Site icon Jist Feed

পশ্চিমবঙ্গ বাজেট ২০২৬-২৭: শিক্ষায় ₹২,১০০ কোটি, উত্তরবঙ্গে IIT-IIM, ১,০০০ Atal Tinkering Lab, STEM-এ মেয়েদের জন্য বিশেষ উদ্যোগ – প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনে নতুন দিগন্ত

Sience & technology

পশ্চিমবঙ্গ বাজেট ২০২৬-২৭: শিক্ষা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে বড় বাজি রাজ্য সরকারের

কলকাতা, ২৩ জুন: পশ্চিমবঙ্গের ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের বাজেটে শিক্ষা, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও ভবিষ্যৎ দক্ষতা উন্নয়নকে অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরেছে রাজ্য সরকার। “জ্ঞান শক্তি” (Gyaan Shakti) অধ্যায়ের মাধ্যমে মানবসম্পদ উন্নয়ন, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা, উদ্ভাবন, গবেষণা এবং শিল্পের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ জনশক্তি তৈরির একটি দীর্ঘমেয়াদি রূপরেখা ঘোষণা করা হয়েছে।

সরকারের দাবি, আগামী দশকের অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতায় পশ্চিমবঙ্গকে এগিয়ে রাখতে শিক্ষা ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রেই সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ করা হবে। বাজেটে স্কুল শিক্ষা থেকে উচ্চশিক্ষা, প্রযুক্তিগত শিক্ষা, STEM গবেষণা, অ্যানিমেশন-ভিএফএক্স, ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থান এবং উদ্ভাবনী সংস্কৃতি গড়ে তোলার একাধিক কর্মসূচির ঘোষণা করা হয়েছে। 

শিক্ষাক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ঘোষণা

রাজ্য সরকার নির্বাচিত বিদ্যালয়গুলিকে আধুনিক “মডেল স্কুল” হিসেবে গড়ে তুলতে PM-SHRI প্রকল্পে ₹২,১০০ কোটি বরাদ্দ ঘোষণা করেছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে স্মার্ট ক্লাসরুম, দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা, প্রযুক্তি-সমৃদ্ধ শিক্ষণ ব্যবস্থা এবং জাতীয় শিক্ষানীতির (NEP) বিভিন্ন উপাদান বাস্তবায়নের লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

এছাড়া উত্তরবঙ্গে একটি IIT এবং একটি IIM প্রতিষ্ঠার উদ্যোগের কথা ঘোষণা করা হয়েছে, যা উত্তরবঙ্গের উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়নে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

বিজ্ঞান ও উদ্ভাবনে জোর

স্কুল স্তর থেকেই বৈজ্ঞানিক চিন্তাভাবনা ও উদ্ভাবনী মনোভাব গড়ে তুলতে রাজ্য সরকার ১,০০০টি Atal Tinkering Lab স্থাপনের ঘোষণা করেছে। এর জন্য ₹২০০ কোটি বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

এই ল্যাবগুলিতে –

এর মতো কার্যক্রম পরিচালিত হবে। উদ্দেশ্য হল শিক্ষার্থীদের সমস্যা সমাধান, প্রযুক্তিগত দক্ষতা এবং উদ্যোক্তা মনোভাব গড়ে তোলা।

STEM-এ মেয়েদের অংশগ্রহণ বাড়াতে বিশেষ উদ্যোগ

বাজেটে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত (STEM) ক্ষেত্রে মেয়েদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

সরকার ঘোষণা করেছে –

এই উদ্যোগগুলি নারী শিক্ষার প্রসার এবং STEM ক্ষেত্রে লিঙ্গ বৈষম্য কমাতে সহায়ক হতে পারে।

উচ্চশিক্ষা ও গবেষণায় নতুন দিশা

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়কে “Institute of Excellence” হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

এই প্রকল্পে –

উৎসঅর্থ
কেন্দ্রীয় সরকার₹১,০০০ কোটি
রাজ্য সরকার₹২৫০ কোটি
মোট₹১,২৫০ কোটি

পাঁচ বছরের মধ্যে এই অর্থ ব্যয় করে গবেষণা, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং অবকাঠামো উন্নয়ন করা হবে।

