India agitation

নিজস্ব প্রতিবেদন: গণতান্ত্রিক ভাবে জয়লাভের আশা যখন ক্ষীণ থেকে ক্ষীণতর হয়ে যাচ্ছে, চরম হতাশা থেকে বিদেশি শক্তির সঙ্গে হাত মেলাতেও দ্বিধান্বিত নয় বিরোধী শিবির। মিথ্যা অরাজকতা তৈরি করে ক্ষমতা দখলের খেলায় মেতেছে এক দল দেশবিরোধী দুরাত্মা। এদের অভিযোগগুলি প্রথমবার শুনেই হাস্যকর মনে হতে পারে, কিন্তু বার বার প্রচারের ফলে অনেকেই সম্মোহিত হয়ে পড়তে পারেন। উপস্থাপনার ধরনও বেশ উন্নত। দেশের কিছু সংবাদপত্র গোষ্ঠী যথারীতি এই ধ্বংসাত্মক খেলায় মেতেছে।

প্রশ্ন হল, এর নেপথ্যে কী ? গোটা বিষয়টিকে ধাপে ধাপে বোঝার চেষ্টা করা যাক। আলোচনা চারটি ভাগে: কেন রেজিম চেঞ্জ, কীভাবে রেজিম চেঞ্জ, কেন ভারত, এবং ভারতের অভ্যন্তরে এই ছক কীভাবে কার্যকর করার চেষ্টা চলছে।

রেজিম চেঞ্জ কী, এবং কারা করে ?

রেজিম চেঞ্জ অর্থাৎ কোনও দেশের সরকারকে ফেলে দেওয়া। বাংলাদেশে শেখ হাসিনার সরকারের পতন বা নেপালে সরকারের পতন, সাম্প্রতিক কালের এমনই উদাহরণ। কারা এটা করছে ? ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষণে উত্তর: সারা বিশ্বে আমেরিকা। মার্কিন প্রশাসনের এক শীর্ষ প্রাক্তন কর্তা ক্যামেরার সামনে স্বীকার করেছেন, নিজেদের প্রয়োজনে আমেরিকা বিভিন্ন দেশে রেজিম চেঞ্জ ঘটিয়েছে। সেই সাক্ষাৎকার গোটা বিশ্ব দেখেছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ১৯৫৫ সালের পর থেকে প্রায় পঞ্চাশটি দেশে এমন হস্তক্ষেপ হয়েছে।

কী পায় আমেরিকা ? ক্ষমতা

১৭৫৭ সালের পটভূমিতে তাকালে দেখা যায়, তখন কোনও দেশ দখল করা মানে সামরিক আক্রমণ চালিয়ে সরাসরি কব্জা করা। ব্রিটিশরা ঠিক সেটাই করেছিল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ছবি বদলায়। আজ কোনও দেশ সামরিক শক্তিতে অন্য দেশ দখল করে না। বিশ্বশক্তি হিসেবে উঠে আসা আমেরিকাও পৃথিবী নিয়ন্ত্রণ করছে, তবে সামরিক ভাবে নয়। তার পথ দু’টি।

  • সংশ্লিষ্ট দেশের সরকার আমেরিকার কথা শুনে চলবে। বিদেশনীতি, বাণিজ্যনীতি, সবই আমেরিকার ইচ্ছামতো সাজাবে।
  • সরকার কথা না শোনালে রেজিম চেঞ্জ। সেই দেশেরই এমন কাউকে সর্বোচ্চ ক্ষমতার আসনে বসিয়ে দেওয়া, যিনি আমেরিকার ‘পুতুল’।

কেন এখন দক্ষিণ এশিয়া ?

