নয়াদিল্লি: শতাব্দী প্রাচীন ভারতীয় রেলওয়ে পরিকাঠামোর আধুনিকীকরণে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করল কেন্দ্রীয় সরকার। যাত্রী ও পণ্য পরিবহনের দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে একটি বিশাল মাল্টি-ট্র্যাকিং প্রকল্পের কথা ঘোষণা করা হয়েছে। সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব এই রূপান্তরমূলক পরিকল্পনার রূপরেখা তুলে ধরেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, এই প্রকল্পগুলি সাধারণ যাত্রী, লজিস্টিক সেক্টর এবং রেলের সাথে যুক্ত শিল্প সংস্থাগুলির জন্য এক নতুন দিগন্ত খুলে দেবে।
বিপুল ক্ষমতাবৃদ্ধি কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার অর্থনৈতিক বিষয়ক কমিটি (CCEA) আনুমানিক ২০,৮০৪ কোটি টাকার আটটি গুরুত্বপূর্ণ মাল্টি-ট্র্যাকিং প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছে। এই প্রকল্পগুলি ২০২৯-৩০ সালের মধ্যে শেষ করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
- পূর্ব ও মধ্য ভারতের উন্নয়ন: পশ্চিমবঙ্গ, ঝাড়খণ্ড, ওড়িশা, মধ্যপ্রদেশ এবং ছত্তিশগড় জুড়ে ৬৫৬ কিলোমিটার বিস্তৃত তিনটি প্রকল্পের জন্য ১০,৭৮৩ কোটি টাকা অনুমোদন করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে খড়গপুর-ঝাড়সুগুদা ৪র্থ লাইন, কাটনি-পেন্ড্রা রোড ৪র্থ লাইন এবং বিলাসপুর-পেন্ড্রা রোড ৩য় লাইন।
- দক্ষিণ ভারতের সংযোগ: তামিলনাড়ু, অন্ধ্রপ্রদেশ, কর্ণাটক এবং তেলেঙ্গানা জুড়ে ৫৪০ কিলোমিটার রেলওয়ে নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের জন্য ৫টি প্রকল্পে ১০,০২১ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। এর মধ্যে আরাক্কোনম-রেনিগুন্টা, হোয়াইটফিল্ড-বাঙ্গারপেট, হোসুর-ওমালুর এবং সালেম-করুর-ডিন্ডিগুল লাইনের ডাবলিং এবং থার্ড/ফোর্থ লাইন তৈরির কাজ রয়েছে।
যাত্রী ও পণ্য পরিবহনের সংকট মোচন রেলমন্ত্রী বৈষ্ণব জানান, এই বিপুল সংখ্যক নতুন রেললাইন যুক্ত হওয়ার ফলে ট্রেনের ওয়েটিং লিস্টের চিরস্থায়ী সমস্যার সমাধান হবে। চাহিদা ও জোগানের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখে রেলওয়ে আরও বেশি সংখ্যক ট্রেন চালাতে সক্ষম হবে। পাশাপাশি পণ্য পরিবহনেও রেলের শেয়ার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়ে ২৯%-এর গণ্ডি পার করেছে। নতুন পরিকাঠামোর ফলে প্রতি বছর অতিরিক্ত ৭৪ মিলিয়ন টন (MTPA) পণ্য পরিবহন সম্ভব হবে। এটি লজিস্টিকস এবং রেল-সংযুক্ত কোম্পানিগুলির জন্য এক বিশাল সম্ভাবনার দরজা খুলে দেবে।
প্রযুক্তি, জমি ও পরিবেশ পুরোনো আমলের ধীরগতির কাজের ধারাকে ভেঙে রেলমন্ত্রক এখন স্যাটেলাইট ইমেজিং এবং এআই (AI) প্রযুক্তির সাহায্যে জমি অধিগ্রহণের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করছে। পরিবেশের দিক থেকেও এই প্রকল্পগুলি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই আটটি প্রকল্প একত্রে প্রায় ১০৪ কোটি কিলোগ্রাম কার্বন ডাই অক্সাইড (CO2) নির্গমন হ্রাস করবে, যা প্রায় ৪.৪৮ কোটি গাছ লাগানোর সমতুল্য।
এছাড়াও, মন্ত্রী ভারতের বুলেট ট্রেন প্রকল্প নিয়েও আশার আলো দেখিয়েছেন। তিনি নিশ্চিত করেছেন যে ২০২৭ সালের মধ্যে সুরাট থেকে ভাপি সেকশনের উদ্বোধন হবে এবং পরীক্ষার জন্য প্রথম কোচটি আগামী বছরের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যেই প্রস্তুত হয়ে যাবে।

