Site icon Jist Feed

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ – ষষ্ঠ দিনের বিশেষ প্রতিবেদন

FWC_sixth day

মেসির ঐতিহাসিক হ্যাটট্রিকে আর্জেন্টিনার দুরন্ত সূচনা

কানসাস সিটি স্টেডিয়ামে আলজেরিয়াকে ৩-০ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করল বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। ম্যাচের নায়ক লিওনেল মেসি, যিনি দুর্দান্ত হ্যাটট্রিক করে মিরোস্লাভ ক্লোসের ১৬ বিশ্বকাপ গোলের রেকর্ড স্পর্শ করেছেন। বল কম পেলেও আর্জেন্টিনা অসাধারণ রক্ষণাত্মক শৃঙ্খলা বজায় রেখেছে। রদ্রিগো ডি পল ও এনজো ফার্নান্দেজ মাঝমাঠ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করেন। আলজেরিয়া বেশি পাস খেললেও আক্রমণে কার্যকর হতে পারেনি।

যখন সবাই ভাবছিলেন এটি হয়তো মেসির শেষ বিশ্বকাপ, তখন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক নিজের সেরাটাই উপহার দিলেন। তিনটি গোল করে তিনি বিশ্বকাপে নিজের প্রথম হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন।

মেসির ঐতিহাসিক রেকর্ড

ক্যারিয়ার গোল৯১৪
ক্যারিয়ার হ্যাটট্রিক৬১
আর্জেন্টিনার হয়ে হ্যাটট্রিক১১
বিশ্বকাপ গোল১৬

ম্যাচ পরিসংখ্যান

পরিসংখ্যানআর্জেন্টিনাআলজেরিয়া
স্কোর
বল দখল৪৭%৫৩%
শট (লক্ষ্যে)৯ (৬)৬ (০)
পাস সফলতা৯০%৯৩%
মোট পাস৫৫৫৫৮৩
ফাউল১২
সেভ

ফ্রান্স ৩-১ সেনেগাল : এমবাপের রেকর্ড গড়া জোড়া গোলে ফ্রান্সের জয়

নিউ ইয়র্ক নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে সেনেগালকে ৩-১ গোলে হারিয়েছে ফ্রান্স। দুই গোল করে ফ্রান্সের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়েছেন কিলিয়ান এমবাপে। প্রথমার্ধে সেনেগাল দুর্দান্ত লড়াই করলেও দ্বিতীয়ার্ধে ফ্রান্সের বদলি খেলোয়াড়দের প্রভাব ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। এমবাপের গতি ও ফিনিশিং ছিল ম্যাচের বড় পার্থক্য। প্রথমার্ধে সেনেগালের চাপে বেশ নড়বড়ে দেখাচ্ছিল ফ্রান্সকে। তবে বিরতির পর যেন অন্য এক দল হয়ে মাঠে নামে দিদিয়ে দেশঁর শিষ্যরা। এমবাপ্পে জোড়া গোল করে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন। তাঁর গতি, ফিনিশিং এবং নেতৃত্ব ফ্রান্সকে এনে দেয় মূল্যবান তিন পয়েন্ট। বিশেষজ্ঞদের মতে, এমবাপ্পে এই ম্যাচে দেখিয়েছেন কেন তিনি বিশ্বের অন্যতম সেরা ফুটবলার। ক্লাব ফুটবলের হতাশা ভুলে তিনি পুরোপুরি মনোযোগ দিয়েছেন বিশ্বকাপের দিকে।

ম্যাচ পরিসংখ্যান

পরিসংখ্যানফ্রান্সসেনেগাল
স্কোর
বল দখল৫৪%৪৬%
শট (লক্ষ্যে)১১ (৮)৬ (২)
পাস সফলতা৮৭%৮৭%
মোট পাস৫৫১৪৭৮
ক্লিয়ারেন্স২৪২৭
সেভ

নরওয়ে ৪-১ ইরাক: হালান্ডের বিশ্বকাপ অভিষেক স্মরণীয়

২৮ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরে ইরাককে ৪-১ গোলে হারিয়েছে নরওয়ে। জোড়া গোল করেছেন আর্লিং হালান্ড। মার্টিন ওডেগার্ড পুরো ম্যাচের ছন্দ নিয়ন্ত্রণ করেছেন। নরওয়ের প্রথম গোলের ১৪-পাসের আক্রমণকে টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা দলগত গোল হিসেবে উল্লেখ করেছেন বিশ্লেষকরা। এরলিং হালান্ড দুই গোল করে প্রমাণ করেছেন কেন তাকে বিশ্বের অন্যতম সেরা স্ট্রাইকার বলা হয়। বক্সের ভেতরে তাঁর অবস্থান নির্বাচন এবং গোল করার সহজাত ক্ষমতা ইরাকের রক্ষণভাগকে অসহায় করে দেয়। ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, হালান্ডের গোল করার প্রবৃত্তি কিংবদন্তি গার্ড মুলারের কথা মনে করিয়ে দেয়। সঠিক সময়ে সঠিক জায়গায় উপস্থিত থাকার অসাধারণ ক্ষমতা তাঁকে আলাদা করে তোলে।

ম্যাচ পরিসংখ্যান

পরিসংখ্যাননরওয়েইরাক
স্কোর
বল দখল৬৩%৩৭%
শট (লক্ষ্যে)১২ (৬)১১ (১)
পাস সফলতা৯০%৮২%
মোট পাস৫৩০৩৩৫
ট্যাকল জয়১১
ক্লিয়ারেন্স২৭৩০

অস্ট্রিয়া ৩-১ জর্ডান: নাটক, ভিএআর ও শেষ মুহূর্তের জয়

সান ফ্রান্সিসকো বে এরিয়া স্টেডিয়ামে ২৬ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরে অস্ট্রিয়া জর্ডানকে ৩-১ ব্যবধানে পরাজিত করে দুর্দান্ত জয় তুলে নিয়েছে, যেখানে অভিজ্ঞ মার্কো আরনাউটোভিচের অবদান এবং ম্যাচের শেষ মুহূর্তের গোলগুলো পার্থক্য গড়ে দেয়। দিনের সবচেয়ে নাটকীয় ম্যাচ ছিল অস্ট্রিয়া বনাম জর্ডান। শুরুতে এগিয়ে গেলেও জর্ডান দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন করে ম্যাচে সমতা ফেরায়। এরপর ভিএআর বিতর্ক, আত্মঘাতী গোল এবং শেষ মুহূর্তের পেনাল্টি ম্যাচটিকে রূপ দেয় রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে। বিশেষজ্ঞদের মতে অস্ট্রিয়ার হাই-প্রেসিং কৌশলের কারণে জর্ডান নিজেদের অর্ধেই আটকে রয়েছে। মাত্র ২২ মিনিটে ১৯টি ক্লিয়ারেন্স তাদের উপর চাপের মাত্রা স্পষ্ট করে তুলছে।

পরিসংখ্যান

পরিসংখ্যানঅস্ট্রিয়াজর্ডান
স্কোর
বল দখল৬২%৩৮%
লক্ষ্যে শট৯ (৩)১১ (৪)
পাস সফলতা৮৮%৭৭%
ক্লিয়ারেন্স৩২৫৮
Exit mobile version