এত দিন আমেরিকার প্রধান প্রতিপক্ষ ছিল রাশিয়া। এখন সেই জায়গায় উঠে আসছে চিন। কুড়ি-পঁচিশ বছর পর অর্থনীতিতে চিন আমেরিকার সমকক্ষ হয়ে গেলে যাতে তাকে চারদিক থেকে চাপে রাখা যায়, তার জন্য মার্কিন ‘ডিপ স্টেট’ ও সিআইএ এখন থেকেই চিনকে ঘিরে ফেলার পরিকল্পনা করছে। অর্থাৎ চিনের প্রতিবেশী দেশগুলিতে এমন সরকার বসানো, যা শেষ পর্যন্ত আমেরিকার নিয়ন্ত্রণে চলবে।

গত পাঁচ বছরের নজির: বিশ্লেষকের পর্যবেক্ষণ

দেশঘটনাক্রমপর্যবেক্ষণ
পাকিস্তানচিনঘনিষ্ঠ ও আমেরিকাবিরোধী ইমরান খান গ্রেফতার, এখনও কারাবন্দি; তাঁর দল ভেঙে দেওয়া হয়নতুন সরকার আমেরিকার কথায় চলে
শ্রীলঙ্কাজনতার রাজপথে নামা, প্রেসিডেন্ট ভবনে ভাঙচুরনতুন সরকার বসতেই পরিস্থিতি ‘স্বাভাবিক’
বাংলাদেশসেন্ট মার্টিনে নৌঘাঁটির মার্কিন প্রস্তাব হাসিনা না মানায় ভোটে হারানো যায়নি; গণ-আন্দোলনে দেশছাড়া হতে হয়অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান পদে মার্কিনঘনিষ্ঠ ব্যক্তি
নেপালসোশ্যাল মিডিয়া-কেন্দ্রিক আন্দোলন, আচমকা সরকারের পতনএকই ছক

চিনের চারপাশের প্রতিটি দেশে আমেরিকা নিজের অনুগত সরকার চায়। সাধারণ হিসেবেই পরবর্তী লক্ষ্য ভারত।

তা ছাড়া, মার্কিন আধিকারিকেরা সাম্প্রতিক কালে প্রকাশ্যে, ক্যামেরার সামনে বলেছেন, চিনের ক্ষেত্রে ২৫ বছর আগে যে ভুল হয়েছিল, ভারতের ক্ষেত্রে তা আর হতে দেওয়া হবে না। অর্থাৎ ভারতকে মাথা তুলতে দেওয়া যাবে না। এ তথ্য সাধারণ মানুষকে দেখানো হয় না, খুঁজে নিতে হয়।

কীভাবে ঘটে রেজিম চেঞ্জ? চার ধাপের ছক

কোনও দেশে গিয়ে সরাসরি ‘সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করো’ বললে মানুষ সাড়া দেবে না। তাই কৌশলের প্রয়োজন হয়।

ধাপকী করা হয়
১. ফল্ট লাইন খোঁজাযত উন্নত দেশই হোক, সমাজে ক্ষোভের কিছু জায়গা থাকেই। সেটি চিহ্নিত করা
২. রেজোনেট করানোসংবাদমাধ্যম, সোশ্যাল মিডিয়া ও বুদ্ধিজীবীদের মাধ্যমে বার বার প্রচার, ‘এটাই তোমার কষ্টের কারণ’
৩. অ্যামপ্লিফাই করামিছিল, ধর্না, বনধ, আন্দোলনের আবহ তৈরি
৪. এক্সপ্লয়ট করাযথেষ্ট উত্তাপ তৈরি হলে চূড়ান্ত আঘাত। প্রয়োজনমতো অর্থ, অস্ত্র, ন্যারেটিভ বা বিদেশি সমর্থন জুগিয়ে সরকার ফেলে দেওয়া

ইরাক: ডলারে তেল বিক্রিতে রাজি হননি সাদ্দাম হুসেন। প্রচার চালানো হল, তাঁর কাছে গণবিধ্বংসী অস্ত্র রয়েছে। সাদ্দামের ফাঁসি হল, ইরাকে বসল আমেরিকার পছন্দের সরকার। আজ পর্যন্ত সেই অস্ত্রের হদিস মেলেনি।

বাংলাদেশ: ন্যারেটিভ ছিল কোটা-বিরোধী আন্দোলন। আজ সেই কোটার প্রসঙ্গ কোথায়? সব চাপা পড়ে গিয়েছে।

সম্প্রতি ফ্রান্স: ছাত্র আন্দোলনের নামে ইসলাম অধ্যুষিত জনগণের বিভিন্ন ক্ষোভ বিক্ষোভকে উস্কে ব্যাপক আন্দোলনের শুরু হয়েছে।

প্রতিটি দেশে ন্যারেটিভ আলাদা, কিন্তু ছক এক।

কেন ভারত ?

