে গেলে কাটমানি, বাড়ি বানাতেও সিন্ডিকেটের অনুমতি লাগে—এই অভিযোগও তিনি তোলেন।

মৎস্যজীবীদের জন্য প্রতিশ্রুতি

স্থানীয় মৎস্যজীবীদের সমস্যার কথা তুলে ধরে মোদী বলেন, পর্যাপ্ত কোল্ড স্টোরেজ না থাকায় তারা সঠিক দাম পান না। বিজেপি ক্ষমতায় এলে দক্ষিণবঙ্গকে বড় মৎস্য রপ্তানি কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে। আধুনিক প্রযুক্তি, নিরাপত্তা ও আর্থিক সহায়তার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।

কেন্দ্রীয় প্রকল্প ও অর্থ বরাদ্দ নিয়ে অভিযোগ

তিনি দাবি করেন, বন্যা ও দুর্যোগ মোকাবিলার জন্য কেন্দ্র সরকার হাজার হাজার কোটি টাকা পাঠালেও সেই টাকা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছায় না।

বাংলার উন্নয়নে দ্বৈত সরকার প্রসঙ্গ

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “দেশে বিজেপির প্রধানমন্ত্রী আছে, এখন বাংলায় বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী দরকার। তাহলে উন্নয়নের গতি আরও বাড়বে।”

মেলা ও স্থানীয় উদ্যোগ

মথুরাপুরের ভাঙা মেলার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, বিজেপি এই মেলাকে স্বচ্ছ ভারত মিশনের সঙ্গে যুক্ত করে উন্নত করবে এবং কারিগরদের ডিজিটাল প্রশিক্ষণ ও নিরাপত্তা দেবে।

অনুপ্রবেশ ও নিরাপত্তা প্রসঙ্গ

তিনি অভিযোগ করেন, অবৈধ অনুপ্রবেশ ও পাচার রাজ্যের নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি। বিজেপি এই বিষয়ে “জিরো টলারেন্স” নীতি গ্রহণ করবে বলে জানান।

Exit mobile version