ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর নবম দিনের লড়াইয়ে ফুটবলপ্রেমীরা দেখলেন কৌশলগত শ্রেষ্ঠত্ব, নাটকীয়তা এবং গুরুত্বপূর্ণ গ্রুপ পর্বের সমীকরণ। যুক্তরাষ্ট্র অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছে, ব্রাজিল দুর্দান্ত ফুটবলে হাইতিকে উড়িয়ে দিয়েছে, মরক্কো স্কটল্যান্ডকে হারিয়ে গ্রুপ সি-তে শীর্ষস্থানের লড়াইয়ে টিকে রয়েছে এবং প্যারাগুয়ে তুরস্ককে বিদায়ের পথে ঠেলে দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ২-০ অস্ট্রেলিয়া
ক্রিশ্চিয়ান পুলিসিচকে ছাড়াই মাঠে নেমে যুক্তরাষ্ট্র দারুণ আধিপত্য দেখায়। ম্যাচের ১১ মিনিটে অস্ট্রেলিয়ার ডিফেন্ডার ক্যামেরন বার্গেসের একটি আত্মঘাতী গোলে আমেরিকা এগিয়ে যায়। বলের দখল ৬৩% নিজেদের কাছে রেখে প্রথমার্ধের ঠিক শেষ মুহূর্তে (৪৩ মিনিটে) উদীয়মান ডিফেন্ডার অ্যালেক্স ফ্রিম্যানের দারুণ হেডারে ব্যবধান দ্বিগুণ করে আমেরিকা। এই জয়ের ফলে গ্রুপ পর্বের একটি ম্যাচ বাকি থাকতেই ইউএসএমএনটি (USMNT) নিরাপদে রাউন্ড অব ৩২-এর টিকিট কেটে ফেলেছে।
ম্যাচ পরিসংখ্যান
পরিসংখ্যান
যুক্তরাষ্ট্র
অস্ট্রেলিয়া
বল দখল (Possession)
৭১%
২৯%
মোট শট
১৪
৪
লক্ষ্যে শট
৬
১
প্রত্যাশিত গোল (xG)
১.৮৪
০.৩১
ফাউল
১১
১৪
গোলদাতারা
মিনিট
ঘটনা
১১’
ক্যামেরন বার্গেস (আত্মঘাতী গোল)
৪৩’
অ্যালেক্স ফ্রিম্যান (যুক্তরাষ্ট্র)
ব্রাজিল ৩-০ হাইতি
প্রথম ম্যাচে ড্রয়ের হতাশা কাটিয়ে দুরন্ত প্রত্যাবর্তন করেছে ব্রাজিল। মাতেউস কুনিয়া দুই গোল করে আক্রমণের নেতৃত্ব দেন, আর ভিনিসিয়ুস জুনিয়র একটি গোল ও একটি অ্যাসিস্ট করে ম্যাচের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় হন। তবে রাফিনিয়ার চোট ব্রাজিল শিবিরে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। প্রথমার্ধেই ভিনিসিয়াস জুনিয়র এবং ম্যাথিউস কুনহার জুটি হাইতির রক্ষণভাগকে ভেঙে চুরমার করে দেয়। ২৩ মিনিটে ভিনিসিয়াসের পাস থেকে কুনহা প্রথম গোল করেন এবং ১৩ মিনিট পর (৩৬ মিনিটে) বক্সের কোণ থেকে জোরালো শটে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন। প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ে ভিনিসিয়াস জুনিয়র নিজে আরও একটি গোল যোগ করেন। সেলেসাওরা সহজেই জয় পেলেও, প্রথমার্ধে মিডফিল্ডার রাফিনহার চোট দলের জন্য কিছুটা উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই হারের ফলে হাইতির পরের রাউন্ডে যাওয়ার আশা শেষ হয়ে গেল।