চিনের প্রতিবেশী হিসেবে ভারতকে নিয়ন্ত্রণে আনার তাগিদ তো রয়েছেই। তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আরও কয়েকটি কারণ।

১. রাশিয়ার তেল। ইউক্রেন যুদ্ধের পর আমেরিকা সব দেশের উপরে চাপ সৃষ্টি করে, রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল কেনা যাবে না। চিন ছাড়া প্রায় সকলেই সেই চাপে নুইয়েছে, আর চিনকে শোনানোর ক্ষমতা আমেরিকার নেই। বাকি ছিল ভারত। বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর প্রতিটি আন্তর্জাতিক মঞ্চে স্পষ্ট বলেছেন, দেশবাসীর অর্থনীতি সুরক্ষিত রাখতে যেখানে সস্তায় তেল মিলবে, ভারত সেখান থেকেই কিনবে। রাশিয়ার অর্থপ্রাপ্তির ক্ষতির চেয়েও আমেরিকার বড় ক্ষতি ভাবমূর্তির। পাঁচ বছর ধরে একটি দেশ তার রক্তচক্ষু উপেক্ষা করেছে।

২. নিষেধাজ্ঞাতেও অনড়। নায়ারা এনার্জির ঘটনা মনে থাকার কথা। ভারতীয় সংস্থার উপরে নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছিল। তাতেও দিল্লি টলেনি।

৩. কৃষি ও পশুপালনের বাজার। মার্কিন কৃষক সমাজ ডোনাল্ড ট্রাম্পের বড় ভোটব্যাঙ্ক। ভারতের উপর চাপ আসে, দুধ, দই, চিজ, ঘি, পনির, মাখন, ভুট্টা-সহ কৃষিপণ্যের বাজার খুলে দিতে হবে। ভারত দরজা খোলেনি। কারণ, সাত কোটি মানুষ পশুপালন ও প্রায় পঁয়ত্রিশ কোটি মানুষ চাষের উপর নির্ভরশীল, অর্থাৎ মোট বিয়াল্লিশ কোটি। প্রযুক্তিনির্ভর মার্কিন কৃষির সস্তা পণ্য ঢুকলে ভারতীয় কৃষক ও পশুপালকেরা পাল্লা দিতে পারবেন না। এখানেও ট্রাম্পকে ব্যর্থ হতে হয়েছে।

৪. ট্রাম্পের ভাবমূর্তি। অপারেশন সিঁদুরের পর ট্রাম্প বার বার দাবি করেছেন, ফোন করে তিনিই ভারত-পাকিস্তান সংঘর্ষ থামিয়েছেন। সংসদে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী নথিবদ্ধ ভাবে জানিয়েছেন, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট ফোন করেছিলেন, কিন্তু প্রধানমন্ত্রী ব্যস্ত থাকায় পরে কথা বলার বার্তা দেওয়া হয়। বিশ্বমঞ্চে এ ভাবে ট্রাম্পের দাবি খারিজ হওয়া আমেরিকার পক্ষে মেনে নেওয়া কঠিন।

৫. পূর্ব সীমান্তে কাঁটাতার। পঞ্জাব, গুজরাত, কাশ্মীর সীমান্ত আরও সুরক্ষিত হয়ে যাওয়ায় আইএসআই বাংলাদেশ-পশ্চিমবঙ্গ সীমান্তকে জঙ্গিদের নতুন ‘লঞ্চ প্যাড’ হিসেবে ব্যবহারের চেষ্টা করছিল। বিএসএফ এখন সেখানে দ্রুত বেড়া দিচ্ছে। পাকিস্তানের পিছনে চিন ও আমেরিকার ভূমিকা, ১৯৭১ থেকে ২০২৬ পর্যন্ত, এই প্রেক্ষিতেই বিবেচ্য।

দেশের অভ্যন্তরে ছক, বিরোধী শিবির ও বিদেশি শক্তি

স্টারলিংক ও এলন মাস্ক

গত কালের ঘটনা অনেকেই দেখেছেন। এলন মাস্ক সমাজমাধ্যমে লিখেছেন, তাঁর সংস্থা স্টারলিংককে ভারত এত দিনেও প্রবেশ করতে দিচ্ছে না। সেই পোস্টেই রাহুল গান্ধীর প্রতিক্রিয়া ছিল, ক্ষমতায় এলে ব্যবস্থা হয়ে যাবে। মাস্ক ধন্যবাদ জানান এবং প্রশ্ন তোলেন, আম্বানি কি ভারতের আসল ‘বস’, জিওকে বাঁচাতেই কি স্টারলিংককে আটকানো হচ্ছে?

অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়ে সাধারণত আলোচনা করা হয় না। কিন্তু গণতন্ত্রে যে কেউ ভোটে লড়তে পারেন, জিতে মুখ্যমন্ত্রী বা প্রধানমন্ত্রীও হতে পারেন। দেশের সমস্যার সমাধানে বিদেশি শক্তিকে ডেকে এনে সরকার বদলের চেষ্টা ভারতবাসী কী ভাবে নেবেন, সে প্রশ্ন উঠছে।

সময়ের হিসেবটা লক্ষণীয়, ভূ-রাজনীতিতে যা অতি গুরুত্বপূর্ণ।

  • ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে মণিপুরে সেনার অভিযানে জঙ্গিদের কাছ থেকে স্টারলিংকের স্যাটেলাইট টার্মিনাল উদ্ধার হয়েছিল। অর্থাৎ সক্রিয় জঙ্গি গোষ্ঠী স্টারলিংকের ইন্টারনেট ব্যবহার করছিল। বিশ্লেষকের দাবি, আন্দামান সাগরের ঘটনাতেও স্টারলিংকের যোগ ছিল।
  • গত কয়েক বছর ধরে বিরোধী দলগুলি ‘সব আম্বানি-আদানি নিয়ে নিল’ ন্যারেটিভ চালাচ্ছে। অথচ কোনও দেশের অগ্রগতি অনেকটাই নির্ভর করে তার শিল্পপতিদের উপর। এঁরা কোটি কোটি টাকা কর দেন, লক্ষ লক্ষ তরুণের কর্মসংস্থান করেন। ইতিহাসও বলে, বাণিজ্যের হাত ধরেই ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ভারত দখল করেছিল। আজ আমেরিকান ব্যবসার মাধ্যমে আমেরিকা বিশ্ব নিয়ন্ত্রণ করছে।
  • ভারতীয় শিল্পপতিদের নিশানা করে সরিয়ে কাকে আনা হবে? এলন মাস্ককে, যিনি ভারত থেকে অর্থ আমেরিকায় নিয়ে যাবেন।

প্রচারের জবাবে তথ্য

স্টারলিংক, জিও স্যাটেলাইট ও ওয়ানওয়েব, তিনটিই স্যাটেলাইট-নির্ভর ইন্টারনেট পরিষেবা। ভারতে তিনটিই ট্রায়াল ও পরীক্ষার পর্যায়ে রয়েছে। জিও স্যাটেলাইট বা স্টারলিংক, কাউকেই এখনও চূড়ান্ত অনুমতি দেওয়া হয়নি। প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের সংশ্লিষ্ট দফতর পরীক্ষা করে নিরাপত্তা-ঝুঁকি নেই বলে নিশ্চিত হলে তবেই ছাড়পত্র মিলবে। মাস্ক চাইছেন, প্রতিরক্ষার ছাড়পত্র ছাড়াই ব্যবসা করতে।

স্টারলিংক নিয়ে জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্ন আমেরিকাও তুলেছে। চিন ও রাশিয়া তো তা নিষিদ্ধই করে রেখেছে। ভারত নিষিদ্ধ করেনি, শুধু বলছে, আগে পরীক্ষা করে নিশ্চিত হই, তার পর ব্যবসা করতে দেব। অন্যেরা জাতীয় নিরাপত্তার কথা ভাবতে পারলে ভারত কেন পারবে না? ভারতের ডিজিটাল নেটওয়ার্কের তথ্য আমেরিকায় বসে থাকা একটি সংস্থার হাতে গেলে তার নিয়ন্ত্রণ পরোক্ষে মার্কিন সরকারের হাতেও যেতে পারে।

