কলকাতা: তিন শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে কলকাতা পূর্ব ভারতের অর্থনীতি, সংস্কৃতি ও প্রশাসনের কেন্দ্রবিন্দু। কিন্তু সময়ের সঙ্গে শহরের জনসংখ্যা বেড়েছে, উপনগর বিস্তৃত হয়েছে, যানবাহনের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং পণ্য পরিবহনের চাপও বহুগুণ বেড়েছে। সেই তুলনায় শহরের সড়ক পরিকাঠামোর সম্প্রসারণ হয়নি। ফলে আজ কলকাতার অন্যতম বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে যানজট।
প্রতিদিন এনএইচ–১৬, এনএইচ–১৯, ডায়মন্ড হারবার রোড, বসন্তী হাইওয়ে-সহ বিভিন্ন জাতীয় ও রাজ্য সড়ক থেকে হাজার হাজার মালবাহী ট্রাক ও ভারী যান কলকাতা মহানগর বা তার সংলগ্ন এলাকাগুলির মধ্য দিয়েই চলাচল করতে বাধ্য হয়। এর ফল অন্তহীন যানজট, দীর্ঘ যাত্রাসময়, অতিরিক্ত জ্বালানি খরচ, বায়ুদূষণ এবং অর্থনৈতিক ক্ষতি। এই প্রেক্ষাপটে প্রস্তাবিত কলকাতা রিং রোড শুধুমাত্র আর একটি রাস্তা নির্মাণের প্রকল্প নয়; বরং আগামী কয়েক দশকের নগর উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক বিকাশের অন্যতম ভিত্তি হয়ে উঠতে পারে।
এই প্রকল্পে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে সম্প্রতি। পশ্চিমবঙ্গ সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে আইআইটি খড়গপুরকে কলকাতা রিং রোড প্রকল্পের পূর্ণাঙ্গ সম্ভাব্যতা সমীক্ষা (Feasibility Survey) পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে। পরিবহন ও সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিশেষজ্ঞদের একটি দল বর্তমানে প্রকল্পের সম্ভাব্য রুট, প্রযুক্তিগত বাস্তবতা, পরিবেশগত প্রভাব, যানবাহনের ভবিষ্যৎ চাপ এবং নির্মাণ ব্যয় নিয়ে বিস্তারিত সমীক্ষা করছে। এই সমীক্ষার ভিত্তিতেই তৈরি হবে প্রকল্পের চূড়ান্ত ব্লুপ্রিন্ট।
প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী
- রিং রোডের দৈর্ঘ্য প্রায় ১৩০ থেকে ২০০ কিলোমিটার হতে পারে।
- এটি হবে চার থেকে ছয় লেনের আধুনিক অরবিটাল এক্সপ্রেসওয়ে।
- কলকাতা মহানগর অঞ্চলকে ঘিরে হাওড়া, হুগলি, উত্তর ২৪ পরগনা এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনা এই চারটি জেলাকে একসঙ্গে যুক্ত করবে।
এই সড়কের মূল উদ্দেশ্য হল দূরপাল্লার মালবাহী ট্রাক এবং আন্তঃজেলা যানবাহনকে শহরের ভেতরে না ঢুকিয়েই গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়া।
কেন দরকার কলকাতা রিং রোড?
