মূল্যবৃদ্ধির চাপে বড় পতন ভারতীয় শেয়ার বাজারে
এই সপ্তাহে ভারতীয় শেয়ার বাজারে ব্যাপক চাপ দেখা গেল। উচ্চ মূল্যবৃদ্ধি, আন্তর্জাতিক অস্থিরতা এবং ক্রুড অয়েলের বাড়তি দামের কারণে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ে, যার প্রভাব পড়ে বাজারে।
সপ্তাহভিত্তিক হিসাবে নিফটি প্রায় ২.২% এবং সেনসেক্স প্রায় ২.৭% পতন হয়েছে। ছোট ও মাঝারি মূলধনের শেয়ারগুলিতে আরও বেশি চাপ দেখা যায়। স্মল-ক্যাপ সূচক প্রায় ৪% পর্যন্ত নেমে যায়।
মূল্যবৃদ্ধিই বাজার পতনের প্রধান কারণ
এপ্রিল মাসে ভারতের হোলসেল ইনফ্লেশন বা পাইকারি মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৮.৩%, যা গত ৪২ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। বিশেষ করে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে প্রায় ২৫% মূল্যবৃদ্ধি এই বৃদ্ধির মূল কারণ।
এই সপ্তাহে তেল বিপণন সংস্থাগুলি পেট্রোল ও ডিজেলের দাম লিটার প্রতি প্রায় ₹৩ বাড়িয়েছে। পাশাপাশি দিল্লি NCR ও মুম্বইয়ে CNG-র দামও কেজি প্রতি ₹২ বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন খরচ আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বন্ড ইল্ড বৃদ্ধি ও সুদের হার বাড়ার আশঙ্কা
ভারতের ১০ বছরের সরকারি বন্ডের ইয়িল্ড এই সপ্তাহে ৭% ছাড়িয়ে যায়। এর ফলে অর্থনীতিতে ঋণের খরচ বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
শুধু ভারত নয়, আমেরিকা, জাপান ও ব্রিটেনেও বন্ড ইয়িল্ড বৃদ্ধি পেয়েছে। মার্কিন ১০ বছরের ট্রেজারি ইয়িল্ড প্রায় ৪.৬%-এ পৌঁছেছে। ফলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক আরও সুদের হার বাড়াতে পারে বলে বাজারে উদ্বেগ বাড়ছে।
ক্রুড অয়েল ও যুদ্ধ পরিস্থিতি
স্ট্রেইট অফ হরমুজ অঞ্চলে উত্তেজনার কারণে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। যদিও শুক্রবার কিছুটা ধাতুর দাম কমেছে, তবুও অধিকাংশ কমোডিটি এখনও রেকর্ড উচ্চতার কাছাকাছি রয়েছে।
ভারতের মতো আমদানিনির্ভর দেশের জন্য উচ্চ ক্রুড অয়েলের দাম বড় উদ্বেগের বিষয়, কারণ এতে আমদানি ব্যয় ও মূল্যস্ফীতি দুটোই বাড়ে।
রুপির নতুন রেকর্ড পতন
এই সপ্তাহে ভারতীয় রুপি আরও দুর্বল হয়ে ডলারের বিপরীতে ৯৬-এর নিচে নেমে যায়। রুপির দুর্বলতার ফলে আমদানিকৃত পণ্যের দাম আরও বাড়তে পারে।
বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভ রক্ষা করতে কেন্দ্র সরকার সোনার, রুপোর ও প্লাটিনামের উপর আমদানি শুল্ক বাড়িয়েছে এবং ব্যয় সংযমের কথাও জানিয়েছে।
কর্পোরেট দুনিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ খবর
- Bharat Forge এমব্রেয়ার-এর কাছ থেকে দীর্ঘমেয়াদি এয়ারোস্পেস সাপ্লাই চুক্তি পেয়েছে।
- Lupin এবং Caplin Point Laboratories মার্কিন FDA অনুমোদন পেয়েছে।
- Larsen & Toubro মধ্যপ্রাচ্যে বড় বিদ্যুৎ প্রকল্পের অর্ডার পেয়েছে।
- Texmaco Rail & Engineering আফ্রিকা থেকে ₹৪,০৪৫ কোটির বড় রেল অর্ডার পেয়েছে।
- HFCL আন্তর্জাতিক বাজারে নতুন অর্ডার পেতে থাকে।
আগামী সপ্তাহে কোন বিষয়গুলিতে নজর থাকবে
আগামী সপ্তাহে বিনিয়োগকারীরা বিশেষ নজর রাখবেন—
- চলতি ত্রৈমাসিকের কোম্পানিগুলির ফলাফল
- রুপির গতিবিধি
- ১০ বছরের সরকারি বন্ড ইয়িল্ড
- ক্রুড অয়েলের দাম
- আন্তর্জাতিক বাজারের সুদের হার পরিস্থিতি
তবে বাজারে অস্থিরতা থাকলেও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের আস্থা এখনও শক্তিশালী। এপ্রিল মাসে SIP বিনিয়োগ ₹৩১,১১৫ কোটি টাকায় পৌঁছেছে, যা দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের প্রতি আস্থার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
About The Author
Discover more from Jist Feed
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