১৯৯৯ সালের কার্গিল যুদ্ধের কথা ভোলার নয়। ভারত তখন আমেরিকার কাছে নিখুঁত জিপিএস তথ্য চেয়েছিল। আমেরিকা পরিষ্কার জানিয়ে দেয়, দেবে না। পাকিস্তান ও তার জঙ্গিদের আড়াল করতেই। প্রযুক্তি ও স্যাটেলাইটে আত্মনির্ভরতা কত জরুরি, এই ঘটনা তার প্রমাণ।

নিট থেকে এসআইআর: এক ইস্যুর পর আর এক ইস্যু

ইস্যুঘটনাক্রম (বিশ্লেষকের বিবরণ)
নিটপ্রকৃত সমস্যা ছিল, তাই দেশজুড়ে সমর্থন মিলেছিল। আন্দোলন শুরুর দেড় মাস আগেই জবাবদিহি ও ব্যবস্থা-বদলের দাবি তোলা হয়েছিল। এখন সন্দেহ, ওটা ছিল মানুষকে আন্দোলনে নামানোর মহড়া
ইভিএমবছরের পর বছর অভিযোগ। নির্বাচন কমিশনের প্রকাশ্য চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও হ্যাক করে দেখাতে কেউ আসেননি। যেখানে বিরোধীরা জিতেছে, সেখানে ইভিএম নিয়ে প্রশ্ন ওঠেনি
এসআইআরচাপে হাজার হাজার বাংলাদেশিকে সীমান্ত দিয়ে ফিরে যেতে দেখা গিয়েছে। তাঁদের নিজেদের স্বীকারোক্তি, কয়েক হাজার টাকা দিয়ে সীমান্ত পেরিয়েছেন, জাল আধার বানিয়েছেন। এসআইআর-এর প্রয়োজনীয়তা এতেই প্রমাণিত, দাবি বিশ্লেষকের

এঁরা এত দিন অবৈধ ভাবে দেশে ছিলেন, তখন নিরাপত্তা নিয়ে কারও উদ্বেগ ছিল না। যেই তাঁরা ফিরে যাচ্ছেন, দেশ ‘পরিচ্ছন্ন’ হচ্ছে, ঠিক তখনই তা আটকাতে মরিয়া চেষ্টা: ‘ভোট চুরি’।

ও দিকে আমেরিকা থেকে মাস্ক পোস্ট করছেন, এ দিকে আমেরিকা থেকে অভিজিৎ ডিপকে আর জার্মানি থেকে ধ্রুব রাঠি সক্রিয় হচ্ছেন, আর দেশের বিভিন্ন বিরোধী দল তাতে অংশ নিচ্ছে। সময়গুলি মিলিয়ে দেখলে ছবিটা স্পষ্ট।

ভারতে গণতন্ত্র ছিল, আছে, থাকবে। কখনও সিপিএম জিতবে, কখনও বিজেপি, কখনও কংগ্রেস। সেই গণতান্ত্রিক লড়াইয়ে বিদেশি শক্তির সাহায্য নেওয়া হবে কেন? দেশের ভবিষ্যৎ-নিয়ন্ত্রণ বিদেশের হাতে তুলে দেওয়া হবে কেন? আজকের দিনের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এটাই।

১০ অক্টোবর: দিল্লি পুলিশ ও সংযমের পরীক্ষা

ভারতে রেজিম চেঞ্জের চেষ্টা হওয়ারই ছিল, এবং হবেও। এবারের লক্ষ্য হল FCRA বিলের জন্য আসন্ন সংসদীয় প্রক্রিয়া বানচাল করা। এটা একজন সাধারণ ভারতবাসীর কাছে আজ খুবই পরিষ্কার। দিল্লি পুলিশের ভূমিকা এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আবেগের বশে অনেকে বলবেন, ‘দেশদ্রোহীদের পেটাও।’ কিন্তু হিংসা শুরু হলে তা আর নিয়ন্ত্রণে থাকে না। হাতের মার কারও মাথায় লেগে যেতে পারে। এক ফোঁটা রক্তপাতের ছবি, ভিডিয়ো নিয়েই এমন প্রচার চলবে যে দেশজুড়ে আগুন জ্বলবে।

তাই দিল্লি পুলিশ আজ কার্যত আত্মত্যাগের জায়গায় দাঁড়িয়ে। নিজেরা মার খেয়েও সংযম হারাবে না, শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লাঠি তুলবে না। কারণ ওই ছবিই আবার আগুন জ্বালানোর রসদ হবে।

