কলকাতা, ২৪ শে জুন: পশ্চিমবঙ্গের নতুন বিজেপি সরকার শপথ গ্রহণের পর রাজ্যের বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে দৃশ্যমান পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। রাজ্য সড়কের দীর্ঘদিনের নীল-সাদা রঙের আধিপত্য সরিয়ে বহু জায়গায় আন্তর্জাতিক ট্রাফিক মানদণ্ড অনুসারে নতুন রঙ ও চিহ্নায়ন করা হচ্ছে। অশোকস্তম্ভকে আগের মর্যাদায় ফিরিয়ে আনা হয়েছে।
এছাড়া, বিতর্কিত ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত সোরাবর্দির নামে থাকা একটি রাস্তার নাম পরিবর্তন করে হিন্দু সমাজের রক্ষক হিসেবে পরিচিত গোপাল মুখার্জির নামে নামকরণ করা হয়েছে। শহরের বিভিন্ন প্রান্তে রাস্তার ধারে থাকা তৃণমূলের সরকারের প্রচারমূলক হোর্ডিংও ৪ তারিখ দুপুরের পর থেকেই দ্রুত সরিয়ে ফেলা হয়।
পূর্বতন সরকারের মস্তিস্ক প্রসূত কিম্ভুত ‘বিশ্ববাংলা’ প্রতীক, যা দুর্নীতির প্রতীক হিসেবে পরিচিত ছিল, তাও বহু জায়গা থেকে অপসারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের ওয়েবসাইট থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাস্যোজ্জ্বল ছবিও সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। কিছু ওয়েবসাইটে, যেমন খাদ্য দপ্তরের পোর্টালে, বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ছবি দেখা যাচ্ছে।
বেশিরভাগ সরকারি ওয়েবসাইট থেকেই নীল-সাদা থিম বিদায় নিয়েছে। যদিও বিদ্যুৎ দপ্তর, পাবলিক সার্ভিস কমিশন (পিএসসি), হেলথ রিক্রুটমেন্ট বোর্ড এবং পুলিশ বিভাগের মতো কয়েকটি সাইটে এখনও পুরনো নীল-সাদা রঙের ব্যবহার বজায় রয়েছে। এ বিষয়ে বিধানসভায় বিজেপি বিধায়ক মানব গুহর মন্তব্য কাকতালীয় হলেও প্রযোজ্য , “পুলিশ বিভাগে এখনও কোনও পরিবর্তন হয়নি। তারা এখনও তৃণমূলের পুরনো ধ্যানধারণার মধ্যেই রয়েছে।”
অন্যদিকে, অধিকাংশ ওয়েবসাইটে গেরুয়ার বিভিন্ন শেডের ব্যবহার দেখা গেলেও শিল্প দপ্তরের ওয়েবসাইটটি তুলনামূলকভাবে বেশি রঙিন। সেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) দ্বারা নির্মিত ব্যানারও ব্যবহার করা হয়েছে।
তবে এত পরিবর্তনের মধ্যেও রাজ্য সরকারের মূল ওয়েবসাইটে এখনও ‘এগিয়ে বাংলা’ স্লোগানটি বহাল রয়েছে। এই স্লোগানটি পূর্বতন সরকারের আমলে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়েছিল। নতুন রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সেটি এখনও সরকারি পোর্টালে থাকা নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা ও বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।
একাংশের ধারণা, বিষয়টি হয়তো প্রশাসনিক নজর এড়িয়ে গেছে এবং শীঘ্রই তা সরিয়ে ফেলা হবে। তাঁদের মতে, বর্তমান সরকার কাজের মাধ্যমে বাংলাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চায়; সে ক্ষেত্রে আলাদা করে কোনও স্লোগানের প্রয়োজন নেই।
অন্যদিকে, আরেকটি মহলের ধারণা, সরকার হয়তো সচেতনভাবেই ‘এগিয়ে বাংলা’ স্লোগানটি বজায় রাখতে চাইছে। তবে এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি।

