২০২৬ সালের ৮ মে ভারত সফলভাবে এমআইআরভি (MIRV – Multiple Independently Targeted Re-Entry Vehicle) প্রযুক্তিসম্পন্ন উন্নত অগ্নি ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ করে Dr. APJ Abdul Kalam Island থেকে। DRDO ও Press Information Bureau-এর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এই ক্ষেপণাস্ত্র একাধিক পেলোড বহন করে ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে সফলভাবে আঘাত হানে।
স্থলভিত্তিক ও জাহাজভিত্তিক ট্র্যাকিং সিস্টেমের মাধ্যমে পুরো ক্ষেপণাস্ত্রের গতিপথ পর্যবেক্ষণ করা হয়। সমস্ত মিশন সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
MIRV প্রযুক্তি কী ?
সহজভাবে বলতে গেলে, একটি ক্ষেপণাস্ত্র আকাশে উঠে গিয়ে পরে একাধিক ছোট ছোট ওয়ারহেড আলাদা করে দেয়। সেই প্রতিটি ওয়ারহেড আলাদা আলাদা লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করতে পারে।
অর্থাৎ:
- একটি ক্ষেপণাস্ত্র
- একাধিক লক্ষ্যবস্তু
- একবার উৎক্ষেপণেই বহু জায়গায় আঘাত
এই প্রযুক্তিকেই বলা হয় MIRV।
পুরনো ধরনের ব্যালিস্টিক মিসাইলে সাধারণত একটি মাত্র ওয়ারহেড থাকত। কিন্তু MIRV প্রযুক্তিতে একই ক্ষেপণাস্ত্র থেকে একাধিক আক্রমণ সম্ভব হয়, ফলে শত্রুপক্ষের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বিভ্রান্ত হয়ে পড়ে।
ভারতের জন্য এই প্রযুক্তির গুরুত্ব
১. পারমাণবিক প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি
এই প্রযুক্তি ভারতের প্রতিরক্ষা সক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করে। শত্রুপক্ষকে স্পষ্ট বার্তা দেয় যে ভারত প্রয়োজনে কার্যকর জবাব দিতে সক্ষম।
২. মিসাইল প্রতিরক্ষা ভেদ করার ক্ষমতা
বর্তমানে বহু দেশ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ ব্যবস্থা তৈরি করছে। MIRV প্রযুক্তি সেই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ফাঁকি দিতে সক্ষম, কারণ একসঙ্গে বহু ওয়ারহেড আলাদা হয়ে যায়।
৩. প্রযুক্তিগত অগ্রগতি
বিশ্বের খুব কম দেশ এই প্রযুক্তি আয়ত্ত করেছে। ভারতের এই সাফল্য প্রমাণ করে যে দেশটি উন্নত রকেট বিজ্ঞান, গাইডেন্স সিস্টেম এবং নির্ভুল লক্ষ্যভেদ প্রযুক্তিতে দ্রুত এগোচ্ছে।
৪. বিশ্বমঞ্চে ভারতের মর্যাদা বৃদ্ধি
এই সফল পরীক্ষা আন্তর্জাতিক স্তরে ভারতের কৌশলগত গুরুত্ব আরও বাড়াবে। এটি দেখায় যে ভারত আত্মনির্ভর প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি তৈরিতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছে।
কোন কোন দেশের কাছে MIRV প্রযুক্তি রয়েছে?
বর্তমানে যেসব দেশের কাছে MIRV প্রযুক্তিসম্পন্ন ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে বলে জানা যায়:
- United States
- Russia
- China
- France
- United Kingdom
- India
এছাড়াও Pakistan ও North Korea এই ধরনের প্রযুক্তি উন্নয়নের চেষ্টা করছে বলে আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনা রয়েছে।
MIRV প্রযুক্তিসহ অগ্নি ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা ভারতের প্রতিরক্ষা ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এটি শুধু সামরিক শক্তির পরিচয় নয়, বরং ভারতের বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতারও প্রতীক। এই সাফল্য প্রমাণ করে যে ভারত ভবিষ্যতের কৌশলগত নিরাপত্তা ব্যবস্থায় আরও শক্তিশালী অবস্থান গড়ে তুলছে।
এদিনের সফল পরীক্ষার বিষয়ে প্রতিরক্ষামন্ত্রক থেকে জানানো হয়েছে, গ্রাউন্ড স্টেশন এবং সমুদ্রে থাকা জাহাজভিত্তিক একাধিক ট্র্যাকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে পুরো ক্ষেপণাস্ত্রের গতিপথ নজরে রাখা হয়। উৎক্ষেপণের মুহূর্ত থেকে শুরু করে প্রতিটি পেলোড নির্দিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছানো পর্যন্ত সবকিছুই সফলভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। পরীক্ষার তথ্য বিশ্লেষণ করে জানা গিয়েছে, এই মিশনের সব লক্ষ্য সম্পূর্ণভাবে সফল হয়েছে।
এই সফল পরীক্ষার মাধ্যমে ভারত আবারও প্রমাণ করল যে একটি মাত্র ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেই একাধিক গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার ক্ষমতা দেশের রয়েছে। দেশের বিভিন্ন শিল্প সংস্থার সহযোগিতায় DRDO-র বিজ্ঞানীরা এই উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করেছেন। পরীক্ষার সময় উপস্থিত ছিলেন DRDO-র শীর্ষ বিজ্ঞানী এবং ভারতীয় সেনাবাহিনীর আধিকারিকরা।
Rajnath Singh এই সফল পরীক্ষার জন্য DRDO, ভারতীয় সেনাবাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলিকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে বাড়তে থাকা নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের মোকাবিলায় এই সাফল্য ভারতের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করে তুলবে।

