কলকাতা, শুক্রবার: আরজিকর কাণ্ডে প্রশাসনিক গাফিলতি, পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যর্থতা এবং ভুক্তভোগী পরিবারের প্রতি অনৈতিক আচরণের অভিযোগে তিন শীর্ষ আইপিএস অফিসারকে সাসপেন্ড করার সিদ্ধান্ত নিল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। সদ্য নির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশে এই কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে খবর।
সাসপেন্ড হওয়া অফিসারদের মধ্যে রয়েছেন বিনীত গয়াল, শ্রীমতি ইন্দিরা মুখার্জী এবং অভিষেক গুপ্তা। অভিযোগ, ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর পরিস্থিতি যথাযথভাবে মোকাবিলা করতে ব্যর্থ হন তাঁরা। পাশাপাশি, ভুক্তভোগী পরিবারের সঙ্গে আপসের চেষ্টা এবং ঘুষের প্রস্তাব দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগও উঠেছে তাঁদের বিরুদ্ধে।
এছাড়াও, যথাযথ প্রশাসনিক অনুমতি ছাড়াই একটি সাংবাদিক বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছিল বলে অভিযোগ। সেই প্রেস কনফারেন্সে এমন কিছু মন্তব্য করা হয়, যা তদন্ত প্রক্রিয়া ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
রাজ্য সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, এই সাসপেনশন শুধুমাত্র প্রাথমিক প্রশাসনিক পদক্ষেপ। বিষয়টি নিয়ে আলাদা করে একটি অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু হয়েছে। যদিও মূল অপরাধের তদন্ত বর্তমানে সিবিআইয়ের হাতে রয়েছে, এই তদন্ত সম্পূর্ণ ভিন্ন এবং প্রশাসনিক দায়িত্ব ও আচরণ খতিয়ে দেখতেই এই পদক্ষেপ বলে জানা গিয়েছে।
নবান্ন সূত্রে দাবি, “কোনও রকম গাফিলতি বা ক্ষমতার অপব্যবহার বরদাস্ত করা হবে না। প্রশাসনের স্বচ্ছতা বজায় রাখতেই এই সিদ্ধান্ত।”
রাজনৈতিক মহলে ইতিমধ্যেই ব্যাপক চর্চা শুরু হয়েছে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে। বিরোধীরা একে “বড় প্রশাসনিক বার্তা” বলে ব্যাখ্যা করেছে। অন্যদিকে, শাসকদলের একাংশের দাবি, নতুন মুখ্যমন্ত্রী প্রশাসনের ভিত শক্ত করতে এবং জনমানসে আস্থা ফিরিয়ে আনতেই এই কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছেন।
আরজিকর কাণ্ডের তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই সামনে আসছে নতুন নতুন তথ্য। ফলে আগামী দিনে আরও বড় প্রশাসনিক বা আইনি পদক্ষেপ হতে পারে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহল।
About The Author
Discover more from Jist Feed
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
