কল্পিত চিত্রণ
লাভ জেহাদের ছায়া কর্পোরেট দুনিয়াতে।
আসিফ আনসারি নামের এক ব্যক্তি একটি অফিসে এক হিন্দু মহিলাকে বলে যে, “তোমরা বোরখা পরো না বলেই হিন্দু মহিলাদের ধর্ষণ হয়।” এর পরে রেজা মেনন নামের আরেক ব্যক্তি প্রায়ই হিন্দু মহিলাদের বলে যে, “তোমাদের হিন্দু ধর্মের যত দেবতা আছেন, তারা তো নগ্ন হয়ে ঘোরেন।” এই একই ব্যক্তি, রেজা মেনন, পরে মহারাষ্ট্রের একটি বিখ্যাত উৎসব গুড়ি পাডওয়া উদযাপনের সময় মহিলাদের শাড়ির আঁচল টেনে টেনে তাদের বারবার অপমান করার চেষ্টা করে।
এটাই হল তথাকথিত টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিস —দেশের অন্যতম সেরা এবং সবচেয়ে পরিচিত কোম্পানি, যেখানে চাকরি পাওয়ার জন্য মানুষ গর্ব অনুভব করে। নাসিকের অশোকা মার্গে অবস্থিত টিসিএস-এর একটি বিপিও ইউনিট, যা অ্যাক্সিস ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ড কালেকশন ডেটা ম্যানেজ করত, সেখানে ছয়জন মুসলিম ব্যক্তি—শাহরুখ কুরেশি, রেজা মেনন, আসিফ আনসারি, তৌসিফ আত্তার, দানিশ শেখ, শফি শেখ—এবং এইচআর ম্যানেজার নিদা খান ও অশ্বিনী চেনানি—মিলে ২০২২ থেকে ২০২৬ পর্যন্ত বিভিন্নভাবে হিন্দু মহিলাদের যৌন শোষণ করেছে, তাদের মানসিকভাবে প্রভাবিত করেছে এবং তাদের হিন্দু ধর্ম অনুসরণ করার জন্য উপহাস করেছে।
এই ঘটনা শুরু হয় ২০২২ সালের জানুয়ারিতে, যখন দানিশ শেখ নামের একজন ব্যক্তি তার নিজের কলেজের এক ২৩ বছর বয়সী হিন্দু ছাত্রীকে প্রলোভন দেয় যে সে তাকে টিসিএসে চাকরি পাইয়ে দেবে। ধীরে ধীরে সে ওই মহিলার সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করে এবং শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তোলে, তারপর বিয়ের মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাকে টিসিএসে যোগদান করায়।
টিসিএসে যোগ দেওয়ার পর ওই মহিলার পরিচয় হয় দানিশ, তৌসিফ এবং এইচআর ম্যানেজার নিদা খানের সঙ্গে, যারা বারবার তাকে হিন্দু ধর্ম ছেড়ে ইসলাম গ্রহণ করার জন্য চাপ দিতে থাকে।
এই ঘটনার তদন্ত সামনে আসে, যখন ঘটনার শিকার হওয়া এক মহিলার অভিভাবক, কিছুদিন ধরে কন্যার আচার আচরণে অস্বাভাবিকতা লক্ষ্য করেন। কিছু বুঝে উঠতে না পেরে স্থানীয় পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেন । পুলিশ খুব গুরুত্বের সঙ্গে বিষয় টার গভীরতা উপলব্ধি করেন। রোমাঞ্চকর অ্যাকশন প্ল্যান সাজানো হয়। নাসিকে সাতজন মহিলা পুলিশ কর্মী টিসিএসে কর্মী সেজে যোগ দেন এবং গোপন অভিযানের মাধ্যমে নিজেরাই এই হয়রানির অভিজ্ঞতা প্রত্যক্ষ করেন এবং প্রায় ছমাস ধরে খুব সতর্কতার সঙ্গে, প্রমান সংগ্রহ করেন। অভিযুক্তরা গ্রেপ্তার হয়। তারপর একটি বিস্তারিত রিপোর্ট তৈরি করে বিশেষ তদন্ত দল এই ঘটনা প্রকাশ করে। সোশ্যাল মিডিয়ার দৌলতে ভাইরাল হয় এই খবর। পরে ন্যাশনাল মিডিয়া এক এক করে খবর করতে শুরু করে।