ম্যাচ পরিসংখ্যান
পরিসংখ্যান
ব্রাজিল
হাইতি
বল দখল (Possession)
৫৮.৬%
৪১.৪%
মোট শট
৭
৪
লক্ষ্যে শট
৫
১
সেভ
১
২
গোলদাতারা
মিনিট
গোল
২৩’
মাতেউস কুনিয়া
৩৬’
মাতেউস কুনিয়া
৪৫+৩’
ভিনিসিয়ুস জুনিয়র
স্কটল্যান্ড ০-১ মরক্কো
মরক্কো পুরো ম্যাচে বলের দখল ধরে রেখে ৬০১টি সফল পাস সম্পন্ন করে, যা বিশ্বকাপে কোনো আফ্রিকান দলের নতুন রেকর্ড। স্কটল্যান্ড আক্রমণে কার্যত নিষ্প্রভ ছিল। বোস্টন স্টেডিয়ামে খেলা শুরুর মাত্র ৭১ সেকেন্ডের মাথায় ইসমায়েল সাইবারির এক বিদ্যুৎগতির গোলে স্কটল্যান্ডকে স্তব্ধ করে দেয় মরক্কো। ‘অ্যাটলাস লায়ন্স’রা (মরক্কো) পজিশন ফুটবলের একটি দুর্দান্ত প্রদর্শনী দেখায় এবং আফ্রিকান বিশ্বকাপ রেকর্ড গড়ে ৬০১টি পাস সম্পূর্ণ করে। মরক্কোর জমাট রক্ষণভাগ ভাঙতে স্কটল্যান্ডকে বেশ বেগ পেতে হয় এবং প্রথমার্ধের ইনজুরি টাইমের আগে তারা গোলের উদ্দেশ্যে কোনো শটই নিতে পারেনি। এই কষ্টার্জিত জয় মরক্কোকে পরবর্তী রাউন্ডে যাওয়ার সুবিধাজনক অবস্থানে এনে দিয়েছে।
ম্যাচ পরিসংখ্যান
পরিসংখ্যান
স্কটল্যান্ড
মরক্কো
বল দখল (Possession)
৩৭%
৬৩%
প্রত্যাশিত গোল (xG)
০.৫১
০.৯৯
মোট শট
৬
১১
লক্ষ্যে শট
১
৪
সফল পাস
২৯৪
৬০১
গোলদাতা
মিনিট
গোল
২’
ইসমাইল সাইবারি
তুরস্ক ০-১ প্যারাগুয়ে
মাত্র ৬৪ সেকেন্ডে মাতিয়াস গালার্জার গোল প্যারাগুয়েকে এগিয়ে দেয়। পরে মিগুয়েল আলমিরনের লাল কার্ডে ১০ জনে নেমে গেলেও প্যারাগুয়ের রক্ষণভাগ এবং গোলরক্ষক অরল্যান্ডো গিল অসাধারণ দৃঢ়তা দেখান। ৩২টি শট নিয়েও গোল পায়নি তুরস্ক, ফলে তাদের বিশ্বকাপ অভিযান শেষ হয়ে যায়। ম্যাচের মাত্র ৬৪ সেকেন্ডের মাথায় গোল করে ইউরোপীয় দল তুরস্ককে চমকে দেন মাতিয়াস গ্যালার্জা। তবে প্রথমার্ধের ইনজুরি টাইমে মিগুয়েল আলমিরন সরাসরি লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লে প্যারাগুয়ের পরিকল্পনায় ধাক্কা লাগে। পুরো দ্বিতীয়ার্ধ ১০ জন নিয়ে খেললেও, প্যারাগুয়ের গোলরক্ষক অরল্যান্ডো গিলের বীরত্বপূর্ণ পারফরম্যান্স তুরস্কের একের পর এক আক্রমণ প্রতিহত করে। এই রক্ষণাত্মক প্রাচীর ভাঙতে না পেরে তুরস্কের বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেওয়ার হৃদয়বিদারক পরিণতি ঘটে।