কলকাতা, ২৪ জুন: দীর্ঘদিনের জনদাবিকে সামনে এনে রাজ্য বিধানসভার জিরো আওয়ারে বিদ্যুৎ বিল মাসিক ভিত্তিতে চালুর প্রস্তাব তুললেন হরিণঘাটার বিধায়ক অসীম সরকার। তাঁর বক্তব্যের পর নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে পশ্চিমবঙ্গে বিদ্যুৎ বিলের বর্তমান ত্রৈমাসিক বিলিং ব্যবস্থা এবং সাধারণ গ্রাহকদের ভোগান্তির বিষয়টি।
বিধানসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে অসীম সরকার বলেন “বিদ্যুৎ বিল যদি মাসিক হারে করা যায়, তাহলে মনে হয় সমস্ত জনগণ তাতে সাশ্রয় পেতে পারে”। বিদ্যুৎ বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, পশ্চিমবঙ্গে বিদ্যুৎ বিলের হিসাব ‘টেলিস্কোপিক স্ল্যাব’ পদ্ধতিতে করা হয়। অর্থাৎ বিদ্যুৎ ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রতি ইউনিটের মূল্যও ধাপে ধাপে বৃদ্ধি পায়। ফলে তিন মাসের ব্যবহারের বিল একত্রে এলে মোট ইউনিট অনেক বেড়ে যায়, এবং শেষ দিকের ইউনিট গুলি সর্বোচ্চ স্ল্যাব এ চলে যায়। এরপর মোট রাশিকে তিনভাগে ভাগ করে বিলে দেখানো হয়। সে ক্ষেত্রে গ্রাহকদের মোট খরচের পরিমাণও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায় বলে অভিযোগ রয়েছে।
সাধারণ মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য একসঙ্গে তিন মাসের বিদ্যুৎ বিল মেটানো অনেক সময়ই কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। প্রতি মাসে অল্প অল্প করে খরচের হিসাব সামলানো তুলনামূলক সহজ হলেও, তিন মাস পরে একবারে চার-পাঁচ হাজার টাকার বিল এসে গেলে পারিবারিক বাজেটে বড়সড় চাপ পড়ে।
রাজ্যের বহু গ্রাহক দীর্ঘদিন ধরেই মাসিক বিলিং ব্যবস্থার দাবি জানিয়ে আসছেন। তাঁদের মতে, মাসে মাসে বিল এলে বিদ্যুৎ খরচের উপর নজর রাখা সহজ হয় এবং পরিবারের মাসিক ব্যয় পরিকল্পনাও আরও সুশৃঙ্খলভাবে করা যায়।
গ্রীষ্মকালে বিদ্যুৎ খরচ বৃদ্ধি পেলেও তার প্রকৃত প্রভাব গ্রাহকরা অনেক সময় তিন মাস পরে বুঝতে পারেন। ফলে খরচ নিয়ন্ত্রণের সুযোগও কমে যায়। অন্যদিকে, বড় অঙ্কের বিল নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে জমা দিতে না পারলে বিলম্ব মাশুল বা লেট ফি গুনতে হয়। অনেক ক্ষেত্রে একসঙ্গে পুরো অর্থ পরিশোধ করতে না পারায় অনলাইন পেমেন্টের ক্ষেত্রে প্রাপ্য রিবেট বা ছাড় থেকেও বঞ্চিত হন গ্রাহকরা।
নদিয়া, উত্তর – দক্ষিণ ২৪ পরগনা, হুগলি, পূর্ব বর্ধমানসহ রাজ্যের বিভিন্ন জেলার WBSEDCL গ্রাহকদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই মাসিক বিলিংয়ের দাবি রয়েছে। তাঁদের বক্তব্য, বর্তমান ডিজিটাল যুগে স্মার্ট মিটার ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়ায় মাসিক বিল প্রস্তুত করা কোনও কঠিন কাজ নয়। বরং এতে গ্রাহক ও বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থা উভয়েরই সুবিধা হবে।
এই প্রস্তাব অতীতে বারবার উত্থাপন হলেও আগের সরকার কোনোরকম কর্ণপাত করেনি। বিধায়ক অসীম সরকারের প্রস্তাবের পর সাধারণ মানুষের একাংশের আশা, সরকার বিষয়টি ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করবে এবং ভবিষ্যতে মাসিক বিদ্যুৎ বিল চালুর বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। কারণ বিদ্যুৎ এখন প্রতিটি পরিবারের নিত্যপ্রয়োজনীয় পরিষেবা। বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে গ্যাসের যোগান সীমিত হওয়ার কারণে অনেকেই বিদ্যুৎ চালিত ইনডাকশন কুক টপ কে বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করছেন। সেই পরিষেবার খরচও যেন মানুষের আয় ও সামর্থ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পরিশোধ করা যায়, সেটাই এখন রাজ্যের লক্ষ লক্ষ গ্রাহকের প্রধান দাবি।
About The Author
Discover more from Jist Feed
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
