ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বড় এবং জাঁকজমকপূর্ণ আসর হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই বিশ্বকাপে অংশ নেবে রেকর্ড ৪৮টি দল, আর মোট ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে ১০৪টি। ১১ জুন ২০২৬ থেকে শুরু হয়ে ১৯ জুলাই পর্যন্ত চলবে এই বৈশ্বিক ফুটবল উৎসব।
বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক এস্তাদিও আজতেকা স্টেডিয়ামে। এর মাধ্যমে স্টেডিয়ামটি বিশ্বের প্রথম ভেন্যু হিসেবে তিনটি ভিন্ন বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ আয়োজনের অনন্য রেকর্ড গড়বে। এর আগে ১৯৭০ ও ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপেও এই স্টেডিয়াম ছিল কেন্দ্রবিন্দু।
এবারের বিশ্বকাপকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে ফিফা পরিকল্পনা করেছে তিনটি পৃথক উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। মেক্সিকো, কানাডা এবং যুক্তরাষ্ট্রে আলাদা আলাদা সাংস্কৃতিক ও সঙ্গীতানুষ্ঠানের মাধ্যমে বিশ্বকাপের যাত্রা শুরু হবে। মেক্সিকোর অনুষ্ঠানে পারফর্ম করার কথা রয়েছে কলম্বিয়ান পপ তারকা শাকিরা, নাইজেরিয়ার বার্না বয়, কলম্বিয়ার জে বালভিন এবং মেক্সিকোর জনপ্রিয় শিল্পীদের। কানাডার অনুষ্ঠানে থাকবেন মাইকেল বুবলে, অ্যালানিস মরিসেট, অ্যালেসিয়া কারাসহ আরও অনেক শিল্পী। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বোধনী আয়োজনেও থাকবে বিশ্বখ্যাত সংগীত তারকাদের অংশগ্রহণ।
ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এ নতুন ফরম্যাটে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। ৪৮টি দলকে ভাগ করা হবে ১২টি গ্রুপে। প্রতিটি গ্রুপে থাকবে ৪টি করে দল। গ্রুপ পর্ব শেষে প্রতিটি গ্রুপের শীর্ষ দুই দল এবং সেরা আটটি তৃতীয় স্থান অধিকারী দল নকআউট পর্বে উন্নীত হবে।
এই আসরের অন্যতম আকর্ষণ হচ্ছে নতুন দেশগুলোর অংশগ্রহণ। প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের মূল পর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে উজবেকিস্তান, জর্ডান, কেপ ভার্দে এবং কুরাসাও। বিশেষ করে কুরাসাও বিশ্বকাপ ইতিহাসে সবচেয়ে কম জনসংখ্যার দেশ হিসেবে অংশগ্রহণের নজির গড়তে যাচ্ছে।
ফুটবল বিশ্বের দুই কিংবদন্তি লিওনেল মেসি এবং ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে ঘিরেও রয়েছে ব্যাপক আগ্রহ। অনেকের মতে, ২০২৬ বিশ্বকাপ হতে পারে তাদের ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ। রোনালদো যদি অংশ নেন, তবে এটি হবে তার রেকর্ড ষষ্ঠ বিশ্বকাপ।
এবারের বিশ্বকাপে প্রযুক্তিগত ক্ষেত্রেও আসছে বড় পরিবর্তন। ম্যাচে ব্যবহৃত অফিসিয়াল বলের ভেতরে থাকবে বিশেষ মোশন সেন্সর, যা ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (VAR) প্রযুক্তিকে আরও কার্যকর করবে। এছাড়া প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে রেফারিদের বডি ক্যামেরাব্যবহার করার অনুমতি দেওয়া হতে পারে, যা দর্শকদের মাঠের অভিজ্ঞতা আরও কাছ থেকে দেখার সুযোগ দেবে।
VAR-এর ক্ষমতাও বাড়ানো হয়েছে। ভুল খেলোয়াড়কে কার্ড দেওয়া, দ্বিতীয় হলুদ কার্ড সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত এবং কিছু গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ পরিস্থিতিতে প্রযুক্তির সহায়তা নেওয়া হবে। সময় নষ্ট রোধে খেলোয়াড় বদল, চিকিৎসা বিরতি এবং মাঠ ত্যাগের নিয়মেও আনা হয়েছে কঠোরতা।
বিশ্বকাপের ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে। ফুটবলপ্রেমীদের কাছে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—কে হবে ২০২৬ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন?
ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিশ্বকাপকে ঘিরে ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে উত্তেজনা। নতুন দল, নতুন প্রযুক্তি, নতুন ফরম্যাট এবং ফুটবল বিশ্বের সেরা তারকাদের উপস্থিতিতে ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ হতে যাচ্ছে এক অবিস্মরণীয় মহাযজ্ঞ।
About The Author
Discover more from Jist Feed
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