বিশ্বের প্রায় সব বড় মহানগরই এখন অরবিটাল বা রিং রোড ব্যবস্থার উপর নির্ভরশীল। দিল্লি, হায়দরাবাদ, বেঙ্গালুরু, বেইজিং, সাংহাই কিংবা লন্ডনের মতো শহরগুলিতে এই ধরনের সড়ক শহরের ভেতরের যানবাহন এবং দূরপাল্লার যান চলাচলকে আলাদা করেছে। কলকাতার ক্ষেত্রেও একটি আধুনিক রিং রোড একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।
যানজট অনেকটাই কমবে
বর্তমানে পশ্চিম, উত্তর, দক্ষিণ ও পূর্ব দিকের জেলাগুলির মধ্যে চলাচলকারী অধিকাংশ ভারী যানবাহনকে শহরের বিদ্যমান রাস্তা ব্যবহার করতে হয়। রিং রোড তৈরি হলে দূরপাল্লার ট্রাক ও বাণিজ্যিক যানবাহন শহরে না ঢুকেই এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে পৌঁছে যেতে পারবে। ফলে ইএম বাইপাস, বেলঘরিয়া এক্সপ্রেসওয়ে, ডায়মন্ড হারবার রোড, বিটি রোড এবং ভিআইপি রোডের মতো গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলির উপর চাপ অনেকটাই কমবে।
সময় ও জ্বালানি সাশ্রয়
যানজট মানেই সময়ের অপচয়, জ্বালানির অতিরিক্ত ব্যবহার এবং পরিবহন খরচ বৃদ্ধি। একটি নিরবচ্ছিন্ন গতির রিং রোড চালু হলে পণ্য পরিবহন দ্রুত হবে, যাত্রাসময় কমবে এবং পরিবহন ব্যয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে। এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে শিল্প, ব্যবসা ও সাধারণ মানুষের উপর।
শক্তিশালী হবে আঞ্চলিক লজিস্টিক নেটওয়ার্ক
এই রিং রোড শিল্পাঞ্চল, বন্দর, গুদাম, লজিস্টিক পার্ক, বিমানবন্দর এবং বিভিন্ন জাতীয় সড়ককে একসঙ্গে যুক্ত করতে পারে। ফলে কলকাতা পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব ভারতের অন্যতম প্রধান পরিবহন ও বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে আরও শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করতে পারবে।
নতুন উন্নয়নের করিডর তৈরি হবে
বিশ্বজুড়েই দেখা গেছে, বড় রিং রোডের আশেপাশে নতুন শিল্পাঞ্চল, আবাসন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বাণিজ্যিক কেন্দ্র এবং লজিস্টিক হাব দ্রুত গড়ে ওঠে। কলকাতার দক্ষিণ ও পূর্ব প্রান্ত বিশেষ করে বারুইপুর, সোনারপুর, ভাঙড়, আমতলা-সহ বিস্তীর্ণ অঞ্চল পরিকল্পিত নগরায়নের নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে। কলকাতার উত্তর ও দক্ষিণ শহরতলি অপেক্ষা পূর্বদিকের বিস্তার ও উন্নতি তুলনামূলক ভাবে কম। মূলত অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা ও সামগ্রিক পরিকাঠামো আশানুরূপ ভাবে উন্নতি হয়নি কলকাতার খুব কাছের এই সব অঞ্চলে। এই কারণে বিভিন্ন অপরাধ চক্রের বাড়বাড়ন্ত এইসব অঞ্চলে রোজকার খবরের শিরোনামে উঠে আসে। উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা তৈরি হলে এই অঞ্চলে আইন শৃঙ্খলার উন্নতিতেও উল্লেখযোগ্য ভাবে সাহায্য করবে।
আগামী ৩০–৫০ বছরের কথা ভেবে পরিকল্পনা
একটি মহানগরের পরিকল্পনা শুধু বর্তমান যানবাহনের চাপ মাথায় রেখে করা যায় না। কলকাতা মহানগর অঞ্চল দ্রুত দক্ষিণ ও পূর্ব দিকে সম্প্রসারিত হচ্ছে। আগামী কয়েক দশকে এই বিস্তৃত অঞ্চলের প্রধান পরিবহন মেরুদণ্ড হয়ে উঠতে পারে কলকাতা রিং রোড।
সম্ভাব্য রুট
