mahenjodaro

ভারতবর্ষের ইতিহাসের প্রথম অধ্যায় সিন্ধু সভ্যতা। যার প্রধান দুটি কেন্দ্র হল হরপ্পা ও মহেঞ্জোদড়ো। সিন্ধু নদের তীরে প্রথম এই সভ্যতা গড়ে উঠেছিল বলে এর নাম হয় সিন্ধু সভ্যতা। এই সভ্যতা খ্রিস্টপূর্ব তিন হাজার বছরে প্রাচীন বলে ঐতিহাসিকরা সিদ্ধান্ত করেছেন।
এখন প্রশ্ন ‘মহেঞ্জোদড়ো’ কথার অর্থ কী? ছেলে বেলায় ইতিহাস বইতে পড়েছিলাম ‘মৃতের স্তূপ’ এই অর্থ সম্বন্ধে তখনই একটি সন্দেহ দানা বাঁধে। কারণ কোনো নগরের নাম কি ‘মৃতের স্তূপ’ স্তূপ হতে পারে ?

পরবর্তীকালে ঋগ্বেদের একটি শব্দ ‘মহেঞ্জোদড়ো’ কথার অর্থ সে বিষয়ে সদার্থক দিশা দেখায়। ঋগ্বেদের ৭/২৪/৪ ঋকে বলা হয়েছে – ‘ত্বম হি মঘবন দৃঢ়হা’ অর্থাৎ তুমিই দুর্গ নিপাতনকারী মঘবন (ইন্দ্র)। তাহলে ঋগ্বেদের ‘দৃঢ়’ শব্দের অর্থ পাই দুর্গ।

এই দৃঢ় শব্দের থেকেই দঢ় এবং তা থেকে দড়ো শব্দ জাত, যার অর্থ দুর্গ। আর ‘হন’ ধাতু থেকে ‘হা’ শব্দ জাত। অতএব দৃঢ়হা = দুর্গ নিপাতনকারী। এবার মহেঞ্জোদড়ো শব্দটিকে সন্ধি বিচ্ছেদ করা যাক – মহা + ইঞ্জ দড়ো। সংস্কৃতে ইঞ্জ ধাতুর অর্থ নির্দেশ বা সংকেত বা ঈশারা। তাহলে অর্থ দাঁড়ায় যে দুর্গ থেকে সৈন্যদের যুদ্ধের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়। আর মহা কথার অর্থ বড়ো, বিশাল, প্রধান, হেড। এক কথায় অর্থ হল – মিলিটারি হেডকোয়ার্টার।

প্রসঙ্গত: অনুরূপ দু – একটি শব্দের অর্থ বিশ্লেষণ করলে বিষয়টি সম্বন্ধে বোঝা যাবে। যেমন চনহুদড়ো। চন কথার অর্থ কর্মোদ্দীপন। হু কথার অর্থ আহ্বান করা। দড়ো কথার অর্থ দুর্গ। তাহলে অর্থ দাঁড়ায় কর্মোদ্দীপনের জন্যে আহ্বান করা হয় যে দুর্গে। দুর্গ কথাটি থাকায় কর্মোদ্দীপন হলো যুদ্ধের কর্মের উদ্দীপন। অর্থাৎ যে দুর্গে সৈন্যদের যুদ্ধের ট্রেনিং দেওয়া হতো।

আরও একটি শব্দ দেখা যাক। ‘লহুমঞ্জদড়ো’ – লহু কথার অর্থ ছেদন ( বিভাগ ) জনিত রস। ‘ইঞ্জ’ কথার অর্থ নির্দেশ দেওয়া। দড়ো কথার অর্থ দুর্গ। অর্থাৎ যে দুর্গ থেকে যুদ্ধের রসদ পাঠাবার নির্দেশ দেওয়া হত কিংবা পাঠানো হত।

আরও একটি সমগোত্রীয় শব্দের অর্থ দেখা যাক – সুতকাজেনদড়ো। সুতকা কথার অর্থ নৌকা জাহাজ ইত্যাদি। স্রোতকা ( সত্কা ) সুতকা। ‘ইঞ্জ’ কথার অর্থ নির্দেশ , সংকেত । দড়ো অর্থ দুর্গ। আর অর্থ দাঁড়ালো যে দুর্গ থেকে নৌকা, জাহাজ প্রভৃতিকে সংকেত দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করা হতো। সুতকাজেনদড়োর অবস্থান আরব সাগর তীরবর্তী মাকরান উপকূলে।

উপরে উল্লেখিত ‘দড়ো’ পুঞ্জীভূত শব্দগুলি সিন্ধু সভ্যতার অন্তর্গত কোনো না কোনো স্থানের নাম।

About The Author


Discover more from Jist Feed

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

Leave a Reply