স্তম্ভিত করে ঘটনার কার্য পদ্ধতি ও সময়কাল; প্রমানিত হয়, এটা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। একটা বৃহত্তর এজেন্ডা, সুনিপুন প্ল্যানিং এর মধ্যে জড়িত। এতদিন লাভ জেহাদ নিয়ে কেবল হিন্দুত্ববাদীরা সরব ছিল। এবারে লাভ জেহাদের ছায়া white কলার কর্পোরেট দুনিয়াতেও প্রতিষ্ঠিত হল। একবার ভাবুন, অভিযুক্তরা সবই তো ওই ২১ থেকে ২৫ এর মধ্যে। ওই বয়সের অন্যান্য কর্মীরা যেখানে কাজ নিয়ে ব্যাস্ত। এক দল মুসলমান জিহাদি, দল পাকিয়ে, দীর্ঘ দিন ধরে হিন্দু ধর্মের বিরুদ্ধে মাস্টার প্ল্যান এক্সেকিউট করছে। হিন্দু ধর্মের মহিলাদের ধর্ম পরিবর্তন করে ঘাজবা-এ-হিন্দ এর লক্ষ্যে কাজ করে চলেছে। এই সব জেহাদি যুবক, যে কোনোমতেই জাতীয়তাবাদী ভারতীয় নয় সে কথা হলফ করে বলা যায়। পাকিস্তান জিতলে এই জেহাদি মস্তিস্ক গুলোই বাজি ফাটায়।
সেকুলার পন্থীরা লাভ জেহাদ এর অস্তিত্ব মানতে চাইতো না। কি বলবে তারা এবার ? নাকি এবারেও তারা বিভিন্ন কথার মারপ্যাঁচ এ এড়িয়ে যাবে।
এই ধরণের জেহাদি যদি TCS এর হয়ে অ্যাক্সিস ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ড কালেকশন ডেটা ম্যানেজ করে, তাহলে গ্রাহকদের বেক্তিগত তথ্য কতটা সুরক্ষিত থাকবে সে বিষয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। জাতীয় নিরাপত্তার দিক থেকে এটা খুবই গুরুর্ত্বপূর্ণ ।
সম্প্রতি যখন এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসে, তখন টিসিএস একটি সাধারণ পিআর বিবৃতি দেয়—“জিরো টলারেন্স, কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, চার বছর ধরে যখন এসব চলছিল, তখন কী করা হচ্ছিল? কেন চার বছর ধরে এইসব ঘটনা চলার পরও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হল— এই ঘটনা নিয়ে এত সেকুলারপন্থীরা চুপচাপ কেন ? যদি অন্য কোনো ধর্মের মহিলা এতে জড়িত থাকতেন, তাহলে কি একইভাবে চুপ থাকত ?
হিন্দু সমাজের দায় –
নাসিকে যা হয়েছে তাতে হিন্দুদের দোষ কোনো অংশে কম নয়, কারণ আমরা আমাদের ইতিহাস থেকে কিছুই শিখিনি । আমরা একটু বেশি ওপেন-মাইন্ডেড। আমরা কোনো বিধিনিষেধ মানিনা না, সামাজিক নিয়মএর ধার ধারিনা, যারা মেনে চলে, তাদের উপহাস করি —এটাই ট্রেডিশনে এসে দাঁড়িয়েছে। কি করছিলো বাকি হিন্দু সহকর্মীরা ? চার বছর ধরে ঘটনা টের পায়নি একথা বিশ্বাস করা কঠিন। শুধুই কি সপ্তাহে পাঁচ দিন কাজ, আর সপ্তাহের শেষে মুভি, শপিং মল আর আইপিএল ? ১৫ই আগস্ট তিরঙ্গা দিয়ে কিউবিকেল সাজানো আর এথনিক ড্রেসে ফ্যাশন প্যারেড ? আর ভারত পাকিস্তানের খেলা হলে জাতীয়তা বাদের ফুলঝুরি ? অফিসের মধ্যে এতো বড় জেহাদি কার্যকলাপ চারবছর ধরে তিল তিল করে বিস্তার লাভ করলো তা যদি চেতনায় ধরা না পড়ে বা দেখেও এড়িয়ে গেলে কালসর্প যখন নিজের ঘরে এসে ঢুকবে , তখন কিছু আর করার থাকবেনা।
এমন খবর কিছু বজ্জাত মিডিয়া ধামাচাপা দেবে ।বলবে এটা ফেক বা প্রোপাগান্ডা। আর্তের কান্না শান্তির নামে চাপা পড়ে যায়। বড় বড় মিডিয়া আউটলেট এই বিষয়গুলোকে ছোট করে দেখানোর চেষ্টা করবে। কোম্পানির HR অফিসাররা অভিযোগ শোনার বদলে চাপা দেবে, কারণ একটা নির্দিষ্ট ধর্মকে আঘাত দিতে চায়না। প্রতিবাদ সর্বদা সিলেক্টিভ —কারও অনুভূতি গুরুত্বপূর্ণ, আর কারও সমস্যা গুরুত্বপূর্ণ নয়।
এটা একটা সংগঠিত র্যাকেট। এই কেসে SIT হয়েছে, FIR হয়েছে, NIA তদন্ত করছে । যারা “Kerala Story”-র মতো সিনেমাকে প্রোপাগান্ডা বলে উড়িয়ে দিয়েছিলো, তাদের এখন খুঁজে পাওয়া যাবে না। এই শ্রেণীর সেকুলার মুখোশধারী সমাজের সবচেয়ে বড় সমস্যা — এরা চায় ভবিষৎ হিন্দু প্রজন্ম নিজের ধর্ম কে না জানুক।