চূড়ান্ত রুট এখনও আইআইটি খড়গপুরের সমীক্ষার উপর নির্ভর করছে। তবে প্রাথমিক পরিকল্পনায় যে করিডরগুলির কথা উঠে এসেছে, তার মধ্যে রয়েছে
পশ্চিম ও দক্ষিণ অংশ
বজবজ, মহেশতলা, গার্ডেনরিচ, ডায়মন্ড হারবার রোড, আমতলা, বারুইপুর, সোনারপুর
পূর্ব ও উত্তর অংশ
বসন্তী হাইওয়ে, বসিরহাট, কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ে, বেলঘরিয়া এক্সপ্রেসওয়ে, নিবেদিতা সেতু, ডানকুনি (এনএইচ–১৯), পাঁচলা (এনএইচ–১৬)
পরিকল্পনায় বজবজ–মহেশতলা সংলগ্ন এলাকায় হুগলি নদীর উপর একটি নতুন সেতু নির্মাণের প্রস্তাবও রয়েছে, যা নদীর দুই তীরের জেলাগুলিকে সরাসরি যুক্ত করবে।
সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ জমি অধিগ্রহণ
এই প্রকল্পের সবচেয়ে বড় বাধা প্রকৌশল নয়, জমি অধিগ্রহণ। বিশেষ করে আমতলা, বারুইপুর, সোনারপুর ও ভাঙড়ের মতো এলাকায় ঘনবসতি, ছোট ছোট কৃষিজমি এবং দ্রুত বাড়তে থাকা বসতি প্রকল্প বাস্তবায়নকে কঠিন করে তুলতে পারে। প্রচলিত জমি অধিগ্রহণ পদ্ধতিতে জমির মালিক এককালীন ক্ষতিপূরণ পেলেও, ভবিষ্যতে ওই জমির মূল্যবৃদ্ধির মূল সুবিধা অন্যরা ভোগ করে। ফলে অনেক ক্ষেত্রেই স্বাভাবিকভাবেই আপত্তি ও আইনি জটিলতা তৈরি হয়। তবে এই সমস্যার সমাধানের উদাহরণ ভারতের অন্য শহরেও রয়েছে।
হায়দরাবাদের ল্যান্ড পুলিং মডেল: শেখার মতো দৃষ্টান্ত
ভারতের অন্যতম সফল নগর অবকাঠামো উন্নয়নের উদাহরণ হিসেবে আজও হায়দরাবাদের নাম উচ্চারিত হয়। সেখানে শুধুমাত্র বাধ্যতামূলক জমি অধিগ্রহণের পথ নেওয়া হয়নি। বরং ল্যান্ড পুলিং বা জমি অংশীদারিত্বের একটি মডেল অনুসরণ করা হয়েছিল।
এই ব্যবস্থায়
- জমির মালিকরা স্বেচ্ছায় জমি দেন।
- সরকার রাস্তা ও অন্যান্য অবকাঠামো তৈরি করে।
- উন্নয়ন শেষে জমির একটি অংশ আবার মালিকদের ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
- উন্নত পরিকাঠামোর কারণে জমির মূল্য বহুগুণ বেড়ে যায়।
- সরকার ও জমির মালিক উভয়েই উন্নয়নের সুফল ভাগ করে নেন।
ফলে জমির মালিকরা শুধু ক্ষতিপূরণপ্রাপ্ত ব্যক্তি নন, বরং উন্নয়নের অংশীদার হয়ে ওঠেন। এতে বিরোধ, মামলা এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের বিলম্ব উল্লেখযোগ্যভাবে কমে।
হায়দরাবাদের অভিজ্ঞতা: দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার সফল দৃষ্টান্ত
তৎকালীন বেগমপেট বিমানবন্দর দ্রুত বর্ধনশীল শহরের চাহিদা পূরণে অক্ষম হয়ে পড়ায়, শহরের কেন্দ্র থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দক্ষিণে শামশাবাদে একটি আন্তর্জাতিক মানের নতুন বিমানবন্দর নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়। কিন্তু পরিকল্পনাটি শুধুমাত্র নতুন বিমানবন্দর নির্মাণে সীমাবদ্ধ ছিল না। একই সঙ্গে বিমানবন্দরকে শহর ও জাতীয় সড়কগুলির সঙ্গে দ্রুত সংযুক্ত করতে ১৫৮ কিলোমিটার দীর্ঘ হায়দরাবাদ আউটার রিং রোড (ORR) নির্মাণেরও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই দুই প্রকল্পের প্রথম পর্যায় ২০০৮ সাল থেকেই জনগণের জন্যে খুলেদেওয়া হয়। সময়ের সঙ্গে এই দুটি প্রকল্প একে অপরের পরিপূরক হয়ে ওঠে। নতুন অত্যাধুনিক বিমানবন্দর যেমন আন্তর্জাতিক যোগাযোগের নতুন দ্বার খুলে দেয়, তেমনি আউটার রিং রোড ক্রমশ শহরের চারদিকে দ্রুত যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলে এবং নতুন উন্নয়নের বিশাল ক্ষেত্র তৈরি করে।
