কলকাতা, ১১ মে: পশ্চিমবঙ্গ সরকার শিক্ষা দপ্তরের অধীন বিভিন্ন বোর্ড, সংস্থা ও প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠানে মেয়াদ বৃদ্ধি এবং অবসরোত্তর পুনর্নিয়োগের বিরুদ্ধে বড় প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
বিকাশ ভবন থেকে জারি হওয়া স্কুল শিক্ষা দপ্তরের প্রশাসনিক শাখার এক সরকারি নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে যে, স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্য বিষয়ক দপ্তরের নির্দেশ অনুসারে সংশ্লিষ্ট সমস্ত কর্তৃপক্ষকে অবিলম্বে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।
১১ মে ২০২৬ তারিখে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বিশেষ সচিব স্বাক্ষরিত এই নির্দেশিকা শিক্ষা দপ্তরের একাধিক শীর্ষ আধিকারিক এবং বিভিন্ন শিক্ষা সংস্থার প্রধানদের কাছে পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছেন স্কুল শিক্ষা কমিশনার, পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ (WBBSE), উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ (WBCHSE), স্কুল সার্ভিস কমিশন, SCERT সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের কর্তারা।
অবিলম্বে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ
স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্য বিষয়ক দপ্তরের কো-অর্ডিনেশন শাখার একটি চিঠির উল্লেখ করে এই নির্দেশিকায় দুই ধরনের নিয়োগ অবিলম্বে বাতিল করার কথা বলা হয়েছে—
১. বিভিন্ন বোর্ড, সংস্থা, অ-সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান, সরকারি উদ্যোগ এবং অন্যান্য সংগঠনে মনোনীত সদস্য, ডিরেক্টর ও চেয়ারম্যানদের মেয়াদ।
২. স্কুল শিক্ষা দপ্তর এবং তার প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণাধীন অফিসগুলিতে ৬০ বছর বয়সের পর কর্মরত আধিকারিক ও কর্মচারীদের পুনর্নিয়োগ বা চাকরির মেয়াদ বৃদ্ধি।
সরকার সমস্ত সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও সংস্থাকে দ্রুত কমপ্লায়েন্স রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে, যাতে তা পরবর্তী পর্যায়ে স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্য বিষয়ক দপ্তরে পাঠানো যায়।
প্রশাসনিক ক্ষেত্রে বড় প্রভাবের আশঙ্কা
এই সিদ্ধান্তের ফলে রাজ্যের শিক্ষা প্রশাসনের একাধিক বোর্ড, কমিশন ও মিশনে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে বলে প্রশাসনিক মহলে মনে করা হচ্ছে।
যেসব প্রতিষ্ঠানে এই নির্দেশ পাঠানো হয়েছে, তাদের মধ্যে রয়েছে—
- পশ্চিমবঙ্গ সেন্ট্রাল স্কুল সার্ভিস কমিশন
- পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ
- পশ্চিমবঙ্গ উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ
- পশ্চিমবঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ
- পশ্চিমবঙ্গ সমগ্র শিক্ষা মিশন
- রবীন্দ্র মুক্ত বিদ্যালয় শিক্ষা পরিষদ
- মিড-ডে মিল প্রকল্প দপ্তর
রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক গুরুত্ব
সাম্প্রতিক সময়ে সরকারি সংস্থাগুলিতে অবসরোত্তর চাকরির মেয়াদ বৃদ্ধি এবং রাজনৈতিকভাবে মনোনীত পদ নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা ও বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। এই পরিস্থিতিতে সরকারের এই পদক্ষেপকে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও নিয়ম মেনে চলার প্রচেষ্টা হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
যদিও সরকারিভাবে এই সিদ্ধান্তের নির্দিষ্ট কারণ জানানো হয়নি, প্রশাসনিক পর্যবেক্ষকদের মতে রাজ্যের বিভিন্ন সংস্থায় নিয়োগ ও পরিষেবা সংক্রান্ত নিয়ম কঠোরভাবে কার্যকর করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
স্কুল শিক্ষা দপ্তর ইতিমধ্যেই সমস্ত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ এবং বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।