বিশ্ববিদ্যালয় টাউনশিপ

শিল্প করিডরের আশেপাশে নতুন বিশ্ববিদ্যালয় টাউনশিপ তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যেখানে বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয় এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার সহযোগিতায় উচ্চশিক্ষার সমন্বিত পরিবেশ গড়ে তোলা হবে।

প্রযুক্তিগত শিক্ষা ও স্কিল ডেভেলপমেন্ট

শিল্পের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ কর্মী তৈরির লক্ষ্যে PM-SETU প্রকল্পে ₹৫৭০ কোটি বরাদ্দ করা হয়েছে।

এই প্রকল্পের মাধ্যমে –

প্রদান করা হবে।

এছাড়া IIT-JEE, NEET, CAT, CA এবং UPSC পরীক্ষার্থীদের জন্য প্রতিটি জেলায় বিনামূল্যে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গড়ে তোলার ঘোষণা করা হয়েছে।

AI, ডিজিটাল কনটেন্ট ও ভবিষ্যৎ প্রযুক্তি

যদিও বাজেটে সরাসরি “Artificial Intelligence Mission” ঘোষণা করা হয়নি, তবে AI-ভিত্তিক ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থানের জন্য প্রয়োজনীয় ডিজিটাল দক্ষতা গঠনে বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

রাজ্য সরকার প্রতি বছর প্রায় ১ লক্ষ যুবক-যুবতীকে AVGC-XR (Animation, Visual Effects, Gaming, Comics, Extended Reality) ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণ দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।

এর পাশাপাশি –

এর জন্য ₹৫০ কোটি বরাদ্দ করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই খাতগুলি ভবিষ্যতের AI-নির্ভর সৃজনশীল অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

বাজেটের গুরুত্বপূর্ণ পরিসংখ্যান

প্রকল্পবরাদ্দ
PM-SHRI স্কুল₹২,১০০ কোটি
Atal Tinkering Lab (১,০০০ স্কুল)₹২০০ কোটি
সংস্কৃত কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় উন্নয়ন₹৫০ কোটি
PM-SETU (ITI আধুনিকীকরণ)₹৫৭০ কোটি
AVGC-XR ও Content Creator Lab₹৫০ কোটি
Sports University₹১৫০ কোটি
প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার্থীদের সহায়তা₹৩০ কোটি
Jadavpur University Excellence Project₹১,২৫০ কোটি (৫ বছরে)

বিশেষজ্ঞদের মতে PM-SHRI এবং Atal Tinkering Lab-এর মতো প্রকল্পগুলি বাস্তবায়িত হলে স্কুল স্তরে উদ্ভাবনী শিক্ষার পরিবেশ তৈরি হবে। AVGC-XR, কোডিং, রোবোটিক্স এবং STEM শিক্ষায় বিনিয়োগ ভবিষ্যতে AI ইকোসিস্টেম তৈরির ভিত্তি তৈরি করবে। উত্তরবঙ্গে IIT ও IIM স্থাপনের ঘোষণা বাস্তবায়িত হলে রাজ্যের জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতিতে বড় পরিবর্তন আসতে পারে।

২০২৬-২৭ সালের পশ্চিমবঙ্গ বাজেটে শিক্ষা, প্রযুক্তি, বিজ্ঞান ও দক্ষতা উন্নয়নকে অর্থনৈতিক রূপান্তরের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। স্কুল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়, STEM থেকে ডিজিটাল কনটেন্ট, প্রযুক্তিগত শিক্ষা থেকে গবেষণা—প্রায় প্রতিটি স্তরেই বড় বিনিয়োগের ঘোষণা এসেছে। তবে এই ঘোষণাগুলির প্রকৃত সাফল্য নির্ভর করবে বাস্তবায়নের গতি ও কার্যকারিতার উপর।

শিক্ষা ও প্রযুক্তিতে এই বিনিয়োগ যদি নির্ধারিত সময়ে বাস্তবায়িত হয়, তবে আগামী দশকে পশ্চিমবঙ্গের মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতির ক্ষেত্রে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে পারে।

Exit mobile version