সোশ্যাল মিডিয়ার অ্যালগরিদম

নিজে পরখ করে দেখুন। সিজেপি আন্দোলনের সমর্থনে কিছু লিখুন বা ভিডিয়ো পোস্ট করুন, ফেসবুক-ইনস্টাগ্রামে পৌঁছনোর হার অন্য স্তরে চলে যায়। বিপক্ষে কিছু বলুন, পৌঁছনো কমিয়ে দেওয়া হয়। বিশ্লেষকের দাবি, আন্দোলনের ব্যাখ্যামূলক, হিংসার আহ্বানবিহীন সাধারণ পোস্টও ‘নট অ্যাভেলেবল ইন ইন্ডিয়া’ বলে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের মালিক মার্ক জ়াকারবার্গ, আমেরিকার সংস্থা। কোন ভিডিয়ো কতটা মানুষের কাছে যাবে, সেই নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতেই।

নির্দিষ্ট ন্যারেটিভ দাঁড় করাতে বার বার একটি দৃশ্য দেখানো হবে: নিরীহ তরুণ আন্দোলনকারী পুলিশের হাতে মার খাচ্ছেন। আর পুলিশের মার খাওয়ার ভিডিয়ো একশোটি অ্যাকাউন্ট থেকে পোস্ট হলেও তার পৌঁছনো এতটাই কমিয়ে দেওয়া হবে যে মানুষ দেখতেই পাবেন না। তাই ভারতের নিজস্ব সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম নিয়ে সরকারকে দ্রুত ভাবতে হবে।

বিশেষজ্ঞ বিশ্লেষণ: লড়াই কার, কোন অস্ত্রে?

আমেরিকা বনাম ভারতের এই লড়াইয়ে ক্ষেপণাস্ত্র, ট্যাঙ্ক বা একে-৪৭ ব্যবহার হচ্ছে না। হলে ভারতের সেনা তা সামলে নিত। ব্যবহার হচ্ছে ন্যারেটিভ ও সোশ্যাল মিডিয়া। এই লড়াইয়ে সেনা লড়তে পারবে না। এখানে প্রত্যেক ভারতবাসীই সৈনিক।

আশার দিকটিও রয়েছে। সমাজমাধ্যমের মন্তব্যের ঘর থেকে চায়ের দোকান, ট্রেন, বাস, সর্বত্র দেখা যাচ্ছে, মানুষ ভূ-রাজনীতি নিয়ে আগের চেয়ে সচেতন। প্রশ্ন উঠছে ট্র্যাক রেকর্ড নিয়ে। বিজেপি ভুল করতে পারে, খারাপও হতে পারে, কিন্তু বিজেপি মানেই ভারত নয়, সে একটি রাজনৈতিক দল মাত্র। বিকল্প বাছতে গিয়ে মানুষ দেখবেন, কোন দল কোন রাজ্যে বা পঞ্চায়েত-পুরসভায় সত্যিই কাজ করে দেখিয়েছে। শুধু ‘ওরা খারাপ’ বলে যাওয়া আর বিদেশি সাহায্যের দিকে হাত বাড়ানো দলকে মানুষ ভোট দেবেন না। জেন জ়ি-ও বুঝতে শুরু করেছে, তাদের ব্যবহার করা হচ্ছে।

অন্য দিকে, প্রতিপক্ষের হাতে রয়েছে প্রচুর অর্থ, সিআইএ-র পরিকল্পনা, ন্যারেটিভ ও সোশ্যাল মিডিয়ার দখল। লড়াই যে কঠিন হতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য। ইতিহাস বলছে, যখনই অধর্মের জয় হয়েছে, ভাল মানুষেরা তখন নীরব ছিলেন। যখন তাঁরা মুখ খুলেছেন, ধর্মেরই জয় হয়েছে।

পাঠকদের প্রতি আবেদন: এই বিশ্লেষণ নিজের সমাজমাধ্যম প্রোফাইলে ও হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে ছড়িয়ে দিন, মানুষকে সচেতন করুন। এই লড়াই আমাদেরই লড়তে হবে।

জয় হিন্দ।

About The Author


Discover more from Jist Feed

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

Leave a Reply