ভারত হাজার বছরের সংস্কৃতি ধরে রেখেছে—আমরাই একমাত্র প্রাচীন সভ্যতা যা টিকে আছে। অন্য সভ্যতাগুলো হারিয়ে গেছে।
একটা পরিকল্পিত প্রচেষ্টা চলে আমাদের শিকড় থেকে দূরে সরানোর। বলা হয় আমাদের সবকিছু খারাপ।
মানুষকে বোঝানো হয়—একবার ধর্ম বদলাও, সব সমস্যা শেষ। বলিউড মার্কা সিনেমা গুলোতেও এই বক্তব্য প্রচারিত হয়।
সত্যি বলতে—এটা আমাদেরও দোষ। হিন্দুরা ঐক্যবদ্ধ হই না, ধর্মীয় জ্ঞান অর্জন করি না। আমাদের ওপেন-মাইন্ডেডনেসকে দুর্বলতা হিসেবে দেখা হয়। যখন অপরাধকে “কমিউনাল হারমনি”-র নামে উপেক্ষা করা হয়—অপরাধীরা আরও সাহসী হয়ে ওঠে।
আমরা ভিকটিমদেরই দোষ দিই। আমাদের শিক্ষাদীক্ষার গভীরতা এমন জায়গায় এসে পৌঁছছে, যে কেউ যদি আমাদের দেবতা নিয়ে প্রশ্ন করে—আমাদের কাছে উত্তর থাকে না। তাই আমরা ভুল তথ্য বিশ্বাস করি এবং নিজেদের ধর্মকে হীন মনে করি।
ধর্ম ব্যক্তিগত বিষয়। কেউ অন্যের বিশ্বাসকে অপমান করতে পারে না।
সম্মান দু’দিক থেকেই আসতে হবে।যেমন রমজানে আমরা কাউকে জোর করে খেতে বলি না—তেমনি আমাদের বিশ্বাসকেও সম্মান করতে হবে। কারণ এটা তাদের পছন্দ। তাহলে মানুষদের জন্য এটা বোঝা এত কঠিন কেন যে গরুর মাংস না খাওয়াও আমাদের পছন্দ?
দ্বিচারিতা চলতে পারে না।
এই সব সহ্য করতে করতে হিন্দুসমাজ প্রতিরোধ করতে ভুলে গেছে। এটা আত্মরক্ষার আহ্বান। এটা সেইসব সংগঠনকে অর্থ সাহায্য করার আহ্বান, যারা ধর্মান্তর রোধ করে। এটা ছোট ছোট মন্দিরগুলোকে রক্ষা ও সহায়তা করার আহ্বান, যাতে আমাদের ধর্ম টিকে থাকে।
অভিভাবকদের কর্তব্য —আপনার সন্তানদের আমাদের দেব-দেবীদের সম্পর্কে শেখান। আমাদের মহাকাব্য সম্পর্কে শেখান। আমাদের নীতিবোধ শেখান। সংস্কৃত শিখুন। আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ—আপনার সন্তানদের শেখান যে সবাই ভালো নয়।
আপনি আপনার সন্তান কে শেখালেন সব ধর্ম সমান। আবার আর একজন পিতা, তার সন্তানকে শেখালো আপনাকে ‘কাফির’ বলতে, তাহলে তাদের দৃষ্টিতে সব ধর্ম সমান নয়। যদি তারা আপনাকে কাফির বলে, তাহলে তারা আপনাকে মানুষ হিসেবে নয়, নিকৃষ্ট হিসেবে দেখে। তাহলে আপনার সন্তান এবং সেই পিতার সন্তানএর সম্পর্কের সমীকরণ টা ভবিষ্যতে কি হবে। এরকম স্বপ্ন আপনি দেখতেই পারেন। আপনার দুজন সন্তান ভাবছে সব ধর্ম সমান। আর পরম বিশ্বাসে চোখ বুজিয়ে আছে। আর সেই পিতার আটজন সন্তান আপনার সন্তান কে আট দিক থেকে ঘিরে আছে আর কাফের এর দৃষ্টিতে দেখছে।
ভারত টিকে আছে কারণ আমাদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য কেউ ধ্বংস করতে পারেনি । আমাদের পূর্বপুরুষদের পুন্য কর্ম এই দেশকে রক্ষা করছে। এটা কখনো ভুলে গেলে চলবে না।
যদি আমরা চাই যে নাসিকের মতো ঘটনা আর কারও সঙ্গে না ঘটুক, তাহলে আধুনিক প্রজন্মকে শিকড়ের সঙ্গে যুক্ত হতে হবে, আমাদের সংস্কৃতি বুঝতে হবে, ধর্মান্তরের অপপ্রথা বন্ধ করতে হবে, কর্মক্ষেত্রকে নিরাপদ করতে হবে। যদি কর্মক্ষেত্রে শোষণ অথবা লাভ জেহাদের ঘটনা ঘটে তাহলে সেটাকে চাপা না দিয়ে সমাধান খুঁজতে হবে। আমাদেরই এই কাজ করতে হবে।
About The Author
Discover more from Jist Feed
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
