কলকাতা, ২৩ জুন: চলতি অধিবেশইনেই আসতে চলেছে অপরাধীর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার বিল। রাজ্য বিধানসভায় আজ ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রাজ্যপালের ভাষণের প্রতি ধন্যবাদ জ্ঞাপনের উদ্দেশ্যে এদিনের অধিবেশনে সরকার ও বিরোধী পক্ষের বিধায়করা বক্তব্য রাখেন। সবশেষে জবাবি ভাষণে মুখ্যমন্ত্রী বিরোধীদের তোলা বিভিন্ন অভিযোগের কড়া জবাব দেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর আগুনধরানো বক্তব্যে কুলকিনারা না করতে পেরে নব তৃণমূলের বিধায়করা সভাকক্ষও ত্যাগ করেন।
বিরোধীদের অভিযোগে মুখ্যমন্ত্রী ২০২১ এর ভয়াবহ অত্যাচারের তুলনা করেন। তথ্যপ্রমাণ দিয়ে তিনি যখন ২১ এর পরিসংখ্যান তুলে ধরেন। তৃণমূলীদের মুখ বন্ধ হয়ে যায়।
এদিন মুখ্যমন্ত্রী জানান দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত যেই হোক না কেন, সে যে দলেই যাক, ছাড়া হবে না, সমস্ত হিসাব নিকাশ দরকার হলে তাদের সম্পত্তি নিলাম করে মেটানো হবে। যেহেতু রাজ্যের আইনে এ বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশ নেই, এই অধিবেশনে এইসংক্রান্ত বিল এনে শীঘ্র আইন তৈরি কড়া হবে, কাউকে ছাড়া হবেনা । এই বক্তব্যের পরেই বিরোধী দলনেতার নেতৃত্বে বিধায়করা সভা ত্যাগ করেন। উল্লেখ্য, কালীঘাট পন্থী তৃণমূল নেতারা সেই রাস্তায় যান নি।
এদিন মুখ্যমন্ত্রী জানান অভয়ার বিচারের জন্যে সারা বাংলার মানুষ পরিবর্তন এনেছেন, তাই বিচার আমাদের দিতেই হবে। এই সময় সভায় উপস্থিত বিধায়ক রত্না দেবনাথ কে আবেগঘন হয়ে পড়তে দেখা যায়।
শুভেন্দু বাবু এদিন বলেন এই সরকার নরেন্দ্র মোদির দেখানো রাস্তায় চলবে। সবকা বিকাশ হবে, সবকা হিসাব ও হবে। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর যেসব দুর্নীতি সামনে এসেছে তা হিমশৈলের চূড়ার মতো।
এখনথেকে কোনো সুরাবর্দির নামাঙ্কিত রাস্তা পশ্চিমবঙ্গে থাকবে না। ঋতব্রত বন্দোপাধ্যায় দাবী করেন পার্ক সার্কাসএ যে রাস্তায় নাম পরিবর্তন করে গোপাল মুখার্জীর নাম রাখা হয়েছে তা আসলে ইতিহাস কে অস্বীকার করা হয়েছে। এই প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী ১৯৩২ সালের সেই ঘটনার কথা তুলে আনেন, ১৯৩২ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সমাবর্তন অনুষ্ঠানে বিপ্লবী বীণা দাস যখন বাংলার ব্রিটিশ গভর্নর স্ট্যানলি জ্যাকসনকে লক্ষ্য করে পরপর পাঁচটি গুলি ছোড়েন, তখন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ছিলেন লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসান সোহরাওয়ার্দী। গভর্নরের পাশেই মঞ্চে উপবিষ্ট সোহরাওয়ার্দী তৎক্ষণাৎ এগিয়ে যান এবং রিভলবার থেকে গুলি চালানোরত ২১ বছর বয়সী বীণা দাসের গলা চেপে ধরে তাঁকে নিরস্ত্র করার চেষ্টা করেন। প্রবলভাবে বাধাগ্রস্ত হওয়া সত্ত্বেও বীণা দাস তাঁর রিভলবারের সবকটি গুলিই ছুড়তে সক্ষম হন, যদিও কোনো গুলিই গভর্নরের গায়ে লাগেনি। গভর্নরকে রক্ষা করার ক্ষেত্রে এই দ্রুত ও সাহসী পদক্ষেপের জন্য পরবর্তীতে সোহরাওয়ার্দীকে ‘নাইটহুড’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়। বামপন্থী ঘরানার ঋতব্রত বন্দোপাধ্যায়এর ইতিহাস বিকৃত করে উস্কানি সৃষ্টির প্রচেষ্টায় জল ঢেলে দেন মুখ্যমন্ত্রী। তার এই অপচেষ্টাকে মুখ্যমন্ত্রী ” মস্তিষ্কে মার্ক্স্ এবং হৃদয়ে লেনিন এবং মাওসেতুং” এর প্রভাব বলে আখ্যায়িত করেন।
তিনি বলেন কোনো মুঘল,পাঠান বা অত্যাচারী ব্রিটিশের নাম পশ্চিমবঙ্গে থাকবেনা। ঐতিহাসিক সমস্ত নাম পুনর্মূল্যায়ন এর জন্যে তিনি একটি কমিটি ঘোষণা করেন। যার নেতৃত্বএ থাকবেন পদ্মশ্রী স্বামী প্রদীপ্তানন্দ মহারাজ ( কার্তিক মহারাজ )।
About The Author
Discover more from Jist Feed
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
