পশ্চিমবঙ্গের ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে চুঁচুড়া বিধানসভা কেন্দ্রকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমশ বাড়ছে। এই প্রেক্ষাপটে বিজেপির সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করতে এবং প্রার্থী সুবীর নাগের সমর্থনে প্রচারে নামলেন কেন্দ্রের প্রাক্তন মন্ত্রী ও বিজেপি নেত্রী স্মৃতি ইরানি।
প্রচারে জোর, রোড শোতে ভিড়
স্মৃতি ইরানি চুঁচুড়ার কাপাসডাঙা এলাকায় বিজেপির সাংগঠনিক কার্যালয় থেকে তাঁর প্রচার অভিযান শুরু করেন। এরপর তিনি একটি বর্ণাঢ্য রোড শোতে অংশ নেন, যেখানে বিপুল সংখ্যক কর্মী-সমর্থকের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। খোলা গাড়িতে করে এই র্যালি শহরের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ এলাকা পরিক্রমা করে।
সংগঠনিক বৈঠকেও গুরুত্ব
রোড শোর পাশাপাশি স্মৃতি ইরানি স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক বৈঠকও করেন। নির্বাচনী কৌশল, বুথস্তরের সংগঠন মজবুত করা এবং ভোটারদের কাছে পৌঁছনোর পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয় বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
পরিসংখ্যান বলছে কী?
গত লোকসভা নির্বাচনের নিরিখে চুঁচুড়া বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপি উল্লেখযোগ্য ব্যবধানে এগিয়ে ছিল।
- বিজেপি প্রার্থী লকেট চট্টোপাধ্যায় পেয়েছিলেন: ১,১২,৭৬০ ভোট
- তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় পেয়েছিলেন: ১,০৪,৪৯৬ ভোট
- ব্যবধান: ৮,২৬৪ ভোট
এই ফলাফল বিজেপির জন্য একটি ইতিবাচক ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা এবারের বিধানসভা নির্বাচনে দলকে বাড়তি আত্মবিশ্বাস দিচ্ছে।
চুঁচুড়া কেন্দ্রটি হুগলি জেলার একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক কেন্দ্র। এখানে শক্তিশালী সংগঠন গড়ে তোলা এবং ভোটের ব্যবধান বাড়ানো বিজেপির অন্যতম লক্ষ্য। স্মৃতি ইরানির এই প্রচার কর্মসূচি সেই কৌশলেরই অংশ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
স্মৃতি ইরানির উপস্থিতি এবং জোরদার প্রচার চুঁচুড়ায় বিজেপির নির্বাচনী লড়াইকে নতুন গতি দিয়েছে। এখন দেখার বিষয়, এই প্রচার কতটা প্রভাব ফেলে ভোটের ফলাফলে এবং সুবীর নাগ কতটা এই সমর্থনকে ভোটে রূপান্তর করতে পারেন।