আজকের হায়দরাবাদের বিস্তৃত নগরায়ন, আইটি করিডর, শিল্পাঞ্চল, লজিস্টিক পার্ক, আবাসন প্রকল্প এবং নতুন ব্যবসায়িক কেন্দ্রগুলির বড় অংশই এই রিং রোডকে ঘিরে গড়ে উঠেছে। শহরের সম্প্রসারণ এখনও মূলত এই অরবিটাল করিডরকে কেন্দ্র করেই এগিয়ে চলেছে।
এই অভিজ্ঞতা প্রমাণ করে, একটি রিং রোড কেবল যানজট কমানোর প্রকল্প নয়; সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে এটি একটি শহরের অর্থনীতি, বিনিয়োগ, নগরায়ন এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়নের গতিপথই বদলে দিতে পারে।
বেঙ্গালুরুর অভিজ্ঞতা: সতর্কবার্তা
অন্যদিকে বেঙ্গালুরুর পেরিফেরাল রিং রোড প্রকল্প একেবারেই ভিন্ন ছবি তুলে ধরে। জমি অধিগ্রহণে দীর্ঘসূত্রিতা, ক্ষতিপূরণ নিয়ে বিরোধ, আইনি জটিলতা এবং লাগামছাড়া জমির দাম সব মিলিয়ে প্রকল্প বছরের পর বছর পিছিয়ে যায়। এর ফলে প্রকল্পের ব্যয় কয়েকগুণ বেড়ে যায়, অথচ যানজটের সমস্যাও থেকে যায়। এই অভিজ্ঞতা স্পষ্টভাবে দেখিয়ে দেয় সময়মতো জমি সংক্রান্ত সমস্যার সমাধান না হলে ক্ষতির মুখে পড়ে সরকার, সাধারণ মানুষ এবং অর্থনীতি সবাই।
কলকাতার জন্য হতে পারে একটি হাইব্রিড মডেল
কলকাতার বাস্তব পরিস্থিতি হায়দরাবাদের থেকে আলাদা। কারণ প্রস্তাবিত রুটের বহু অংশ ঘনবসতিপূর্ণ আধা-শহুরে অঞ্চলের মধ্য দিয়ে যাবে। তাই বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি হাইব্রিড মডেল বেশি কার্যকর হতে পারে।
যেমন
- অপেক্ষাকৃত কম জনবসতিপূর্ণ এলাকায় ল্যান্ড পুলিং।
- ঘনবসতিপূর্ণ অঞ্চলে বাজারদরের তুলনায় উন্নত ক্ষতিপূরণ।
- পুনর্বাসন ও পুনর্ব্যবস্থাপনার বিশেষ প্যাকেজ।
- গুরুত্বপূর্ণ ইন্টারচেঞ্জের আশেপাশে বাণিজ্যিক উন্নয়নের অধিকার।
- লজিস্টিক পার্ক, শিল্পাঞ্চল ও অর্থনৈতিক অঞ্চলে স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।
এভাবে সরকার ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে একটি দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারিত্ব গড়ে তোলা সম্ভব।
প্রস্তাবিত কলকাতা রিং রোডকে শুধুমাত্র একটি সড়ক প্রকল্প হিসেবে দেখলে ভুল হবে। এটি আসলে পশ্চিমবঙ্গের ভবিষ্যৎ অর্থনীতি, শিল্প, নগরায়ন এবং আঞ্চলিক উন্নয়নের একটি কৌশলগত অবকাঠামো প্রকল্প যার সময় সত্যিই এসে গেছে। সঠিক পরিকল্পনা ও দ্রুত বাস্তবায়ন হলে এই রিং রোড শুধু কলকাতার যানজট কমাবে না; পরিবহন ব্যয় কমাবে, দূষণ হ্রাস করবে, নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ করবে এবং সমগ্র দক্ষিণবঙ্গের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নতুন গতি আনতে পারে। তবে শেষ পর্যন্ত প্রকল্পের সাফল্য নির্ভর করবে জমি অধিগ্রহণ নিয়ে সরকারের দৃষ্টিভঙ্গির উপর। যদি স্বচ্ছতা, জনঅংশগ্রহণ এবং উন্নয়নের সুফল ভাগ করে নেওয়ার নীতি অনুসরণ করা যায় হায়দরাবাদের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবং বাংলার বাস্তবতার সঙ্গে মিলিয়ে তাহলে কলকাতা রিং রোড আগামী দিনের পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম যুগান্তকারী অবকাঠামো প্রকল্প হয়ে উঠতে পারে।

