কলকাতা: দেশজুড়ে বর্ষার অপেক্ষা প্রায় শেষ হতে চলেছে। আবহাওয়া দফতরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু দ্রুত শক্তিশালী হচ্ছে এবং আগামী ৪ জুনের কাছাকাছি সময়ে কেরলমে প্রবেশ করতে পারে। এর মাধ্যমে দেশে আনুষ্ঠানিকভাবে বর্ষার সূচনা হবে। পশ্চিমবঙ্গে আসার সম্ভবনা ৫ থেকে ১০ জুনের মধ্যে। স্বাভাবিকভাবে উত্তরবঙ্গে প্রবেশের সম্ভবনা ৫ থেকে ১০ জুনের মধ্যে হলেও দক্ষিণবঙ্গে আসতে আসতে ১০ থেকে ১৫ জুন হয়ে যায়। তবে এবার স্বাভাবিকের থেকে কয়েকদিন বিলম্ব হবার সম্ভবনা আছে।
আবহাওয়ার পরিস্থিতি বর্তমানে বর্ষার অনুকূলে রয়েছে। আগামী দুই দিনের মধ্যে মৌসুমি বায়ুর অগ্রগতি আরও দ্রুত হতে পারে। আরব সাগরের বিভিন্ন অংশ, লক্ষদ্বীপ, কেরল এবং তামিলনাড়ুতে বৃষ্টির কার্যকলাপ বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে বঙ্গোপসাগরেও মৌসুমি আবহাওয়া সক্রিয় হয়ে উঠছে।
আগামী সাত দিনে কেরলের কয়েকটি এলাকায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। কোথাও কোথাও ৭ থেকে ২০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টি রেকর্ড হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে তামিলনাড়ু ও কর্ণাটকের বিভিন্ন এলাকায় আগামী ৬ থেকে ৭ দিনের মধ্যে ৭ থেকে ১১ সেন্টিমিটার পর্যন্ত ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে।
মৌসুমি বায়ুর অগ্রগতির জন্য বর্তমানে পরিস্থিতি অনুকূল রয়েছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে দক্ষিণ-পশ্চিম এবং দক্ষিণ-পূর্ব আরব সাগরের কিছু অংশ, লক্ষদ্বীপ, কেরল, তামিলনাড়ু এবং বঙ্গোপসাগরের মধ্য ও উত্তর-পূর্ব অংশে মৌসুমি বায়ু আরও সক্রিয় হয়ে উঠতে পারে। আবহাওয়াবিদদের মতে, ৪ জুনের কাছাকাছি সময়ে মৌসুমি বায়ুর আরও অগ্রগতি দেখা যেতে পারে।
পাঞ্জাব ও রাজস্থানের কিছু জেলায় ঝড়-বৃষ্টির সতর্কতা জারি করা হয়েছে। রাজস্থানের মরু অঞ্চলে ধুলিঝড় ও হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। জম্মু ও কাশ্মীর এবং উত্তরাখণ্ডে শিলাবৃষ্টি, বজ্রপাত ও প্রবল হাওয়া বয়ে যেতে পারে।
মধ্যপ্রদেশ ও ছত্তিশগড়ে ঘণ্টায় ৫০ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। বিহারের বেশিরভাগ জেলায় তাপপ্রবাহের পরিস্থিতি বজায় থাকবে। দুপুরের সময় লু বইতে পারে। ওড়িশা ও পশ্চিমবঙ্গের উপকূলবর্তী এলাকায় গরম ও আর্দ্র আবহাওয়া অনুভূত হবে।
উত্তরবঙ্গের পাহাড়ি অঞ্চল ও সিকিমে কয়েকটি জায়গায় ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ঝাড়খণ্ডে বজ্রবিদ্যুৎসহ হালকা বৃষ্টি এবং দমকা হাওয়া বইতে পারে।
দক্ষিণ ভারতে কেরল ও উপকূলীয় কর্ণাটকে ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করা হয়েছে। অন্ধ্রপ্রদেশ, তেলেঙ্গানা এবং তামিলনাড়ুর বিভিন্ন জেলায় বজ্রবিদ্যুৎসহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
উত্তর-পূর্ব ভারতের অসম, মেঘালয়, মণিপুর, মিজোরাম ও ত্রিপুরায় গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ার পাশাপাশি বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
সামগ্রিকভাবে আগামী কয়েক দিনে দেশের কোথাও তীব্র গরম, কোথাও ভারী বৃষ্টি, আবার কোথাও ঝড় ও শিলাবৃষ্টির পরিস্থিতি দেখা যেতে পারে। যদিও এখনও কেরালায় বর্ষার আনুষ্ঠানিক আগমনের ঘোষণা হয়নি, তবে আবহাওয়া পরিস্থিতি অনুকূল থাকায় আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যেই সেই ঘোষণা আসতে পারে।

