নদিয়ার কৃষ্ণনগর কলেজ স্টেডিয়ামে বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এক বিশাল ‘বিজয় সংকল্প’ সভায় বক্তব্য রাখেন। পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোটের দিনেই এই সভা রাজনৈতিকভাবে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে ওঠে।
সভা থেকে তৃণমূল কংগ্রেসকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি অভিযোগ করেন, রাজ্যে “সিন্ডিকেট রাজ” এবং “মহা জঙ্গল রাজ” কায়েম হয়েছে। পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, এবারের নির্বাচনে একাধিক জেলায় তৃণমূল কংগ্রেস তাদের খাতাই খুলতে পারবে না।

মহিলাদের উদ্দেশ্যে এদিন তিনি বলেন , আমি আগে বাংলার মানুষকে ছয়টি গ্যারান্টি দিয়েছিলাম। আজ আমি বাংলার মহিলাদের দশটি গ্যারান্টি দিচ্ছি।
প্রথম গ্যারান্টি: বাংলায় নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দোষীদের কঠিন শাস্তি দেওয়া হবে। প্রতিটি ব্লকে মহিলা থানার ব্যবস্থা করা হবে এবং রাস্তায় মহিলাদের নিরাপত্তা বাড়ানো হবে।
দ্বিতীয় গ্যারান্টি: বাংলার পুলিশ ব্যবস্থায় বড় পরিসরে নিয়োগ করা হবে, যাতে আইনশৃঙ্খলা আরও শক্তিশালী হয়।
তৃতীয় গ্যারান্টি: “মাতৃশক্তি ভরসা কার্ড”-এর মাধ্যমে মহিলাদের বছরে ৩৬,০০০ টাকা সরাসরি তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে দেওয়া হবে।
চতুর্থ গ্যারান্টি: শিক্ষার্থীদের গ্র্যাজুয়েশন পড়ার জন্য ৫০,০০০ টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।
পঞ্চম গ্যারান্টি: গর্ভবতী মায়েদের ২১,০০০ টাকা পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।
ষষ্ঠ গ্যারান্টি: শিশুদের পুষ্টির জন্য অতিরিক্ত ৩৬,০০০ টাকা দেওয়া হবে।
সপ্তম গ্যারান্টি: সুকন্যা সমৃদ্ধি যোজনার মাধ্যমে মেয়েদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করা হবে, যেখানে উচ্চ সুদের সুবিধা পাওয়া যাবে।
অষ্টম গ্যারান্টি: মহিলাদের স্বনির্ভর করার জন্য ২০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত মুদ্রা লোন দেওয়া হবে। এছাড়া অনেক মহিলাকে “লখপতি দিদি” বানানোর জন্য সহায়তা করা হবে।
নবম গ্যারান্টি: আয়ুষ্মান যোজনার মাধ্যমে মহিলাদের ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিনামূল্যে চিকিৎসা দেওয়া হবে। এছাড়া সার্ভাইক্যাল ক্যান্সারের বিনামূল্যে টিকা এবং সিকেল সেল পরীক্ষাও করা হবে।
দশম গ্যারান্টি: প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার আওতায় গরিব পরিবারের মহিলাদের নামে বাড়ির রেজিস্ট্রি করা হবে। বাড়ি তৈরির জন্য ১.৫ লক্ষ টাকা সরাসরি ব্যাংকে দেওয়া হবে।
শেষে বলতে চাই, এই দশটি গ্যারান্টি পূরণ করার দায়িত্ব আমাদের। এই গ্যারান্টি মানে কাজ সম্পূর্ণ হওয়ার গ্যারান্টি।
বক্তব্যের মাঝে হালকা মেজাজে ‘ঝালমুড়ি’ প্রসঙ্গ টানেন মোদি। ঝাড়গ্রামে প্রচারের সময় খাওয়া জনপ্রিয় এই খাবারের উল্লেখ করে তিনি কটাক্ষ করেন, “আমি ঝালমুড়ি খেয়েছি, কিন্তু সেই ঝাল তৃণমূলের গায়ে লেগেছে।” তার এই মন্তব্যে সভায় উপস্থিত জনতার মধ্যে হাসির রোল ওঠে।
নির্বাচনী হিংসা প্রসঙ্গেও বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, গত ৫০ বছরের তুলনায় এবারের নির্বাচন সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ হয়েছে। এজন্য তিনি নির্বাচন কমিশনের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং অতীতের “গুণ্ডা রাজ”-এর সঙ্গে তুলনা টানেন।
এই সভার মাধ্যমে বাংলার নির্বাচনী লড়াই আরও তীব্র হয়ে উঠেছে বলে রাজনৈতিক মহলের ধারণা।
About The Author
Discover more from Jist Feed
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
